মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “এসআইআর (SIR) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভেস্তে গিয়েছে তৃণমূলের বড় প্ল্যান,” রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঠিক এই ভাবেই আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াকে সমর্থন করেছে। কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে। তমলুক কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
বহু ক্ষেত্রে নির্দেশিকা লঙ্ঘন (Suvendu Adhikari)
কমিশনের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে রাজ্য সরকারকে। সাংবিধানিক উপায়ে ভোটার তালিকা (SIR) সংশোধনে কোনও বাঁধাকে অমান্য করতে করতে পারবে না রাজ্য প্রশাসন। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে জমা দেওয়া তালিকায় বহু ক্ষেত্রে নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে প্রকৃত গ্রুপ-বি কর্মীদের পরিবর্তে অন্যান্য স্তরের কর্মচারীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, কিছু কিছু জায়গায় অবসর প্রাপ্ত পঞ্চায়েত স্তরের কর্মচারীদের নামও তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। এই তথ্য আদালতে জমা দেওয়া হলে আদালত অবমাননার পর্যায়ে পড়তে হবে। দরকার হলে আইনি পদক্ষেপও গ্রহণ করা হবে।”
“নির্বাচন কমিশন বিশেষ নির্দেশিকা দিয়ে জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে ইআরও ও এআরও-দের আইন ও কমিশনের নির্দেশিকা মেনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনও রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপে প্রভাব পড়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা নির্দেশিকা উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত নিলে আইনি জটিলতা তৈরি হবে। এই ক্ষেত্রে আদালতের নজর দারিতে আসবে সম্পূর্ণ বিষয়টি।”
সুপ্রিম কোর্ট তৃণমূলের প্রচেষ্টায় সায় দেয়নি
তৃণমূল সরকারকে তোপ দেগে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া বন্ধ করার উদ্দেশে বিভিন্ন স্তরে চাপ সৃষ্টি করা হলেও সুপ্রিম কোর্ট সেই প্রচেষ্টায় সায় দেয়নি। নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও কর্তৃত্ব পুনরায় নিশ্চিত করেছে। ভোটার তালিকায় ছোট খাটো ত্রুটি দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে শুনানি কেন্দ্রে আনিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে। অবশ্য এর মূলকারণ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করা, কিন্তু আদালতের নির্দেশে এই অপচেষ্টা সঠিক ভাবে সফল হয়নি।”
স্থায়ী সমাধানের কোনও রোড ম্যাপ নেই
ভোটের আগে মমতা সরকার অন্তর্বর্তী বাজেট বরাদ্দ করেছে। শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বাজেটের সমালোচনা করে শুভেন্দু বলেন, “চার মাসের এই অসম্পূর্ণ বাজেটে কর্মসংস্থান বা শূন্যপদের পূরণের কোনও সুস্পষ্ট বাজেট নেই। রাজ্যের বিপুল পরিমাণে শূন্যপদ থাকলেও নিয়োগ নিয়ে কোনও সম্পূর্ণ ইঙ্গিত নেই। কাজ না দিয়ে ১৫০০ করে ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এই রাজ্যে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার কোনও ইঙ্গিত নেই। স্থায়ী সমাধানের কোনও রোড ম্যাপও নেই।”
রাজ্যের মমতা সরকার আগেও বেকার ভাতা বা যুবকল্যাণ প্রকল্পের অনেক যোজনাকে বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ফলে নতুন করে ভোটের আগে ভাতার নামে প্রলোভন এবং যুব সমাজকে বিভ্রান্ত করছে। সরকারের তরফে শূন্যপদ পূরণ এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরির কথা বলা হচ্ছে না। তবে বিজেপি বিরোধী দল হিসবে কর্মসংস্থান, নিয়োগ প্রক্রিয়া, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে আগামী দিনেও গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ (SIR) সঠিক ভাবে কার্যকর হচ্ছে কিনা তাও নজরে রাখবে বলে দাবি করেছে বিজেপি।

Leave a Reply