Centre: ১৬ বছরের নীচের বয়সিরা ব্যবহার করতে পারবে না সোশ্যাল মিডিয়া? বিধিনিষেধ জারির ভাবনা কেন্দ্রের

Centre weighs social media curbs under16s

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় (Centre) সরকার ১৬ বছরের নীচের বয়সিদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের কথা বিবেচনা করছে। এই লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি বিধিমালা, ২০২১ সংশোধনের পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে বলে আইটি মন্ত্রকের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন।

কী বললেন আধিকারিক? (Centre)

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই আধিকারিক বলেন, “কিছু ধরনের অ্যাকাউন্ট সবার জন্য উন্মুক্ত থাকতে পারে, কিন্তু কিছু অ্যাকাউন্ট থাকা উচিত নয়। শিশুদের এসব (নির্দিষ্ট কনটেন্টে) প্রবেশাধিকার থাকা উচিত কি না, তা আমাদের বিচক্ষণতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।” তাঁর মতে, সরকার অস্ট্রেলিয়ার মডেলটি খতিয়ে দেখছে, যদিও অস্ট্রেলিয়ার মতো ১৬ বছরের নীচে বয়সিদের সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা আপাতত ভাবা হচ্ছে না। সাংবাদিক সম্মেলনে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সরকার আলোচনা করছে। তিনি বলেন, “অনেক দেশ ইতেমধ্যেই স্বীকার করেছে যে বয়সভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন। এটি আমাদের ডিপিডিপি (ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন) আইনেরও অংশ ছিল। বর্তমানে ডিপফেক এবং বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ নিয়ে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে।”

ডিপিডিপি আইন

বর্তমানে ভারতে (Centre) এমন কোনও আইন নেই যা নির্দিষ্ট বয়সের নীচে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবে ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন (ডিপিডিপি) আইনের অধীনে, ১৮ বছরের নীচে কারও ব্যক্তিগত তথ্য প্রক্রিয়াকরণের আগে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে যাচাইযোগ্য অভিভাবদের সম্মতি নিতে হয়। এর ফলে পরোক্ষভাবে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহার সীমিত হয়, কারণ প্ল্যাটফর্মগুলি শিশুদের তথ্য আইনসম্মতভাবে ব্যবহারের জন্য নির্ভর করে অভিভাবকের অনুমতির ওপর (Social Media)। অর্থাৎ, অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া প্ল্যাটফর্মগুলি শিশুদের তথ্য অবাধে সংগ্রহ করতে বা তাদের লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারে না।

আন্তর্জাতিক নজির

বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নজির রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের নীচে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ফ্রান্স ১৫ বছরের নীচে অনুরূপ আইন পাস করেছে এবং স্পেন ও ব্রিটেনও এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। ভারতের কয়েকটি রাজ্য যেমন গোয়া, অন্ধ্রপ্রদেশ ও কর্নাটক অস্ট্রেলিয়া-ধাঁচের বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা জারির কথা বিবেচনা করছে, যদিও তা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা স্পষ্ট নয় (Social Media)। মাদ্রাজ হাইকোর্টও কেন্দ্রকে অস্ট্রেলিয়ার মতো আইন বিবেচনা করার সুপারিশ করেছে (Centre)। জানুয়ারিতে প্রকাশিত অর্থনৈতিক সমীক্ষায়ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধের সুপারিশ করা হয়েছে। সমীক্ষায় সতর্ক করা হয়েছে, তরুণদের মধ্যে বাধ্যতামূলক বা অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের প্রবণতা দেশের ওপর পরিমাপযোগ্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যয় চাপিয়ে দিচ্ছে। সমীক্ষায় সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলিকে বয়স যাচাই প্রক্রিয়া চালু করা এবং বয়স-উপযোগী ডিফল্ট সেটিংস প্রয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে—বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া, জুয়া সংক্রান্ত অ্যাপ, অটো-প্লে ফিচার এবং লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে।

ডিপফেক

সাংবাদিক সম্মেলনে আইটিমন্ত্রী ডিপফেক সংক্রান্ত আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “বহুজাতিক সংস্থাগুলি যে দেশে কাজ করছে, সেই দেশের সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট বুঝতে হবে। কারণ একটি দেশে যা নিষিদ্ধ, অন্য দেশে তা নাও হতে পারে (Social Media)।” তিনি বলেন, “এটি দিন দিন বাড়তে থাকা একটি সমস্যা। আমাদের শিশু ও সমাজকে এসব ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা প্রয়োজন রয়েছে। ইতিমধ্যেই আমরা শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি—আগে নেওয়া পদক্ষেপের বাইরে আরও কী ধরনের নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন হতে পারে, তা নিয়ে।” আইটি বিধিমালার সাম্প্রতিক সংশোধনে সরকার তিন ঘণ্টার মধ্যে ডিপফেক কনটেন্ট অপসারণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্মিত কনটেন্টে বাধ্যতামূলক লেবেল সংযোজন এবং ইন্টারমিডিয়ারি সংস্থাগুলির কঠোর অনুবর্তিতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে (Social Media)। বৈষ্ণব আরও জানান, যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক স্থায়ী সংসদীয় কমিটি বিষয়টি (Centre) পর্যালোচনা করে ডিপফেক নিয়ন্ত্রণের সুপারিশ করেছে।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share