Durga Puja Drone Show: তিন হাজার ড্রোনের আলোয় কলকাতার আকাশে ফুটবে দুর্গাপুজোর গল্প, মহালয়া থেকে অষ্টমী— মেগা অনুষ্ঠান, পরিকল্পনা রাজ্যের

durga puja drone show in kolkata new thinking in 2026 west bengal govt planned global connect

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজো মানেই কলকাতার আলো, আনন্দ আর উৎসবের রঙ। এবার সেই উৎসবের আকাশেই যোগ হতে চলেছে এক নতুন মাত্রা। ২০২৬-এর দুর্গাপুজোয় (Durga Puja 2026) কলকাতার আকাশে দেখা যেতে পারে প্রায় তিন হাজার ড্রোনের (Durga Puja Drone Show) অভিনব লাইট শো। মহালয়া থেকে অষ্টমী—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে আয়োজন করা হবে একাধিক মেগা অনুষ্ঠান। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বাঙালি সংগঠন এবং ভারতীয় দূতাবাসগুলিকেও সরাসরি যুক্ত করা হবে সেই উৎসবে।

তিন হাজার ড্রোনের অভিনব লাইট শো

রাজ্যের পর্যটন দফতর সূত্রে খবর, এবার দুর্গাপুজোয় কলকাতার আকাশে দেখা যেতে পারে অভূতপূর্ব দৃশ্য। কমপক্ষে ৩ হাজার ড্রোনের আলোয় ফুটে উঠবে দুর্গাপুজোর নানা অনুষঙ্গ। ড্রোনের আলোয় আকাশজুড়ে ফুটিয়ে তোলা হবে বাংলার সংস্কৃতির বিভিন্ন চিত্র। একের পর এক ড্রোন নির্দিষ্ট বিন্যাসে উড়ে তৈরি করবে আলোকচিত্র ও বিভিন্ন আকৃতি—যা মাটিতে দাঁড়িয়ে দর্শকদের কাছে একেবারে অন্যরকম অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। জানা গিয়েছে, পুজোর রাতের পাশাপাশি মহালয়াকে ঘিরেও থাকছে বিশেষ বর্ণাঢ্য আয়োজন। দুর্গাপুজোর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বাংলার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সামনে রেখে সাজানো হতে পারে এই অনুষ্ঠান। এর আগে কলকাতার গঙ্গার তীরে ড্রোন ও লেজার শো দর্শকদের নজর কেড়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে গিয়ে এবার দুর্গাপুজোর সঙ্গে প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন হতে চলেছে বলে খবর।

দুর্গাপুজো গ্লোবাল কানেক্ট ২০২৬

‘বিশ্ব জুড়ে বাঙালির আবেগ – দুর্গাপুজো গ্লোবাল কানেক্ট ২০২৬’ নামে এই আন্তর্জাতিক কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে রাজ্যের পর্যটন দফতর। গোটা আয়োজনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের জন্য একটি অভিজ্ঞ ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা বাছাই করতে ইতিমধ্যেই রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল প্রকাশ করেছে সরকার। সরকারি নথি অনুযায়ী, দুর্গাপুজোকে শুধুমাত্র বাংলার শ্রেষ্ঠ উৎসব হিসেবে তুলে ধরাই এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য নয়। ইউনেস্কোর স্বীকৃতিকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই মূল লক্ষ্য।

অনাবাসী ভারতীয়রাও আড্ডায় মাতবেন

এই কর্মসূচির আর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘গ্লোবাল বেঙ্গলি কানেক্ট’ বা ‘ঢাক কানেক্ট’। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাঙালি সংগঠন, অনাবাসী ভারতীয় এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষকে বাংলার দুর্গাপুজোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে চাইছে সরকার। এর জন্য বিদেশের ভারতীয় দূতাবাস এবং মিশনগুলির সহযোগিতা নেওয়া হবে। বিভিন্ন শহরের বাঙালি সংগঠনের অনুষ্ঠান, ঢাক এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা কলকাতার মূল অনুষ্ঠানের সঙ্গে লাইভ যুক্ত হতে পারে। অনুমোদন মিললে দুই প্রান্তের মধ্যে সরাসরি কথোপকথনের ব্যবস্থাও থাকবে। অনুষ্ঠান যাতে মাঝপথে ব্যাহত না হয়, তার জন্য প্রতিটি আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের ইন্টারনেট সংযোগ, ব্যান্ডউইথ এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা আগে থেকে পরীক্ষা করা হবে। সব লাইভ ফিড পরিচালনার জন্য থাকবে একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম।

বিদেশেও পুজোর প্রচার

নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়্যার থেকে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা। লন্ডনের পিকাডিলি লাইটস থেকে সিডনি ও জাপানের বিমানবন্দর। এ বার বিশ্বের একাধিক আইকনিক জায়গায় দেখা যেতে পারে বাংলার দুর্গাপুজোর ঝলক। শুধু বিদেশে নয়, দেশের ১০টি বিমানবন্দর, ৫০টি রেলস্টেশন এবং বাংলার ১ হাজার পুজো প্যান্ডেলেও চলবে প্রচার। ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়া মিলিয়ে লক্ষ্যমাত্রা ২০০ কোটি ভিউ ও ইমপ্রেশন। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাজারে অন্তত একটি করে যৌথ প্রচারমূলক অনুষ্ঠান বা অ্যাক্টিভেশন আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। শুধু ইংরেজিতে নয়, যে দেশে প্রচার হবে, সেই দেশের প্রধান ভাষাতেও বিজ্ঞাপন, ভিডিও এবং প্রচারের অন্যান্য উপকরণ তৈরি করা হবে।

সরকারি মাধ্যমে সরাসরি পুজোর অনুষ্ঠান!

রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ও স্থাপত্য আলো দিয়ে সাজানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে সরকারি কাঠামোয় কেবলমাত্র স্থাপত্যভিত্তিক আলোকসজ্জা করা যাবে। সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া সেখানে কোনও মঞ্চ তৈরি বা জনসমাবেশ করা যাবে না। এই অনুষ্ঠানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও ভিভিআইপি অতিথিদের উপস্থিতির সম্ভাবনাও মাথায় রাখা হয়েছে। প্রধান অনুষ্ঠানগুলি সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি প্রসার ভারতী, দূরদর্শন, আকাশবাণী এবং অনুমোদিত দেশি-বিদেশি সম্প্রচার মাধ্যমে দেখানো হবে।

থিম-বাংলার পুজো-বাঙালির আবেগ

মহালয়ার পাশাপাশি পুজোর আরও দু’টি নির্ধারিত দিনে বিশেষ অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা রয়েছে। তার মধ্যে একটি অনুষ্ঠান অষ্টমীকে কেন্দ্র করে হতে পারে। সেখানে ধুনুচি নাচ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং বিশেষ আলোকসজ্জার ব্যবস্থা থাকবে। কোনও বড় স্টেডিয়াম, অডিটোরিয়াম বা অন্য কোনও উপযুক্ত জায়গায় প্রায় চার ঘণ্টার ‘গ্র্যান্ড দুর্গাপুজো কনসার্ট’ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে পর্যটন দফতর। সেখানে জনপ্রিয় শিল্পী, সেলিব্রিটি এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দল অংশ নেবে। ঢাক ও ধুনুচি নাচের পাশাপাশি ছৌ, ঝুমুর, বাউল, কীর্তন, রবীন্দ্রসঙ্গীত, নেপালি সংস্কৃতি, লোকসঙ্গীত এবং সমকালীন শিল্পকলাকেও তুলে ধরা হবে। বাংলার থিম প্যান্ডেল, আচার-অনুষ্ঠান, খাবার, হস্তশিল্প ও তাঁতশিল্পও জায়গা পাবে প্রচারে।

ড্রোন শো-এর চূড়ান্ত দিন, সময়

এই ড্রোন শোর জন্য আলাদা গল্প, স্টোরিবোর্ড, অ্যানিমেশন, থ্রি-ডি প্রিভিজুয়াল এবং সঙ্গীতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোরিওগ্রাফি তৈরি করা হবে। ড্রোনের চলাচল, আলো, সঙ্গীত এবং মঞ্চের অনুষ্ঠান – সবকিছুকে একসঙ্গে মিলিয়ে দৃশ্যায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই আয়োজনের আগে ডিজিসিএ-সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। একাধিকবার পরীক্ষামূলক উড়ান ও নিরাপত্তা মহড়ার পরেই চূড়ান্ত ড্রোন শো হবে। যদি এই আয়োজন সম্পূর্ণ করা যায়, তাহলে ঢাকের বাদ্যি, ধুনুচির ধোঁয়া, আলোর রোশনাইয়ের পাশাপাশি এবার কলকাতার আকাশও হয়ে উঠতে পারে দুর্গাপুজোর এক বিশাল ক্যানভাস—যেখানে হাজার হাজার আলোর বিন্দুতে ফুটে উঠবে মা দুর্গা, বাংলার সংস্কৃতি এবং শারদোৎসবের গল্প। তবে ড্রোন শো-এর চূড়ান্ত দিন, সময় ও দর্শকদের জন্য নির্দিষ্ট ভিউয়িং জোন নিয়ে পরিকল্পনা চলছে।

ধর্মীয় পবিত্রতা রক্ষা, পরিবেশবান্ধব আয়োজন

তবে দুর্গাপুজোর ধর্মীয় পবিত্রতা ও বাঙালির চিরাচরিত রীতি যাতে কোনওভাবে ক্ষুণ্ণ না হয়, সে ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পুরোহিত, ধর্মীয় আচার-বিশেষজ্ঞ, সাংস্কৃতিক গবেষক ও ঐতিহ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হবে। আয়োজনকে পরিবেশবান্ধব রাখার নির্দেশও রয়েছে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমানো, ডিজিটাল আমন্ত্রণ ও রেজিস্ট্রেশন, বর্জ্য পৃথকীকরণ, বিদ্যুৎ ও জল সাশ্রয় এবং স্থানীয় পণ্য ও কর্মীদের ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share