T20 World Cup 2026: স্নায়ুযুদ্ধে বাজিমাত বুমরার, ফিল্ডিংয়েও চমক! সঞ্জুই সেরা, বেথেলের লড়াই ব্যর্থ করে ফাইনালে ভারত

t20 world cup 2026 india beats england to reach final in ahmedabad facing new zealand

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঘরের মাঠে ইতিহাস গড়ার পথে ভারত। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে রুদ্ধশ্বাস সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল ভারতীয় ব্রিগেড। সঞ্জু স্যামসনের বিধ্বংসী ব্যাটিং, বোলারদের মাথা ঠান্ডা রাখা পারফরম্যান্স, আর দুরন্ত ফিল্ডিংয়ের ওপর ভর করেই জয় এল টিম ইন্ডিয়ার। অবিশ্বাস্য অনুভূতি, ম্যাচ শেষে বললেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। তাঁর কথায়, ‘‘ভারতের মাটিতে খেলা, এরকম অসাধারণ একটা দলকে নেতৃত্ব দেওয়া, দেশে বিশ্বকাপ খেলা, আমেদাবাদে ফাইনালে খেলতে যাচ্ছি। আমার মনে হয় দলের ছেলেদের কাছে এটা বিশেষ এক অনুভূতি।’’

সঞ্জুর ব্যাটে রানের পাহাড়

টসে জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। কিন্তু তাঁর সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করেন সঞ্জু স্যামসন। মাত্র ৪২ বলে ৮৯ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। ইনিংসের শুরুতে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক মিড-অফে একটি সহজ ক্যাচ ফেলে দেওয়ায় তিনি জীবন পান। স্যামসন এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলের ভিত গড়েন। সঞ্জুর ক্যাচ ফেলে ভারতকে নিজে হাতে ফাইনালের দরজা খুলে দেন ইংরেজ অধিনায়ক। সঞ্জুর ইনিংস দেখে দারুণ খুশি ক্যাপ্টেন সূর্যকুমার। বলেন, ‘‘দলের প্রয়োজনে যেমন খেলার দরকার ছিল সঞ্জু সেরকমটাই খেলেছে।’’ ম্যাচ সেরার পুরস্কার নিয়ে সঞ্জু স্যামসনও জানান, ‘‘বড় স্কোর করাই লক্ষ্য ছিল, সেই কারণেই নিজের ফর্মকে কাজে লাগতে চেয়েছি প্রথম থেকেই।’’

মিডল অর্ডারের ঝোড়ো ক্যামিও ইনিংস

এদিন ইশান কিষাণের ১৮ বলে ৩৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস পাওয়ার প্লে-তে রানের গতি বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, শিবম দুবের ২৫ বলে ৪৩ রানের মারকুটে ইনিংস ইংল্যান্ডের স্পিনারদের কার্যকারিতা অনেকটাই কমিয়ে দেয়। কেবল টপ-অর্ডারই নয়, ভারতের নিচের সারির ব্যাটসম্যানরাও জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। হার্দিক পান্ডিয়া ও তিলক বর্মার দ্রুত সংগ্রহ করা ছোট ছোট ইনিংসগুলি সমানভাবে কার্যকর ছিল। শেষ তিন ওভারে তাঁরা ৪০-এর বেশি রান যোগ করে স্কোরবোর্ডে ইংল্যান্ডের জন্য বিশাল চাপ সৃষ্টি করে, যা রান তাড়ার কাজ আরও কঠিন করে তোলে। মিডল অর্ডারের ঝোড়ো ক্যামিও ইনিংসগুলোর সৌজন্যে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২৫৩/৭ রানের পাহাড় গড়ে ভারত।

বেথেলের লড়াই

একটা সময় মনে করা হয়েছিল হাসতে হাসতে জিতবে ভারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৭ রানে রুদ্ধশ্বাস জয়। টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে স্বস্তি অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের। ২৫৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ডকে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন তরুণ তুর্কি জ্যাকব বেথেল। মাত্র ৪৮ বলে ১০৫ রানের এক অবিশ্বাস্য শতরান করেন তিনি। তাঁকে দেখে মনে হচ্ছিল, এভাবেই রান চেজ করতে হয়। ইংল্যান্ড একসময় ম্যাচ প্রায় কেড়ে নিচ্ছিল, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ম্যাচ শেষে সে কথা মেনে নিলেন ভারত অধিনায়ক। সূর্য বলেন, ‘‘আমি তো হ্যারি ব্রুককে বললাম তোমাদের হারাতে গেলে আর কত রান করতে হবে? তবে সত্যি উইকেটটা দারুণ ছিল। ওরা যেভাবে ব্যাটিং করেছে, ওদের কৃতিত্ব কেড়ে নিতে চাই না। ওরা সব সময়ই ম্যাচে ছিল। রান তাড়া করে চাপে রেখেছিল। খুব স্নায়ুর চাপে ছিলাম। কেউ যদি হৃদস্পন্দন মাপত, ১৬০-১৭৫ পেতই। তবে এটা খেলার অঙ্গ। দারুণ সেমিফাইনাল হয়েছে। ফাইনালে উঠে আমরা খুশি।’’

