মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আপত্তি জানিয়েছিল বিজেপি। একপ্রকার বাধ্য হয়ে তাতেই সায় দিলেন রাজ্য বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তার জেরে ভোটাভুটিতে অংশ নিতে পারলেন না তৃণমূলের ৬ জন বিধায়ক। ক্রিমিনাল জাস্টিস ডেলিভারি সিস্টেম নিয়ে দুদিনের আলোচনা শেষে বুধবার ভোটাভুটি চায় বিজেপির পরিষদীয় দল।
দরজা বন্ধের নির্দেশ
বুধবার অধিবেশনের ভোটাভুটি পর্বে অধিবেশন কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন স্পিকার। এরপর শুরু হয় স্লিপ বিলি। স্লিপ বিলি শেষ হওয়ার পর শুরু হয় ভোটাভুটি পর্ব। এই সময় অধিবেশন কক্ষে ঢোকেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, পর্যটন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। উলুবেড়িয়া উত্তরের বিধায়ক নির্মল মাঝিও এই সময় ঢোকেন অধিবেশন কক্ষে। এর পরেই বিজেপি বিধায়করা স্পিকারকে সাফ জানিয়ে দেন, স্লিপ বিলির সময় যাঁরা বাইরে ছিলেন, তাঁরা ভোটাভুটিতে অংশ নিলে ওয়াকআউট করবেন তাঁরা। এই সময় বিধানসভা কক্ষে ঢুকতে যান রাজ্যের আরও দুই মন্ত্রী সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিক ও সংখ্যালঘু উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী তাজমুল হোসেন এবং জোড়াসাঁকোর বিধায়ক বিবেক গুপ্ত। স্পিকারের নির্দেশ শুনে ভোটাভুটি চলাকালীন আর ভিতরে ঢোকেননি তাঁরা।
ওয়াকআউটের সিদ্ধান্ত
বিজেপির পরিষদীয় দল জানতে চায় বাইরে থাকা মন্ত্রীরা অধিবেশন কক্ষে রয়েছেন কীভাবে? এর পর ওয়াকআউটের সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপি। স্লোগান দিতে দিতে অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান বিজেপির বেশিরভাগ বিধায়ক। এই সময় স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক মনোজ টিগ্গাকে অনুরোধ করেন, তাঁরা যেন ওয়াকআউট না করেন। তিনি এও জানান, বাইরে থাকা কোনও মন্ত্রী বা বিধায়ককে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। এর পরেই অধিবেশন কক্ষে ফেরেন পদ্ম বিধায়করা।
আরও পড়ুুন: সাংসদ পদে ইস্তফা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সহ বিজেপির ১০ জনের, তালিকায় কারা?
স্পিকার জানান, ১০১-৪২ ভোটে পাশ হয়েছে ওই প্রস্তাব। দলীয় মন্ত্রী-বিধায়কদের আচরণে ক্ষুব্ধ তৃণমূলের একাংশও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিধায়ক বলেন, এলাকার মানুষ যখন ভোট দিয়ে আমাদের বিধানসভায় পাঠিয়েছে, তখন আমাদের উচিত বিধানসভার প্রতিটি নিয়মকানুন মেনে চলা। এ ক্ষেত্রে আমাদের মন্ত্রী-বিধায়করা যে আচরণ করেছেন, তা কখনওই সমর্থনযোগ্য নয়।
দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।
Leave a Reply