ED: কোটিপতি প্রাক্তন পোস্টমাস্টার! তদন্তে পাঁশকুড়ার বাড়িতে ইডির তল্লাশি

ED

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগে প্রাক্তন পোস্টমাস্টারের বাড়িতে তল্লাশি চালাল ইডি (ED)। গ্রাহকদের কাছ থেকে পাঁচ কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠল প্রাক্তন পোস্টমাস্টারের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই প্রাক্তন পোস্টমাস্টারের নাম লক্ষ্মণচন্দ্র হেমব্রম। রাত পর্যন্ত তল্লাশি চালায় ইডির তদন্তকারী দল। বিষয়টি জানাজানি হতেই পাঁশকুড়াজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ওই পোস্টমাস্টারের আদি বাড়ি পাঁশকুড়ার নস্কর দিঘিতে। তবে বর্তমানে তিনি পাঁশকুড়া পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিশাল জায়গা কিনে প্রাসাদোপম বাড়ি তৈরি করেছেন।

গৃহশিক্ষক থেকে পোস্টমাস্টার হয়ে কোটিপতি!

জানা গিয়েছে, লক্ষ্মণের বাবা, মা দিনমজুর ছিলেন। প্রথম জীবনে লক্ষ্মণ টিউশনি করতেন। পরে, ডাক বিভাগে চাকরি পান। ২০১৮ সালে লক্ষ্মণচন্দ্র হেমব্রম পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়নার রামচন্দ্রপুরে পোস্টমাস্টার পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি ওই সময় বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। কারণ, সেই সময় বিভিন্ন ক্লাব, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তিনি টাকা ঢালতেন। ওই সময়েই গ্রাহকরা পোস্টমাস্টারের বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি টাকার অর্থ তছরুপের অভিযোগ আনেন। অভিযোগ আসার পরেই ওই ব্যক্তিকে কোলাঘাটের নতুন বাজারের পোস্টমাস্টার হিসাবে নিযুক্ত করে বিভাগীয় দফতর। এরপর অর্থ তছরুপের অভিযোগের ভিত্তিতেই ২০১৯ সালে বিভাগীয় দফতর চাকরি থেকে অপসারিত করে তাঁকে। ২০২০ সালে অভিযোগের ভিত্তিতেই পাঁশকুড়া থানার পুলিশ প্রাক্তন পোস্টমাস্টারকে আটক করে। তবে, পরবর্তী সময়ে তিনি জামিনে মুক্ত হন। তবে, ওই পাঁচ কোটি টাকার তছরুপের অভিযোগে কেন্দ্রীয় সরকারের তদন্তকারী দল ইডি (ED) তদন্তের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে  থাকে। অসমর্থিত সূত্রের খবর, সম্প্রতি সিজিও কমপ্লেসে ডেকে পাঠানো হয় লক্ষ্মণকে। কিন্তু, তিনি যাননি। তাই মঙ্গলবার তদন্তকারী দল তার বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি শুরু করে। প্রথমে বাড়িতে প্রবেশ করে প্রত্যেকের মোবাইল নিজেদের হেফাজতে নেয়। তারপরেই পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সমস্ত খুঁটিনাটি দেখা হয়। রাত ন’টা পর্যন্ত চলে তল্লাশি।

নিজের সম্পত্তি প্রসঙ্গে কী বললেন প্রাক্তন পোস্টমাস্টার?

লক্ষ্মণ বলেন, ইডি (ED) আধিকারিকরা বাড়িতে এসে সমস্ত কাগজপত্র খতিয়ে দেখেন। বলেছেন, কাগজপত্র সব ঠিক আছে। আমাকে ৮ তারিখ সিজিও কমপ্লেক্সে যেতে বলা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে যে আর্থিক অভিযোগ রয়েছে তা ঠিক নয়।

ইডি হানা নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের কী বক্তব্য?

পাঁশকুড়া থানার আইসি আশিস মজুমদার বলেন, কাউকে না জানিয়ে ইডি (ED) আসে। থানার কাছে কোনও তথ্য ছিল না। জানা গিয়েছে, ফের আগামী ৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকে পাঠানো হয়েছে লক্ষ্মণকে।

 

দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share