মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে কোটা বিরোধী আন্দোলন চলাকালীন হিংসার ঘটনা বাড়তে শুরু করেছে। শেখ হাসিনা পদত্যাগ করার পর থেকে হিংসা, অগ্নিসংযোগের পরিমাণ আরও বেড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় দোকানপাট লুট করা হচ্ছে। সরকারি দফতরে অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে। কোটা বিরোধী আন্দোলন পরিণত হয়, সরকার বিরোধী আন্দোলনে। সরকারের পতনের পর এখন হিন্দুদের (Bangladeshi Hindus) টার্গেট করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আরএসএস (RSS)।
Another day of Islamist violence against Hindus in Bangladesh starts.
A Hindu business owner has shop burned down in Lakshmipur
— Visegrád 24 (@visegrad24) August 7, 2024
আরএসএসের দাবি (RSS)
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি হিন্দুদের রক্ষা করতে ভারত সরকারের কাছে আর্জি জানাল আরএসএস। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সুরেশ ভৈয়াজি জোশি বলেন, বাংলাদেশে (Bangladeshi Hindus) হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আরএসএস কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশটি নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সম্মুখীন।” জোশি মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় একথা জানান। তিনি আরও বিশদভাবে বলেন, “বাংলাদেশ একটি ভিন্ন দেশ। সন্ত্রাস কবলিত বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি জেলায় হিন্দুদের বাড়ি এবং দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু মন্দির।
RSS comes out in support of Bangladeshi Hindus.
RSS urges Indian Govt to protect Hindus. RSS acknowledges that situation is extremely critical.
Senior RSS leader Suresh Bhaiyyaji Joshi requests the Indian Govt to ensure that Hindus are safe in Bangladesh amid massive violence.… pic.twitter.com/3M74xtUjBV
— The Hindu Front (@hindufrontorg_) August 7, 2024
আহ্বান জানিয়েছে ভিএইচপিও
শুধু আরএসএস নয়, এর আগে, কেন্দ্রের কাছে একই অনুরোধ করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদও। মঙ্গলবার, ভিএইচপি নেতা অলোক কুমার বাংলাদেশের (Bangladesh Crisis) অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের কথা তুলে ধরে বলেন, “সমস্ত সংখ্যালঘু হিন্দু ও শিখদের পাশে আমরা রয়েছি। হিন্দুদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, বাড়ি-ঘর, মন্দিরকে লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা হামলা চালাচ্ছে। ভারত অবশ্যই বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে অন্ধ হয়ে থাকতে পারে না। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার জন্য সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিতে ভারত সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি।’’
হিন্দুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ সেনা
বাংলাদেশের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান একতা পরিষদ জানিয়েছে, প্রায় ৩০০ জন হিন্দুর দোকানঘর এবং বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। প্রায় ২৪টির মতো মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। ৪০ জনের বেশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা মনে করছে, হিন্দুরা শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগের সমর্থক। সেই ভাবনা থেকেই হিন্দুদের (Bangladeshi Hindus) উপরে বেশি আঘাত নেমে আসছে বলে অভিযোগ। সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা প্রদান করার কথা বললেও সকল হিন্দুদের নিরাপত্তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি বাংলাদেশের সেনাবিহিনী।
Attack on Bangladeshi Hindu
Praying for the safety of minorities in Bangladesh #SheikhHasina
🥹🙏 pic.twitter.com/ogPMh0irxh— Prashant RSS (@prashant_RSSorg) August 5, 2024
বাংলাদেশে কমছে হিন্দুদের সংখ্যা (Bangladeshi Hindus)
জানা গিয়েছে, বাংলাদেশে ২০টির বেশি জেলায় হিন্দুরা আক্রান্ত হয়েছেন। বিশেষ করে দিনাজপুর, বগুড়া, রংপুর, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, নড়াইল, যশোর, পটুয়াখালী, খুলনা, নরসিংদী, সাতক্ষীরা, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রাম, হাবিবগঞ্জ, ঢাকা সহ বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুদের উপর আক্রমণ বজায় রয়েছে। ভাঙচুর শেষে (Bangladeshi Hindus) তাঁদের সম্পত্তি লুটপাট করা হয়েছে। বাংলাদেশ ২৫ শতাংশ থেকে কমতে কমতে হিন্দুদের জনসংখ্যা ৮ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে।
দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Whatsapp, Facebook, Twitter, Telegram এবং Google News পেজ।
Leave a Reply