Gen Naravane Memoir Row: জেনারেল নারাভানে স্মৃতিকথা বিতর্ক! কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষা কর্মীদের বই প্রকাশে নির্দেশিকা আনছে কেন্দ্র

Gen Naravane memoir row

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নারাভানের (Gen Naravane Memoir Row) অপ্রকাশিত বইকে ঘিরে বিতর্কের জেরে কেন্দ্র সরকার কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটছে। ‘ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি’ (Four Stars of Destiny) শীর্ষক এই অপ্রকাশিত বইটি সম্প্রতি আলোচনায় আসে। লোকসভায় চলতি বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বইটির কিছু অংশ উদ্ধৃত করার চেষ্টা করেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সেনাপ্রধান ছিলেন নারাভানে। তাঁর ‘অপ্রকাশিত’ বইয়ের কিছু অংশ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে একটি ম্যাগাজিনে। যার পর শুরু হয়েছে বিতর্ক।

সেনা কর্মীদের জন্য কঠোর নির্দেশিকা

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের বই প্রকাশ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বিষয়ে সম্প্রতি একটি বৈঠক হয়েছে এবং সেখানে বিস্তারিত উপস্থাপনাও করা হয়েছে। প্রস্তাবিত নির্দেশিকায় সার্ভিস রুলস এবং অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট (ওএসএ)-এর বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সম্প্রতি জেনারেল নারাভানের অপ্রকাশিত বইকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের সূত্রপাত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে স্পষ্ট ও কঠোর নিয়ম প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কেন্দ্রের মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যের সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই নতুন নির্দেশিকা তৈরি করা হচ্ছে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কর্তব্যরত অবস্থায় সেনা আধিকারিক বা আমলাদের বই প্রকাশের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিয়ম রয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদের ক্ষেত্রে কী নিয়ম প্রযোজ্য, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। ১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট অনুযায়ী, গোপন কোনও তথ্য, স্পর্শকাতর কোনও কথোপকথন, যাতে জাতীয় নিরাপত্তা বা বিদেশনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তা খোলসা করা যায় না। আবার সেন্ট্রাল সিভিল সার্ভিসেস পেনশন রুল ২০২১ সালে সংশোধন করা হয়, যাতে বলা হয়েছে, কাজ সংক্রান্ত কোনও রকম লেখা প্রকাশ করতে গেলে তাঁর আগের সংস্থার বর্তমান প্রধানের ছাড়পত্র প্রয়োজন। নিয়ম না মানলে পেনশন তুলতে সমস্যা হতে পারে। দেশের তিন বাহিনী এর অন্তর্ভুক্ত না হলেও, তাঁরাও বিধিনিয়ম মেনে চলবেন বলে প্রত্যাশা করা হয়।

কী থাকতে পারে নতুন নিয়মে?

নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হবে, কোনো পাণ্ডুলিপি প্রকাশের আগে কী প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। যদি বইয়ে সামরিক অভিযান, কৌশল বা সংবেদনশীল তথ্য সংক্রান্ত বিষয় থাকে, তবে লেখককে তা প্রকাশের আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে জমা দিয়ে অনুমোদন নিতে হবে। যথাযথ যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক প্রকাশের অনুমতি দেবে। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের বই লেখার বিষয়ে একক কোনো আইন নেই। কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য। তবে উভয় ক্ষেত্রেই জাতীয় নিরাপত্তা ও গোপন তথ্য সুরক্ষা সর্বাধিক গুরুত্ব পায়। অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট অনুযায়ী, গোপন বা সংবেদনশীল সামরিক তথ্য প্রকাশ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইন অবসর গ্রহণের পরও আজীবন প্রযোজ্য থাকে।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share