Iran-US Conflict : ‘আর হামলা নয়’… প্রতিবেশীদের সঙ্গে শত্রুতা নেই, হঠাৎ সুর নরম ইরানের

iran us conflict no more attacks president apologises to neighbours after gulf strikes

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে পশ্চিম এশিয়ার সর্বত্র। ইজরায়েল-আমেরিকার (Iran-US Conflict) যৌথ অভিযানের প্রত্যাঘাত স্বরূপ পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে হামলা চালায় তেহরান। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত থেকে ওমান, বাহরিন… মুহুর্মুহু ইরানি মিসাইলে কেঁপে উঠেছে। তবে, এবার থেকে আর প্রতিবেশী দেশগুলিতে হামলা চালাবে না ইরান। প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। জানালেন, ইরানের উপর মার্কিন বা ইজরায়েলি হামলায় মদত না দিলে আর কোনও প্রতিবেশী দেশকে তাঁরা আক্রমণ করবেন না। তবে একই সঙ্গে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন পেজেশকিয়ান।

হঠাৎ কেন সুর নরম

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন,“আমি প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির কাছে ক্ষমা চাইছি। অন্য দেশগুলির উপর আক্রমণের কোনও ইচ্ছা ছিল না আমাদের।” এরপর তাদের উপর আর কোনও হামলা না হলে, তাহলেও তারাও পাল্টা হামলা চালাবে না প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির উপর। উপসাগরীয় এলাকার দেশগুলির সঙ্গে ইরানের শত্রুতা নেই। শনিবার যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। কখন যুদ্ধ শেষ হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েই চলেছে। গত শনিবার মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর প্রাথমিক ভাবে একটি অন্তর্বর্তী কাউন্সিল গঠন করেছিল তেহরান। প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের সেই কাউন্সিলের হাতেই আপাতত রয়েছে দেশ চালানোর ভার। পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, সেই অন্তর্বর্তী কাউন্সিল প্রতিবেশীদের আর আক্রমণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভুল বোঝাবুঝির কারণে এই পরিস্থিতি

মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার প্রত্যাঘাত করতে গিয়ে বিভিন্ন দেশের মার্কিন ঘাঁটি আক্রমণ করছিল তেহরান। অনেক দেশ এই আচরণের সমালোচনা করেছে। বলা হয়েছে, অযথা শান্তিপূর্ণ দেশগুলিকে যুদ্ধে টেনে আনছে ইরান। তবে তেহরানও সিদ্ধান্তে এত দিন অনড় ছিল। তাদের দাবি, এই পরিস্থিতির জন্য আমেরিকা এবং ইজরায়েল দায়ী। কারণ, যুদ্ধ তারা শুরু করেনি। অবশেষে তেহরান কিছুটা সুর নরম করল। পেজেশকিয়ানের দাবি, সামরিক বাহিনীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আর ইরান অযথা কোনও প্রতিবেশীর উপর হামলা চালাবে না। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর এই ঘোষণা আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর একটি প্রচেষ্টা হতে পারে।

ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের উপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছেন। ইরানের “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” দাবি করেছেন তিনি। তবে, পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনওভাবেই তাঁরা আত্মসমর্পণ করবে না। পেজেশকিয়ান জানান, এই ধরনের প্রত্যাশা অবাস্তব। ইরানের আত্মসমর্পণের স্বপ্ন তাঁদের স্বপ্নই থেকে যাবে। শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানান, অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ আক্রমণ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইরান কোনওভাবেই যুক্তরাষ্ট্র বা ইজরায়েলের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। তাঁর কথায়, শত্রুরা যদি মনে করে ইরানের জনগণ আত্মসমর্পণ করবে, সেই আশা তাদের কবর পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে। এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, উত্তেজনা কমানোর বার্তা দিলেও ইরান এখনও কঠোর অবস্থানেই রয়েছে।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share