Pakistan: মেরামতির চেষ্টা ব্যর্থ, গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল কেন্দ্র ভাঙল পাকিস্তান

Pakistan demolishes murid air base building hit during operation sindoor

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুরুত্বপূর্ণ একটি কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল কেন্দ্র মেরামত ও পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছিল পাক বিমানবাহিনী (PAF)। তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তাই কেন্দ্রটি (Pakistan) ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে উপগ্রহ চিত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। এই কেন্দ্রটি পাকিস্তানের প্রধান মুরিদ বিমানঘাঁটি, যা চকওয়াল এলাকার কাছে অবস্থিত (Operation Sindoor)।

মুরিদ এয়ার বেসে মেরামত (Pakistan)

সংবাদ মাধ্যমের কাছে থাকা ভ্যান্টরের ২৮ ফেব্রুয়ারির একটি স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গিয়েছে, মুরিদ এয়ার বেসে মেরামতের কাজ সফল হয়নি। ভবনের মাঝের অংশটি আগে বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং পরে ত্রিপল দিয়ে সেটি ঢেকে রাখা হয়েছিল। এখন সেখানে অনিয়মিত গোলাপি-লাল ধ্বংসাবশেষ এবং মাটি দেখা যাচ্ছে, যা সফলভাবে পুনর্নির্মাণের বদলে ভবন ভেঙে ফেলা বা ধসে পড়ার ইঙ্গিত বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। ২০২৫ সালের মে মাসের হামলার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব প্রায় দশ মাস পরেও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষক ডেমিয়েন সাইমন বলেন, “সাম্প্রতিক ছবিতে এখন নিশ্চিত হয়েছে যে ভবনটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছে।” তিনি বলেন, “এটি ইঙ্গিত করে যে হামলার প্রভাব শুধু ছাদেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং ভবনের অভ্যন্তরীণ কাঠামোর গভীর অংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। প্রায় ৩৫×৩০ মিটার আকারের এই কাঠামোটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত থেকেই বোঝা যায় যে বিমান হামলার ফলে ভবনের ভেতরে গুরুতর ক্ষতি হয়েছিল, যার ফলে এটি মেরামতের অযোগ্য হয়ে পড়ে, নিরাপদও নয়।”

পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিতে হামলা

২০২৫ সালের ১০ মে ভোর ২টা থেকে ৫টার মধ্যে ভারতীয় বিমানবাহিনী পাকিস্তানের দশটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায় (অপারেশন সিঁদুর), যার মধ্যে মুরিদও ছিল। কয়েক ঘণ্টা পরেই পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়ে সংঘাত বন্ধে আলোচনা শুরু করে (Operation Sindoor)। এই প্রতিবেদনে যে কাঠামোটির কথা বলা হয়েছে, সেটি এই ঘাঁটির ভেতরে থাকা একটি কমপ্লেক্স থেকে পরিচালিত মানববিহীন আকাশযানের (UAV) জন্য একটি কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হত বলেই অনুমান। একই ঘাঁটিতে ভারতীয় বিমানবাহিনী একটি ভূগর্ভস্থ কাঠামোয়ও হামলা চালিয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে (Pakistan)।

গোলাবারুদের আঘাতে তৈরি গর্ত

এর আগে সংবাদ মাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই ভূগর্ভস্থ কাঠামোর দুটি প্রবেশপথের একটির মাত্র ৩০ মিটার দূরে প্রায় ৩ মিটার প্রশস্ত গোলাবারুদের আঘাতে তৈরি একটি গর্ত রয়েছে। সাইমন বলেন, “ভারতের মে ২০২৫-এর বিমান হামলার পর সংগৃহীত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে যে ভবনের ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন চলাকালীন সেটি ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। ডিসেম্বর ২০২৫-এর পরে তোলা ছবিতে দেখা যায় পুরো কাঠামোটি ত্রিপল ও রিপেয়ারিং নেট দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে, যা মেরামতের কাজ শুরু হওয়ার ইঙ্গিত দেয় (Operation Sindoor)।”

ক্ষয়ক্ষতির ছবি স্পষ্ট

১০ মে ২০২৫-এর স্যাটেলাইট ছবিতে হামলার কিছুক্ষণ পরেই কেন্দ্রীয় ভবনগুলিতে স্পষ্ট ক্ষয়ক্ষতির ছবি দেখা যায়। ক্ষতির ধরন, ছাদে নির্দিষ্ট জায়গায় প্রবেশ করে ভেতরে ধস নামা, ইঙ্গিত দেয় যে এটি শুধু সাধারণ বিস্ফোরণের ফল নয়। বরং এটি এমন পেনিট্রেটর ওয়ারহেড ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখায় যা শক্ত কংক্রিট ভেদ করে ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য তৈরি। সামরিক কমান্ড সেন্টারের মতো শক্তভাবে সুরক্ষিত টার্গেটে সাধারণত এই ধরনের অস্ত্রই ব্যবহৃত হয় (Pakistan)।

স্ক্যাল্প মিসাইল

ভারতীয় বিমানবাহিনী কখনও প্রকাশ্যে বলেনি কোন টার্গেটে তারা কোন অস্ত্র ব্যবহার করেছে। তবে ক্ষতির ধরন এবং নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে দূরত্ব বিবেচনায় ধারণা করা হচ্ছে যে ভারতীয় আকাশসীমা থেকেই রাফাল যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা স্ক্যাল্প (SCALP) এয়ার-টু-সারফেস প্রিসিশন মিসাইল ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে (Operation Sindoor)। স্ক্যাল্প মিসাইল প্রায় ৪৫০ কেজি ওজনের বহু-ধাপবিশিষ্ট পেনিট্রেটর ব্যবস্থায় সজ্জিত হতে পারে। প্রথম ধাপটি একটি প্রাথমিক শেপড চার্জ, যা শক্ত কংক্রিটের মতো বাহ্যিক স্তর ভেঙে একটি প্রবেশপথ তৈরি করে। এরপর প্রধান বিস্ফোরক বহনকারী দ্বিতীয় ধাপটি কাঠামোর গভীরে ঢুকে বিস্ফোরিত হয়, ফলে ভেতরে শার্পনেল ও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে ব্যাপক ক্ষতি করে (Pakistan)।

মেরামতের চেষ্টাও ব্যর্থ

২০২৫ সালের ২ জুন, অর্থাৎ হামলার প্রায় তিন সপ্তাহ পরের স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রীয় ভবনের একটি অংশ সবুজ ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে, যা প্রাথমিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের ইঙ্গিত দেয়। তখনও বড় ধরনের পুনর্নির্মাণ শুরু হয়নি। ডিসেম্বরের স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি বড় লাল ত্রিপল দিয়ে পুরোপুরি ঢেকে রেখে মেরামতের চেষ্টা চলছিল। তবে কোনও নতুন স্থায়ী ছাদ বা কাঠামোগত মেরামতের স্পষ্ট চিহ্ন দেখা যায়নি, যা ধীরগতির বা জটিল পুনর্নির্মাণের ইঙ্গিত দেয় (Operation Sindoor)। এই প্রতিবেদনে প্রকাশিত নতুন স্যাটেলাইট ছবিটি দেখাচ্ছে যে শেষ পর্যন্ত সেই মেরামতের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে (Pakistan)।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share