Presidential Protocol Issue: রাষ্ট্রপতিকে ‘অসম্মান’! দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক ও শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকে ডেপুটেশনে চাইল কেন্দ্র

presidential protocol issue centre seeks siliguri cp darjeeling dm on deputation

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতির সফরে প্রোটোকল-স্থান (Presidential Protocol Issue) বদল বিতর্কে নতুন মোড়। বিতর্কের আবহেই ২ অফিসারকে চেয়ে রাজ্যকে চিঠি কেন্দ্রের। প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের সিপিকে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে চাইল কেন্দ্র। রাষ্ট্রপতির সফরের দায়িত্বে ছিলেন দার্জিলিংয়ের ডিএম মণীশ মিশ্র। তাঁকে ডেপুটেশনে চেয়েছে কেন্দ্র।

কেন এই পদক্ষেপ

গত ৭ মার্চ শিলিগুড়ির গোঁসাইপুরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Draupadi Murmu) অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের জল গড়াল অনেক দূর। নিরাপত্তা ও স্থান পরিবর্তন সংক্রান্ত অব্যবস্থাপনা এবং ‘অসৌজন্যের’ অভিযোগ খতিয়ে দেখে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। রাজ্যের পাঠানো রিপোর্ট পর্যালোচনার পর দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক মণীশ মিশ্র এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সি সুধাকরকে ডেপুটেশনে চাইল কেন্দ্র। এই দুই আইপিএস ও আইএএস অফিসারই বেঙ্গল ক্যাডারে রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। এই সমস্ত উচ্চ পদমর্যাদার অফিসারদের ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ফলে তারাই এই দুই অফিসারকে ডেপুটেশনে চাইছে।

যেতেই হবে ডেপুটেশনে

রাষ্ট্রপতি যেহেতু দেশের সংবিধানিক প্রধান তাই তাঁর নিরাপত্তা বা প্রোটোকলে কোনও গাফিলতি হয়ে থাকলে সে ক্ষেত্রে কেন্দ্র চাইলে রাজ্য সরকারকে কিছু না বলেও কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে তাঁদের তুলে নিতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট আইপিএস (ক্যাডার) রুলস, ১৯৫৪-এর রুল ৬(১)-এর বৈধতা নিশ্চিত করেছে। এই নিয়ম অনুযায়ী আইপিএস অফিসারদের ট্রান্সফার ও ডেপুটেশন নিয়ে রাজ্যের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র প্রয়োজনে অগ্রাহ্য করতে পারে। এখন কোনও রাজ্য সরকার যদি নির্বাচিত অফিসারকে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে পাঠাতে অস্বীকার করে, তবে সেই অফিসারকে ৫ বছরের জন্য কেন্দ্রীয় ডেপুটেশন থেকে নিষিদ্ধ করা যেতে পারে। ২০১১ ব্যাচ বা তার পরের আইপিএস অফিসারদের জন্য কমপক্ষে ২ বছরের কেন্দ্রীয় ডেপুটেশন বাধ্যতামূলক, নইলে তাঁরা ইন্সপেক্টর জেনারেল পদে এমপ্যানেলমেন্টের জন্য যোগ্য হবেন না।

অসন্তুষ্ট রাষ্ট্রপতি, কী ঘটেছিল

সাঁওতালদের একটি আন্তর্জাতিক সংগঠনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে উত্তরবঙ্গ সফরে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে শেষ মুহূর্তে মূল অনুষ্ঠানস্থল পরিবর্তন করা হয়, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বয়ং রাষ্ট্রপতি। পরবর্তীতে ফাঁসিদেওয়ার বিধাননগরে সন্তোষিনী বিদ্যাচক্রের মাঠ পরিদর্শনকালে তিনি মন্তব্য করেন যে, ওই মাঠে আরও বেশি সাধারণ মানুষের সমাগম হতে পারত। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রীর নাম করে তিনি বলেন, “উনি আমার ছোট বোনের মতো। কিন্তু হয়তো কোনও কারণে উনি আমার উপর রুষ্ট হয়েছেন। যে কারণে সভা করতে দিলেন না।” রাষ্ট্রপতিকে ‘অসম্মান’ নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সত্যিই সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অসম্মানের জন্য তাদের প্রশাসনই দায়ী।” এরপর তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে এই নিয়ে রাজনৈতিক তরজা বাড়তে থাকে। দুই দলেরই একাধিক নেতা এই নিয়ে পরস্পরকে তোপ দাগেন।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share