মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কথায় বলে, মারের নাম মধুসূদন! এই মধুসূদনের কৃপায় কত মানুষ নির্বিঘ্নে পার হয়েছেন বা হচ্ছেন জীবন নদী। যাঁরা সাফল্যের চূড়ায় বসে রয়েছেন, তাঁরাও রেহাই পাননি শিক্ষকের বেত্রাঘাত থেকে। এই যেমন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় (DY Chandrachud)।
মার খেয়েছিলেন দেশের প্রধান বিচারপতি
স্কুলজীবনে তিনিও বেধড়ক মার খেয়েছিলেন। যে মারের কথা প্রৌঢ়ত্বের চৌকাঠ পেরিয়েও ভোলেননি দেশের প্রধান বিচারপতি। ছাত্রদের শৃঙ্খলার পাঠ দিতে গিয়ে শিক্ষকের বেত্রাঘাত বর্তমানে ‘নৃশংস’ অভিধায় ভূষিত হয়েছে। শনিবার এক সেমিনারে ভাষণ দিতে গিয়ে ছোট্ট একটা ভুলের জন্য তিনি যে শিক্ষকের হাতে মার খেয়েছিলেন, তা জানালেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। চন্দ্রচূড় (DY Chandrachud) বলেন, “আপনি শিশুদের কীভাবে ট্রিট করবেন, তা তাদের মনে থেকে যাবে সারাজীবন। আমি আমার স্কুল জীবনের একটি দিনের কথা কখনও ভুলব না। যখন আমায় বেত্রাঘাত করা হয়েছিল, তখন আমি শিশু অপরাধী ছিলাম না। আমি ক্র্যাফ্ট শিখছিলাম। আমায় যে অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়েছিল, সেই আকারটা আমি ঠিকঠাক আনতে পারিনি। আমি তখন ক্লাস ফাইভে পড়ি।”
আরও পড়ুুন: রাহুল গান্ধী ব্রিটিশ নাগরিক! প্রশ্ন তুলে মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে অভিযোগ দায়ের
কী বললেন প্রধান বিচারপতি?
তিনি বলেন, “সেই সময় যেভাবে শিশুদের ট্রিট করা হত, তার প্রভাব থেকে যেত সারা জীবন। আমি এখনও মনে করতে পারি, আমি ওই শিক্ষককে অনুরোধ করেছিলাম, আমার হাতে মলম লাগানোর দরকার নেই, বেতটায় মলম দিন। মার খাওয়ার সেই লজ্জার কথা আমি বাড়িতে বলতে পারিনি। দশ দিন ধরে ডান হাতের চেটোর ক্ষত লুকিয়ে রেখেছিলাম, যাতে কেউ দেখতে না পায়।” তিনি বলেন, “শারীরিক ক্ষত সেরে যায়। কিন্তু মন এবং আত্মায় তার একটি চিরকালীন ক্ষত রয়ে যায়। আমিও মনে সেই ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছি। যখনই কোনও কাজ করি, তখনই মনে পড়ে। এই ধরনের অত্যাচার শিশু মনে গভীর ছাপ ফেলে।” তিনি (DY Chandrachud) বলেন, “কিশোর মনের গতিপ্রকৃতিটা বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের বিভিন্ন গতিপ্রকৃতি এবং আন্তর্সম্পর্কটাও তাকে বুঝিয়ে দেওয়া জরুরি।”
দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Whatsapp, Facebook, Twitter, Telegram এবং Google News পেজ।
Leave a Reply