CBI: আরজি করকাণ্ডে সঞ্জয়ের পলিগ্রাফ টেস্ট করবে সিবিআই, এরপর কি সন্দীপ?

CBI

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর (RG Kar Incident) হাসপাতালে চিকিৎসককে ধর্ষণকাণ্ডে ধৃতের পলিগ্রাফ টেস্টের অনুমতি পেল সিবিআই (CBI)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, ধৃত সঞ্জয় রায়ের পলিগ্রাফ টেস্ট করানোর অনুমতি এসে গিয়েছে। সোমবার সিবিআই-কে সেই অনুমতি দিল শিয়ালদা কোর্ট। কবে সেই টেস্ট হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, এদিন আদালতে তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে তথ্য তুলে ধরেছে সিবিআই। এটি মূলত একটি মানসিক পরীক্ষা। হার্ট রেট, রক্তচাপ পরীক্ষার মাধ্যমে অভিযুক্ত সত্যি বলছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। যে টেস্টের মাধ্যমে বোঝা যায় যে, কেউ মিথ্যা বলছে কিনা। আরজি কর হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানার জন্য তাঁরও পলিগ্রাফ টেস্ট করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। তবে, গোটাটাই হবে দিল্লি থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর।

পলিগ্রাফ টেস্ট নিয়ে বিশেষজ্ঞরা কী বললেন? (CBI) 

বিশেষজ্ঞদের মতে, পলিগ্রাফ টেস্টের সময় যখন কোনও প্রশ্ন করা হয়, তখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হার্টের পালস, রক্তচাপ, নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের মতো বিভিন্ন শারীরিক মানদণ্ড পরিমাপ করা হয়। যখন কেউ মিথ্যে কথা বলে, তখন সাধারণত সেইসব মাপদণ্ডের হেরফের হয়ে থাকে। সেটার মাধ্যমেই নির্ধারণ করা হয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মিথ্যে বলছে কিনা। যদিও সব সময় পলিগ্রাফ টেস্ট পুরোপুরি নির্ভুল হয় না বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এই বিষয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী আধিকারিক (CBI) বলেন, “কোনও ব্যক্তি যখন মিথ্যা কথা বলে, তখন তার মস্তিষ্ক থেকে পি ৩০০ নামে একটি বিশেষ সংকেত বের হয়। সেটা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ওই স্নায়বিক সংকেতের জন্যই তার হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বেড়ে যায়। আর গোটা বিষয়টি আমাদের কাছে আরও স্পষ্ট হয়। সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয় ן”‎

আরও পড়ুন: ২২ অগাস্ট স্বাস্থ্য ভবন ঘেরাও, আরজি কর কাণ্ডে লাগাতার ধর্না বিজেপির

এই পলিগ্রাফ টেস্টের ঠিক কী নিয়ম?

অভিযুক্তকে এই পরীক্ষায় মত দিতে হয়। অভিযুক্ত মত দিলে তদন্তকারী সংস্থা (CBI) আদালতকে জানাবে। আদালত অনুমতি দিলে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে হবে পলিগ্রাফি টেস্ট। অভিযুক্তর সামনে টেস্ট করার আগে সমস্ত আইনি দিক ব্যাখ্যা করা হবে। পলিগ্রাফ টেস্টেরই একটি প্রকারভেদ হল লাই ডিটেকশন (মিথ্যা কথা ধরার উপায়) বা ব্রেন ম্যাপিং টেস্ট। মূলত পলিগ্রাফ টেস্টের সময়, অভিযুক্তর রক্তচাপের পরিবর্তন, পালস রেটের পরিবর্তন, ত্বকের উপরিভাগে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে কি না, এইসব সূক্ষ্ম বিষয়ের ওপর নির্ভর করে বুঝতে হয় যে অভিযুক্ত সঠিক বলছে কি না।

সন্দীপকে ম্যারাথন জেরা সিবিআইয়ের

ইতিমধ্যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI)। সূত্রের খবর, সন্দীপের থেকে জানতে চাওয়া হয় যে কেন তরুণী চিকিৎসকের বাবা-মা’কে হাসপাতালে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়ে রাখা হয়েছিল? আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষকে আরও একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। সূত্রের খবর, তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর খবর শোনার পরে তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া কী ছিল, কার সঙ্গে প্রথম যোগাযোগ করেছিলেন, সেমিনার হলের (যেখান থেকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল) কাছে আচমকা কেন সংস্কারের কাজ শুরু হল, সেই প্রশ্নও করেছে সিবিআই।

 

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share