মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের নয়া প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের (Balendra Shah) শপথ ঘিরে সাজ সাজ রব। শঙ্খধ্বনি, ঘণ্টা-ঘড়িয়ালের আওয়াজ এবং বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে ২৬ মার্চ শুক্রবার, শপথ নিলেন বলেন্দ্র। তাঁর শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ। এই দিনটি চৈত্র নবরাত্রির একটি গুরুত্বপূর্ণ তিথি। হিন্দুদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব রাম নবমীর দিনই শপথ নিলেন বলেন্দ্র। স্থানীয় সময় অনুযায়ী দুপুর ১২টা ৪৪ মিনিটে নির্ধারিত হয়েছে শপথের শুভ মুহূর্ত। একই সময়ে অযোধ্যার রামমন্দিরে চলেছে বিশেষ পুজো, ফলে ধর্মীয় আবহে এক অনন্য সংযোগ তৈরি হয়েছে দুই দেশের মধ্যে।
ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মেলবন্ধন
গত বছরে নেপালে জেন জি আন্দোলনের জেরে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে। তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে হওয়া এই আন্দোলনের ফলে তৎকালীন সরকার ভেঙে দেওয়া হয় এবং নতুন করে নির্বাচনের পথ খুলে যায়। সেই আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন বলেন্দ্র শাহ। সাধারণ মানুষের সমর্থন পেয়ে তিনি এখন দেশের নেতৃত্ব গ্রহণ করলেন। ফলে এই শপথগ্রহণ শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এক নতুন যুগের সূচনার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজনেও ছিল ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পঞ্জিকা মেনে শুভ মুহূর্ত নির্ধারণ করা হয়। অনুষ্ঠানে ১০৮ জন হিন্দু বটুক স্বস্তিবাচন করেন, যা শুভ ও মঙ্গলজনক বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি ১০৭ জন বৌদ্ধ লামা গুরু মঙ্গল পাঠ করেন, যা বৌদ্ধ ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটায়। এর মাধ্যমে নেপালের বহুধর্মীয় ঐক্য ও সহাবস্থানের চিত্র ফুটে ওঠে।
পবিত্রতার বার্তা, রামায়নে প্রেরণা
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে, সাতজন ব্রাহ্মণ শঙ্খধ্বনি করেন, যার মাধ্যমে অনুষ্ঠানস্থল জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে পবিত্রতার বার্তা। পুরো পরিবেশ একাধারে আধ্যাত্মিক ও ঐতিহ্যবাহী আবহে ভরে ওঠে। এই আয়োজন নেপালে সনাতন ধর্মের গভীর প্রভাবকেই প্রতিফলিত করে। উল্লেখ্য, নেপালের প্রায় ৮১.১৯ শতাংশ জনগণ হিন্দু, যা সংখ্যায় প্রায় ২ কোটি ৩৭ লক্ষ। বলেন্দ্র শাহ তাঁর নির্বাচনী প্রচারেও বারবার রামায়ণ-এর প্রতীকী ব্যবহার করেছিলেন। তিনি প্রচার শুরু করেছিলেন জনকপুর থেকে, যা সীতার জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রামায়ণ-সংক্রান্ত এই প্রতীকী পদক্ষেপ এবং রাম নবমীর দিনে শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত দেশের হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।

Leave a Reply