RG Kar: কোটি কোটি টাকার অঙ্গ পাচার, মৃতদেহের সঙ্গে সহবাস! অন্য জগৎ আরজি করের মর্গ

RG_Kar_Rape-Murder_(1)

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের জমানায় আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের হাসপাতালের (RG Kar) মর্গে মৃতদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রির কারবার ফুলেফেঁপে উঠেছিল বলে জানতে পেরেছে সিবিআই। দুর্নীতির পরিমাণ ২০০ কোটি টাকা বলেই প্রাথমিক অনুমান সিবিআইয়ের। আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সিবিআইয়ের (CBI) হাতে এসেছে, গভীর রাতে মর্গে চলত মৃতদেহের সঙ্গে সহবাস, ধৃত সঞ্জয় রায়ের ফোনে সেই ছবিই পেয়েছেন আধিকারিকরা। এতেই দানা বাঁধছে সন্দেহ, আরজি করের (RG Kar) মর্গ কি তবে বিকৃত পর্নোগ্রাফির কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল?

পড়শি দেশেও পাচার করা মৃতদেহের অঙ্গ (RG Kar)

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, দুর্নীতির তদন্তে নেমে দেখা যাচ্ছে যে আরজি করের পাশাপাশি রাজ্যের বেশ কিছু সরকারি হাসপাতালের মর্গ দুর্নীতির আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছে। তবে সরকারি হাসপাতালই নয় বেশ কতগুলো বেসরকারি হাসপাতালও এই দুর্নীতিতে যুক্ত বলে জানতে পেরেছেন সিবিআই গোয়েন্দারা। সিবিআইয়ের তরফ থেকে যে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে তাতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে যে, অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির দেহ থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বের করে নেওয়া হত। একেকটি অঙ্গের দর অন্তত চার থেকে আট লাখ টাকা পর্যন্ত উঠত। তার পরে এই অঙ্গগুলি পাচার করা হত দেশের অন্যান্য রাজ্যে। এর পাশাপাশি, পড়শি দেশেও পাচার করা এই অঙ্গ (RG Kar), এমনটাই জানতে পেরেছেন সিবিআই গোয়েন্দারা। রাজ্যে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সংখ্যা যেমন বেড়েছে তেমনই মানবদেহের হৃদপিণ্ড, যকৃত, কিডনির চাহিদাও বেড়েছে। এগুলি মূলত শিক্ষাদানের কাজেই ব্যবহার করা হয় চিকিৎসাশাস্ত্রে। জানা গিয়েছে, আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তি এই কাজে যুক্ত ছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, ওই দুইজনকে ইতিমধ্যে ৩ দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং অঙ্গ ব্যবসার জোরালো সূত্র মিলেছে তাঁদের কাছ থেকে। সাধারণভাবে যে নিয়ম রয়েছে তাতে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির দেহ সাধারণত সাত দিন পেরোলে তা পুড়িয়ে দেওয়ার কথা। আইন অনুযায়ী, অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির দেহ থেকে অঙ্গ নিতে হলে স্বাস্থ্য ভবনের ছাড়পত্র প্রয়োজন কিন্তু সেসবকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ডাক্তারদের সিন্ডিকেটই অঙ্গ ব্যবসা চালিয়ে গিয়েছে বলে খবর।

