BJP: নৃশংসভাবে খুন উস্তির বিজেপি নেতা, মমতাকে ‘রক্তপিপাসু মুখ্যমন্ত্রী’ তোপ সুকান্তর

BJP_(5)

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজেপি (BJP) নেতাকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তি থানার দ্বীপের মোড় এলাকায়। বাইরে থেকে তালাবন্ধ অবস্থায় থাকা বিজেপির কার্যালয়ের ভিতর থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মৃত বিজেপি নেতার নাম পৃথ্বীরাজ নস্কর। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মথুরাপুর লোকসভার বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া কনভেনার ছিলেন। তাঁর বাড়ি আটপাড়া এলাকায়। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই খুন করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘রক্তপিপাসু মুখ্যমন্ত্রী’ বলে আক্রমণ করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।

পাঁচদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন বিজেপি নেতা (BJP)

গত ৫ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। দীর্ঘ সময় খোঁজ না পেয়ে গত ৭ তারিখ সন্ধ্যায় উস্তি থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে পুলিশ। শুরুতে খোঁজ না মিললেও পৃথ্বীরাজের ফোন চালু রাখা ছিল বলে পরিবারের দাবি। তাতেই ঘনায় রহস্য। শুক্রবার রাতে সন্দেহের বশে পরিবারের লোকজনেরা বন্ধ পার্টি (BJP) অফিসের জানালা দিয়ে কাপড় জড়ানো অবস্থায় কিছু পড়ে দেখতে দেখে পুলিশে খবর দেন। জানা গিয়েছে, তালা ভেঙে বিজেপির ওই কার্যালয়ে পুলিশ ঢোকে। সেখানে বিজেপি নেতার রক্তাক্ত দেহটি পড়ে ছিল। বিবস্ত্র অবস্থায় পড়েছিল দেহটি। জামাকাপড় পড়ে ছিল দেহের পাশেই। দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল বলেও জানা গিয়েছে। তবে, পৃথ্বীরাজের মোবাইল নম্বরের টাওয়ার লোকেশন জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। শেষবার তিনি কার সঙ্গে কথা বলেন, তা-ও জানার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যেই দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যে জায়গায় দেহ উদ্ধার হয়েছে সেখান থেকে পৃথ্বীরাজের বাড়ির দূরত্ব মেরেকেটে ১ কিলোমিটার। বাড়ির এত কাছে এই কাণ্ড ঘটে গেল, অথচ কেউ কীভাবে কিছু টের পেল না তা ভাবাচ্ছে পুলিশকে। তাহলে কী অন্যত্র মেরে ওখানে দেহ রাখা হয়েছে? সেই প্রশ্নও উঠছে।

আরও পড়ুন: ‘‘তৃণমূলের রুচিবোধ নিম্নমানের, থ্রেট কালচারের জনক মমতা’’, তোপ শুভেন্দুর

পরিবারের লোকজনের কী বক্তব্য?

গত লোকসভা নির্বাচনে মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপির (BJP) পরাজিত প্রার্থী অশোক পুরকাইতের ছায়া সঙ্গী ছিলেন পৃথ্বীরাজ। তখন থেকেই শাসক তৃণমূলের টার্গেট হয়ে গিয়েছিলেন বলে পরিবারের দাবি। পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পনা করেই পৃথ্বীরাজকে অপহরণ করে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরাই। ওরাই খুন করেছে। তারপর দেহ নিয়ে এসে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে ফেলে রেখে গিয়েছে। পরিবার সূত্রে খবর, ৪ নভেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন পৃথ্বীরাজ। বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। ফোন করলেও পাওয়া যায়নি। এর পর ৭ নভেম্বর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন পরিবারের লোকজন। পৃথ্বীরাজের দাদা বলেন, ‘‘আমি সবসময় বাড়িতে থাকি না। ১২টার সময় স্ত্রী ফোন করে বলল, ভাই খুন হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আসতে পারিনি। সকালে এসে শুনলাম নিয়ে গিয়েছে। সাময়িকভাবে ব্যবহার করা হত কার্যালয়টি। বিজেপির আইটি সেলের কর্মী ছিল ভাই। ঠিক ভাবে বলতে পারছি না। কিন্তু আমাদের একটা দুর্গাপুজো হয়। সেখানে জাস্টিস ফর আরজি কর লেখা ব্যানার টাঙানো হয়। বাড়িতে এসে হুমকি দিয়ে যান সমাজবিরোধীরা। ভাইয়ের কাছে পার্টি অফিসের চাবি থাকত। অথচ পার্টি অফিসে বাইরে থেকে তালা দেওয়া ছিল। আমার ভাইকে খুন করা হয়েছে। আমরা ঘটনার প্রকৃত তদন্ত করে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।’’

মমতাকে নিশানা সুকান্তর

দলীয় কর্মীকে খুনের ঘটনায় রাজ্যের শাসক দলকে নিশানা করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। নিজের এক্স হ্যান্ডলে সুকান্ত দাবি করেন, কয়েকদিন আগে তাঁকে তাঁর নিজের এলাকা থেকেই তুলে নিয়ে গিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতীবাহিনী। নৃশংস খুনের আগে পৃথ্বীরাজের উপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়েছে। সমাজমাধ্যমে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে লেখেন, ‘‘এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করে দিল রাজ্যের জনবিচ্ছিন্ন, নৃশংস এবং রক্তপিপাসু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক কতটা ভয় পেয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টিকে। আমরা আমাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করেও রাজ্যের প্রতিটি বিজেপি কর্মীর সুরক্ষার জন্য লড়বো। রাজ্যকে বাঁচানোর সংকল্পে রক্তপিপাসু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম চলছে, চলবে।’’

 

 

 

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share