মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পঞ্চায়েত নির্বাচনে (Panchayat Election) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় দুই বিজেপি প্রার্থীর বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এমনকী তাঁদের অবিলম্বে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার গাংনাপুর থানার দেবগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের লিচুতলা এলাকায়। হামলার প্রতিবাদে রবিবার টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা।
ঠিক কী ঘটনা ঘটেছিল?
শনিবার ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর স্ক্রুটিনি পর্ব। এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে (Panchayat Election) দেবগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের লিচুতলা এলাকায় বিজেপির হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন সান্ত্বনা রায় এবং কৃষ্ণা সরকার। অভিযোগ, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার জন্য কয়েকদিন ধরে হুমকি দিতে থাকেন দেবগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের বিদায়ী উপপ্রধান তথা তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি সুবীর ধর এবং তাঁর অনুগামীরা। দুই বিজেপি প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় শনিবার রাতে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। দুই প্রার্থীর বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে রবিরার দুপুরে বিজেপি বিধায়ক পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা।
কী বললেন বিজেপি বিধায়ক?
রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক তথা নদিয়া দক্ষিণ বিজেপির জেলা সভাপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায় বলেন, শনিবার রাতে দলীয় প্রার্থীদের বাড়ি ভাঙচুর করে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। এ বিষয়ে শনিবার রাতেই চাকদহ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলা হয়েছিল। তিনি ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু, ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত কোনও দুষ্কৃতী ধরা পড়েনি। সেই কারণেই আমাদের এই পথ অবরোধ। প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি শুধুমাত্র এখানেই থেমে থাকবে না। রানাঘাট দক্ষিণের যে কটি থানা রয়েছে, আমরা প্রতিটি থানা স্তব্ধ করে দেব।
কী বললেন তৃণমূল নেতৃত্ব?
যদিও এ বিষয়ে বিজেপির আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দেবগ্রাম তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি তথা বিদায় উপপ্রধান সুবীর ধর। তিনি বলেন, আমি অসুস্থ হয়ে দীর্ঘদিন বাড়িতেই বসে রয়েছি, প্রশাসন সেটা জানে। বিজেপি যে অভিযোগ তুলেছে পুরোটাই ভিত্তিহীন। এ বছর পঞ্চায়েত নির্বাচনে (Panchayat Election) সুস্থ ভাবেই বিজেপি এবং সিপিএম মনোনয়নপত্র জমা দিতে পেরেছে। বিগত ৩৪ বছরে সিপিএমের যে সমস্ত হার্মাদ বাহিনী এলাকায় খুন-সন্ত্রাস করত, তারাই আজ ভোটে দাঁড়াচ্ছে এবং আবারও উত্তপ্ত করে তোলার চেষ্টা করছে গোটা এলাকা।
দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।
Leave a Reply