বুম বুম বুমরা

শেষ মুহূর্তে জসপ্রীত বুমরা, হার্দিক পান্ডিয়া এবং অর্শদীপ সিং দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন। এদিনের ম্যাচে প্রায় ৫০০ রান উঠেছে। সেখানে জসপ্রীত বুমরা প্রমাণ করেছেন কেন তিনি টি২০ বোলিংয়ের এক অদ্বিতীয় মানদণ্ড। যখন ওয়াংখেড়ের শিশিরে অন্যান্য বোলাররা লড়াই করছিলেন, বুমরার ১৮তম ওভারটি ছিল নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের দারুণ দৃষ্টান্ত। শেষ ১৮ বলে ৪৫ রান দরকার থাকা সত্ত্বেও তিনি মাত্র ৬ রান দেন। সূর্য বলেন,‘‘এইরকম পরিস্থিতিতে বুমরা কতটা সক্ষম বোলার নতুন করে কাউকে বলে দিতে হয় না।’’

ফিল্ডিং ম্যাজিক

ক্রিকেট অভিধানে একটি প্রবাদ আছে, ‘ক্যাচেজ উইন ম্যাচেজ’। বৃহস্পতি রাতে দুটো ক্যাচ পার্থক্য গড়ে দিল। এক, হ্যারি ব্রুকের ক্যাচ মিস। দ্বিতীয়, বাউন্ডারি লাইনে অক্ষর প্যাটেলের দুরন্ত ক্যাচ। এই দুটো মুহূর্ত ছাড়া দুই দলের মধ্যে বিশেষ পার্থক্য নেই। বাউন্ডারি লাইনে অক্ষর প্যাটেলের অবিশ্বাস্য কিছু ফিল্ডিং রান বাঁচানোর পাশাপাশি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। চলতি বিশ্বকাপে ভারতকে ভুগিয়েছে ফিল্ডিং। ক্যাচ পড়েছে। চার গলেছে। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ ছেড়েছে ভারত। আগের ম্যাচের পরেও দলের ফিল্ডিংয়ে খুশি ছিলেন না সূর্য। সেই ফিল্ডিংই ওয়াংখেড়েতে জিতিয়েছে। অক্ষর প্যাটেলের দুর্দান্ত ক্যাচ, হার্দিক পাণ্ডিয়ার রান আউটের জেরে জিতেছে ভারত।

দর্শকদের কুর্নিশ সূর্য-র

খেলা শুরুর আগে থেকে যে ভাবে ওয়াংখেড়ের দর্শকেরা তাঁদের সমর্থন করেছেন তার জন্য দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন ভারত অধিনায়ক। বলেন, ‘‘আমরা ওয়ার্ম আপ করার সময়ই মাঠের ৭৫-৮০ শতাংশ ভরে গিয়েছিল। সেটা থেকেই বোঝা যায় সকলে ভারতের জয়ের জন্য কতটা আগ্রহী ছিলেন।’’ ওয়াংখেড়েতে যেন চাঁদের হাট বসেছিল। সস্ত্রীক ধোনি, সপরিবারে রণবীর কপূর, সপরিবারে অম্বানিরা, কে এল রাহুল, রোহিত শর্মা, অনিল কপূর – কে আসেননি ভারতের জয় দেখতে? ভারতের সাফল্য উদযাপন করতে? তাঁদের সামনেই ‘হিরো’ হয়ে যাচ্ছিলেন ২২ বছরের এক ইংরেজ তরুণ। ভারতের বিশ্বসেরা বোলিংকে নিয়ে ছিনিমিনি খেললেন বেথেল। বরুণ চক্রবর্তী ৪ ওভারে দিলেন ৬৪ রান। অর্শদীপ ৪ ওভারে ৫১। শিবম দুবে ১ ওভারে ২২। শেষে সেই ত্রাতা বুমরা। ফের একবার ১৪০ কোটি ভারতীয়কে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করলেন বুম বুম বুমরা…।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share