Donald Trump: “ইরান যদি ভুল কিছু করার চেষ্টা করে, তাহলে আমেরিকা আবারও শক্ত হাতে জবাব দেবে”, আয়াতুল্লাকে ফের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

if Iran tries to do anything wrong america will respond with a strong hand again trump warns ayatollah again

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ইরানকে ঘিরে ফের কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে, ইরান (Iran) যদি আবার পরমাণু পরীক্ষার কর্মসূচিকে সক্রিয় করার চেষ্টা করে অথবা দেশজুড়ে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আরও রক্তাক্ত আকার নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেবে। এদিন ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণেই ইরান সরকার শত শত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান যদি ভুল কিছু করার চেষ্টা করে, তাহলে আমেরিকা আবারও শক্ত হাতে জবাব দেবে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি মোতায়েন (Donald Trump)

ইরানের (Iran) ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র (Donald Trump) ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে বিরাট পরিমাণে সামরিক শক্তি মোতায়েন শুরু করেছে। পারস্য উপসাগর ও আরব সাগর অঞ্চলে একাধিক এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ, গাইডেড মিসাইলবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং আধুনিক যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে। ফলে ইরান সরকারের প্রধান আয়াতুল্লা খামেনিকে ভাবতেই হচ্ছে।

পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্র দেশগুলিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেমন প্যাট্রিয়ট ও থাড মোতায়েন করছে, যাতে ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা প্রতিহত করা যায়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার চেয়ে বেশি শক্তি প্রদর্শন এবং কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা ছাড়া আর কিছুই না।

ইরানের ভেতরে বিক্ষোভ ও দমন অভিযান

ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দ্রুত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্বকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলন শুরু হলেও পরে তা সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের রূপ নেয়। ইসলাম ধর্মগুরু খোমেনির ছবি পুড়িয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।

তবে ইরানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অপর দিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। হাজার হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বহু ক্ষেত্রে কঠোর সাজা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (Donald Trump) এই কঠোর দমন নীতির অভিযানকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে ইরান সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

ইরানের পাল্টা বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির জবাবে ইরানও কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইরান (Iran) সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, আমাদের দেশ সম্পূর্ণ ভাবে প্রস্তুত। যে কোনও আগ্রাসনের জবাব দিতে আমরা ট্রিগারে আঙুল রেখে দিয়েছি। একই ভাবে ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল দেশটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উস্কে দিচ্ছে এবং সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। বাইরের শক্তির প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপেই পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে।

কেন এখন ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের (Donald Trump) চাপ বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—

  • ইরানের ভেতরে চলমান বিক্ষোভ ও মানবাধিকার পরিস্থিতি
  • ইরানের (Iran) সম্ভাব্য পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরুজ্জীবনের আশঙ্কা
  • মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশেরদের নিরাপত্তা উদ্বেগ

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান যদি পারমাণবিক পথে ফেরে, তাহলে তা গোটা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠবে। তাই আরও কড়া মনোভাব ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প।

হামলা হলে কী হতে পারে?

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে তা ধাপে ধাপে হতে পারে। প্রথমে সীমিত আকারে সতর্কতামূলক হামলা, এরপর ইরানের সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র বা ড্রোন পরিকাঠামো লক্ষ্য করা হতে পারে। চরম পরিস্থিতিতে পারমাণবিক স্থাপনাগুলিও নিশানায় আসতে পারে।

ইজরায়েলের সম্ভাব্য ভূমিকা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হলে ইজরায়েলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকতে পারে। ইজরায়েল ইরানকে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি বলে মনে করে। ফলে সংঘাত বাড়লে ইজরায়েলের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সক্ষমতা পরিস্থিতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ইরান যদি পরমাণু শক্তিধর দেশ হয়ে যায় তাহলে ইহুদীয়ের ধর্মীয় অস্তিত্বে সবথেকে বড় সঙ্কটে নেমে আসবে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র (Donald Trump) ও ইরানের  (Iran) মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে। এখনও পর্যন্ত সরাসরি যুদ্ধ শুরু না হলেও সামরিক প্রস্তুতি, কড়া হুঁশিয়ারি ও পাল্টা বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে বড় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সেদিকে নজর রাখছে গোটা বিশ্ব।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share