মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজনৈতিক কোনও কর্মসূচিতে যোগ দিতে নয়, স্রেফ ধর্মের টানে বাংলায় এলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। বুধবার মায়াপুর (Mayapur) ইসকনে শ্রীমৎ ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী প্রভুপাদের ১৫২তম জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগ দেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিন ইসকনে ‘হরে কৃষ্ণ’ নাম নিয়ে বক্তৃতা শুরু করেন তিনি। প্রথমেই জানিয়ে দিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি এখানে আসেননি, এসেছেন চৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্ত হিসেবে। তিনি এও জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তাঁর মাধ্যমে ভক্তদের উদ্দেশে হরে কৃষ্ণ বার্তা পাঠিয়েছেন।
শাহি বচন (Amit Shah)
ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর গৌড়ীয় মঠের প্রতিষ্ঠাতা। বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আজ সকালে আমার সঙ্গে দেশের সম্মানীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কথা হয়েছে। আমি ওঁকে বললাম যে, আজ মায়াপুরে ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের ১২৫তম জন্মজয়ন্তীতে যোগ দিতে যাচ্ছি।” শাহ বলেন, “উনি মন থেকে এবং ভক্তিভরে আপনাদের সবাইকে হরে কৃষ্ণ বলেছেন।” তিনি বলেন, “একটু আগেই আমায় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সম্বোধন করা হল। আমি এখানে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আসিনি। চৈতন্য মহাপ্রভুর অনন্য ভক্ত হিসেবে আজ আমি এখানে এসেছি।” শাহ বলেন, “ভালো-খারাপ সকলের মধ্যেই থাকে। শ্রীকৃষ্ণের শরণ নিলে সব কিছু শান্ত হয়। কৃষ্ণের নাম নেয় না, বিশ্বে এমন কেউ নেই। ভক্তি আন্দোলনকে সর্বত্র ছড়িয়েছেন শ্রীকৃষ্ণ।” তিনি জানান, ভক্তি আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র মায়াপুর সারা বিশ্বকে শান্তির পথ দেখায়।
আধুনিকতা ধর্মের শত্রু নয়
শাহ বলেন, “আধুনিকতা ধর্মের শত্রু নয়। শ্রীকৃষ্ণের প্রতি ভক্তি অচল, তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা অটুট, তখনই সব বাধা পেরিয়ে যাওয়া যায়।” তিনি বলেন, “ভক্তিসিদ্ধান্ত প্রভুপাদজি, ভক্তিবেদান্ত প্রভুপাদজিকে মন থেকে প্রণাম করে আমার কথা শুরু করতে চাই। কারণ মহাপ্রভু যে ভক্তি আন্দোলনের শুরু (Amit Shah) করেছিলেন, সেটা এই দুই মহাপুরুষই শুধু এগিয়ে নিয়ে যাননি, বরং আধুনিক করে যুবসমাজের মধ্যে এবং বিশ্বজুড়ে সকলের কল্যাণের রাস্তা প্রশস্ত করার কাজ করেছেন।” শাহ বলেন, “ভালো-মন্দ মানুষের মধ্যেই থাকে। কিন্তু যখন কেউ নিজের অস্বিস্ত ভুলে শ্রীকৃষ্ণময় হয়ে যান, তখন সব ভালোই হয় (Mayapur)। ভক্তিভরে কৃষ্ণনাম স্মরণেই চেতনা জাগ্রত হয়। দূর হয় মনের অন্ধকার (Amit Shah)।”

Leave a Reply