মর্গের মৃতদেহের সঙ্গে সহবাস, তারপর তা ক্যামেরাবন্দি করত ধৃত সিভিক ভলেন্টিয়ার

সিবিআই সূত্রে আরও দাবি, চিকিৎসক পড়ুয়াকে ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্ত ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়ও মর্গে অবাধেই যাতায়াত করত। রাত বাড়লেই শুরু হত আরজি করে কুকীর্তি! তবে শুধু ধৃতই সিভিক ভলান্টিয়ারই নয়, বছরের পর বছর ধরে দুর্নীতির যে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল, সেখানে যাতায়াত ছিল আরও অনেকেরই। এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এসেছে সিবিআইয়ের। মেডিক্যাল কলেজের মর্গের ভিতরের একটি ভিডিও উদ্ধার হয়েছে ধৃতের মোবাইল থেকে। সেখানে মরদেহের সঙ্গে সহবাসের ছবি মিলেছে ধৃতের। এখানেই দানা বাঁধছে সন্দেহ। সাধারণভাবে, মৃতদেহের সঙ্গে সহবাস করা এক ধরনের মানসিক ব্যাধি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘নেক্রোফিলিয়া’। কিন্তু শুধুই কি মানসিক ব্যাধির কারণেই এমনটা করত সঞ্জয়? নাকি আরজি করের (RG Kar) মর্গ হয়ে উঠেছিল বিকৃত পর্নোগ্রাফির কেন্দ্র? এটাও খতিয়ে দেখছে সিবিআই। মোটা টাকার বিনিময়ে এই সমস্ত ভিডিও বিদেশে বিক্রি করা হত কিনা তা জানার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। তবে ধৃত সঞ্জয় রায়ের এমন কাণ্ডের ছবি মর্গের ভিতরে কারা তুলত? এবিষয়ে প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু তথ্য এসেছে তদন্তকারীদের কাছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে আরজি করের মধ্যে দাপিয়ে বেড়ানো সিন্ডিকেটের কয়েকজনই সেই ছবি তুলত। পর্নোগ্রাফি চক্রের পাশাপাশি বেওয়ারিশ মৃতদেহের হিসাবেও গরমিল উঠে এসেছে সিবিআইয়ের হাতে।

২০২১ সাল থেকে বছরে ৬০-৭০টি করে মৃতদেহ পাচার করা হত 

তদন্তকারীরা (CBI) জানাচ্ছেন, ২০২১ সাল থেকে বিগত কয়েক বছরে অন্তত ৬০ থেকে ৭০টি করে দেহের হিসাব পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা এক্ষেত্রে জানতে পেরেছেন সন্দীপ ঘোষ তাঁর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তিকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ থেকে আনেন এবং তাঁকেই ‘হেড ডোম’ করা হয় মর্গের। অন্যদিকে, মর্গ তৈরির সময় থেকে যিনি ‘হেড ডোম’ ছিলেন তাঁকে সিন্ডিকেটের প্রভাবে অন্য বিভাগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

রাত হলেই মর্গে আনাগোনা করতেন সিন্ডিকেটের নেতারা

প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে রাত আটটার মধ্যে মর্গ বন্ধ করে দেওয়ার নিয়ম থাকলেও গভীর রাত পর্যন্ত মর্গে আলো জ্বলত বলে জানা গিয়েছে। আরজি করে বর্তমানে ৪০টিরও বেশি কোল্ড চেম্বার রয়েছে। রাতে সেই চেম্বার খোলা হত বলেও অভিযোগ। সিবিআইয়ের সন্দেহ, সেই সময়েই বের করা হত মৃতদেহ। তার পরে চলত সহবাস, যা মোবাইলের ক্যামেরাবন্দি করা হত। দুর্নীতির সেই শিকড় খুঁজছে সিবিআই। মর্গের এক কর্মী নিজের নাম গোপন রাখার অনুরোধ জানিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘সন্ধ্যা হলেই মর্গে নিয়ে আসা হত মদের বোতল। সেখানে আমাদের মতো ছোটখাটো কর্মীদের কারও কিছু বলার সাহস ছিল না। বললেই হয় বদলি, নয় চাকরি যাওয়ার হুমকি দেওয়া হত।’’ অভিযোগ, রাত বাড়লেই মর্গে এসে ঢুকতেন সিন্ডিকেটের দাপুটে নেতাদের অনেকেই। ওই কর্মীর কথায়, ‘‘অন্যায় দেখেও চুপ করে থাকাটাই তো অলিখিত নিয়ম হয়ে গিয়েছিল।’’

 

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share