T20 World Cup 2026: বজরংবলীর প্রার্থনা, এবার লক্ষ্য অলিম্পিক্স! অধিনায়ক হিসেবে প্রথম বিশ্বজয়ের পর কী বললেন সূর্য?

t20 world cup 2026 olympic gold next target said team india captain surya kumar yadav

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সূর্যকুমার যাদব। অধিনায়ক হিসাবে প্রথম বার বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) নেমেই চ্যাম্পিয়ন। তবে এখনই থামতে রাজি নন তিনি। এবার লক্ষ্য অলিম্পিক ক্রিকেটে প্রথম সোনাজয়। বিশ্বজয়ের রাতেই নিজের পরের দুই লক্ষ্যের কথা জানিয়ে দিলেন সূর্য। বিশ্বকাপ জিতে সাংবাদিক বৈঠকের শুরুতই চমক দেন সূর্য (Surya Kumar Yadav)। মহিলা সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তাঁকে আন্তর্জাতিক নারীদিবসের শুভেচ্ছা জানান। তার পর তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভারত অধিনায়ক হিসেবে তাঁর পরের লক্ষ্য কী। তিনি বলেন, “সবে তো শুরু। এর পরের লক্ষ্য হল ২০২৮ সালের অলিম্পিক্সে সোনা জেতা। সেই বছরই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেটাও জিততে নামব।” একইসঙ্গে কৃতজ্ঞতা জানালেন ঈশ্বরের প্রতি। মাঠ থেকেই সোজা গুরু গম্ভীর ও আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ-র সঙ্গে গেলেন স্থানীয় বজরংবলীর মন্দিরে পুজো দিতে।

প্রথম বারই অলিম্পিকে সোনা জয়

২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হবে। প্রথম বারই সোনা জেতার লক্ষ্যে নামবেন সূর্য। পাশাপাশি দু’টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কও হতে চান তিনি। পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও ২০২৮-এ। ততদিন নিজেকে ধরে রাখতে চান সূর্য। আমেদাবাদের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে সূর্য বলেন, “এই গল্পটা ২০২৪ সালে শুরু হয়েছিল। জয় ভাই তখন সচিব ছিলেন। উনি আমার উপর ভরসা দেখিয়েছিলেন। রোহিত ভাইও আমার হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন। তার পর থেকে অনেক পরিকল্পনা করেছি। অনেক পরিশ্রম করেছি। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ জয়ের অভ্যাস এবারও ধরে রেখেছি।”

গুরু গম্ভীরে আস্থা, বুমরা জাতীয় সম্পদ

সূর্য জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের সম্পর্ক খুব ভালো। ভারত অধিনায়ক বলেন, “গৌতি ভাইয়ের অধীনে আমি চার বছর খেলেছি। ওকে খুব ভালোভাবে চিনি। আমাদের ভাবনা মেলে। আমরা দু’জনেই দলের ভালোর কথাই ভাবি। সেটাই আমাদের লক্ষ্য। গৌতি ভাইকে আমি চোখ বন্ধ করে ভরসা করি।” বিশ্বকাপ জিতে বুমরার কথা শোনা গিয়েছে সূর্যের মুখে। আগের দিন সঞ্জু স্যামসন জানিয়েছিলেন, এক প্রজন্মে বুমরার মতো ক্রিকেটার একজনই আসে। আরও খানিকটা এগিয়ে গেলেন সূর্য। তিনি বললেন, “সঞ্জু আগের দিন বলেছিল, বুমরার মতো বোলার এক প্রজন্মে একজনই আসে। আমি বলব, বুমরা জাতীয় সম্পদ। ও জানে ওকে কী করতে হবে, কীভাবে করতে হবে। আমাকে কিছু বলতে হয় না।”

সাজঘরে বাক্‌স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ

সূর্যের মতে, দলের প্রত্যেকে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রত্যেকের কথা আলাদা ভাবে শোনেন তিনি। অধিনায়ক বলেন, “গত দু’বছর ধরে এই কাজটাই করছি। একটা ভালো সাজঘর তৈরি করেছি। কারও কোনও সমস্যা থাকলে তাকে নৈশভোজে নিয়ে যাই। কথা শুনি। আমি প্রত্যেকের কথা শুনি। কারণ আমার মতে, প্রত্যেকের যদি বাক্‌স্বাধীনতা না থাকে, তা হলে সেই দল সফল হতে পারে না। তাই সকলের কথা শোনাটা জরুরি। সেই কারণেই ওরা আমার কথাও শোনে।” ক্রিকেটারের জীবনে সাফল্যের চেয়েও ব্যর্থতা বেশি আসে বলে মনে করেন সূর্য। তবে তার মধ্যেই এগিয়ে যেতে হয়। সূর্য বলেন, “জীবনে উত্থান-পতন হবেই। গত বছর একটাও অর্ধশতরান করতে পারিনি। আমারও কঠিন সময় গিয়েছে। কিন্তু নিজের উপর ভরসা রেখেছি। পরিশ্রম করেছি। সকলকেই সেটা করতে হবে। এটাই জীবনে এগিয়ে যাওয়ার মন্ত্র।”

ট্রফি হাতে হনুমান মন্দিরে আরাধনা

আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের পাশেই রয়েছে হনুমান টেকরি মন্দির। সাংবাদিক বৈঠকের পর মাঠ থেকেই মন্দিরে বজরংবলীর আশীর্বাদ নিতে যান সূর্য। তাঁর সঙ্গে ছিলেন গুরু গৌতম গম্ভীর। সঙ্গে ছিলেন আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ। তিন জন মিলে পুজো দেন। সূর্যের গলায় ছিল গাঁদা ফুলের মালা। পুজো দেওয়ার পর আবার স্টেডিয়ামে ফেরেন তাঁরা। সেখান থেকে দলের সঙ্গে হোটেল যান কোচ ও অধিনায়ক। ঈশ্বরের আশীষ নিয়েই আগামী লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে চান ভারতীয় ক্রিকেটের নয়া সূর্য।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share