মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে প্রদর্শিত বিরল সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ, ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লাকে (Shubhanshu Shukla) প্রজাতন্ত্র দিবসে দেশের সর্বোচ্চ শান্তিকালীন বীরত্ব সম্মান অশোক চক্র প্রদান করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসে (Republic Day 2026) এই সম্মান শুধু এক সৈনিকের কৃতিত্বের স্বীকৃতি নয়, বরং ভারতের মহাকাশ অভিযাত্রায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। পুরস্কারের ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, চরম প্রতিকূল পরিবেশে অসাধারণ সাহস, মানসিক দৃঢ়তা এবং মিশনের সাফল্যের প্রতি অটল নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন শুভাংশু শুক্লা—যেখানে সামান্য ভুলও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
শুভাংশুকে কেন অশোক চক্র
কর্তব্যপথে প্রজাতন্ত্র দিবসের (Republic Day 2026) মহামঞ্চে সোমবার নজির গড়লেন ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা (Shubhanshu Shukla)। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে পেলেন দেশের সর্বোচ্চ শান্তিকালীন বীরত্ব সম্মান ‘অশোক চক্র’। সাধারণত সন্ত্রাস দমন, দুর্যোগ মোকাবিলা কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বীরত্বের জন্য অশোক চক্র প্রদান করা হয়। মহাকাশ অভিযানের জন্য একজন কর্মরত বায়ুসেনা অফিসারকে এই সম্মান প্রদান ভারতের জাতীয় পরিষেবার ধারণার বিবর্তনকেই তুলে ধরছে, বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সক্ষমতার নতুন দিগন্তে দেশ যখন এগিয়ে চলেছে।
শুভাংশুর সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা
একজন দক্ষ পরীক্ষামূলক পাইলট ও ভারতের অন্যতম শীর্ষ মহাকাশচারী হিসেবে পরিচিত শুভাংশু শুক্লা (Shubhanshu Shukla) দেশের মানব মহাকাশ কর্মসূচির অগ্রভাগে রয়েছেন। মাইক্রোগ্র্যাভিটি ও সীমিত কক্ষপথের পরিবেশে কাজ করার জন্য প্রশিক্ষিত শুক্লার এই মিশনে প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি প্রয়োজন হয়েছিল চরম মানসিক স্থিতি ও মুহূর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। অভিযানের সময় কক্ষপথে জটিল কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জের মুখেও তিনি অসাধারণ নেতৃত্ব ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা প্রদর্শন করেন, যার ফলে ক্রুদের নিরাপত্তা ও মিশনের লক্ষ্য সফলভাবে পূরণ হয়। পুরস্কার প্রদানকালে রাষ্ট্রপতি শুভাংশু শুক্লার সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন এবং বলেন, ব্যক্তিগত ঝুঁকি গ্রহণে প্রস্তুত এমন মানুষদের হাত ধরেই ভারতের মহাকাশযাত্রা এগিয়ে চলেছে।
তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা শুভাংশু
২০২৫ সালে অ্যাক্সিয়ম (Axiom 4) মিশনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাড়ি দিয়েছিলেন শুক্লা। উইং কমান্ডার রাকেশ শর্মার পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে মহাকাশে পা রেখে ইতিহাস গড়েন তিনি। কঠিন পরিস্থিতি, জটিল সিদ্ধান্ত ও প্রতিকূল পরিবেশেও তাঁর নির্ভুল নেতৃত্ব, শান্ত মস্তিষ্ক ও কর্তব্যবোধ এই সম্মানের উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়েছে। মহাকাশে অবস্থানের সময় বহু বৈজ্ঞানিক গবেষণা সম্পন্ন করেন শুক্লা। কৃষিক্ষেত্রেও অনন্য পরীক্ষা চালিয়ে সফলভাবে মেথি ও মুগ ডালের চাষ করেন শূন্য মহাকর্ষে যা ভবিষ্যতের মহাকাশ কৃষি গবেষণার সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর সাহসিকতা ও অবদান শুধু ভারত নয়, বিশ্ব মহাকাশ গবেষণায়ও এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। তরুণ প্রজন্মের কাছে তাঁর কীর্তি অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

Leave a Reply