মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চোখের জলে বিদায় সুরের সম্রাজ্ঞীকে। শিবাজী পার্ক শ্মশানে সম্পন্ন হল আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য। ত্রিবর্ণ পতাকায় মোড়া দেহ, শেষ শ্রদ্ধায় ভিড় উপচে পড়ল মুম্বইয়ের রাজপথে। কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলেকে (Asha Bhosle Died) বিদায় জানাতে আবেগে ভাসল দেশ। উপস্থিত সচিন থেকে আমির খান। চোখে জল সকলের!
শোকের আবহ
মুম্বইয়ের লোয়ার পারেলে শোকের আবহ। সোমবার শেষযাত্রার আগে আশা ভোসলেকে তাঁর বাসভবনেই শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন তাঁর পরিজন ও অনুরাগীরা। কাসা গ্র্যান্ডে শিল্পীর বাড়িতে সোমবার পৌঁছে যান মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস। সেখানেই প্রয়াত শিল্পীকে শেষশ্রদ্ধা জানান তিনি। আশার শায়িত দেহে দেশের জাতীয় পতাকা জড়িয়ে দেওয়া হয় এই দিন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মান জানানো হয় তাঁকে। বলিউডের বহু তারকা এসে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। আশার পরিবারের সকলেও সোমবার শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। তারকাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রিতেশ দেশমুখ, তব্বু। সপরিবার শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন সচিন তেন্ডুলকরও। গোটা পরিবেশ এদিন ছিল গম্ভীর ও স্তব্ধ। নীরবতা, প্রার্থনা আর আবেগে ভরা এক আবহে চলে শেষ শ্রদ্ধা জানানো। বিকেল ৪টের সময়ে শিবাজী পার্কে আশার শেষকৃত্য (Asha Bhosle Funeral) সম্পন্ন হয়। শনিবার আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন আশা ভোসলে। খবর ছড়াতেই উদ্বেগ ছড়ায় অনুরাগীদের মধ্যে। সকলে প্রার্থনা শুরু করেছিলেন।তবে শেষরক্ষা হয়নি। রবিবার প্রয়াত হন আশা ভোসলে।
সব ধরনের গানেই সমান সাবলীল
ভারতীয় সংগীতে আশা ভোঁসলের অবদান অনস্বীকার্য। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে গজল, ক্যাবারে থেকে আধুনিক—সব ধরনের গানেই সমান সাবলীল ছিলেন তিনি। গানের সংখ্যা এবং বৈচিত্র—দুই ক্ষেত্রেই ছিলেন অনন্য। একদিকে যেমন ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘দম মারো দম’, ‘ইয়ে মেরা দিল’–এর মতো ক্যাবারে ও ওয়েস্টার্ন ধারার গান। অন্য দিকে আবার ‘ইন আঁখোঁ কি মস্তি’, ‘মেরা কুছ সামান’, ‘দিল চিজ় ক্যা হ্যায়’–এর মতো গজল ও আধুনিক সুরে তিনি শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন। তাঁর নাম রয়েছে সর্বাধিক স্টুডিও রেকর্ডিংয়ের বিশ্বরেকর্ডে। দিদি লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে মিলেই হিন্দি চলচ্চিত্র সংগীতের সোনালি যুগ গড়ে তুলেছিলেন তিনি। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে বদলে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা তাঁকে সকলের থেকে আলাদা করেছে বরাবর। তিনি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন, ২০০৮ সালে পেয়েছেন পদ্মভূষণ। এ ছাড়া, ১৯৯৭ সালে গ্র্যামির জন্য মনোনীত হয়েছিলেন তিনি। গোটা কেরিয়ারের শুরুটা হয়েছিল শৈশবে, বাবার মৃত্যুর পর। তারপর দীর্ঘ পথচলায় একের পর এক সাফল্য, স্মরণীয় গান আর অগণিত অনুরাগী—সব মিলিয়ে গড়ে ওঠে এক অমলিন উত্তরাধিকার। তাঁর প্রয়াণে সেই অধ্যায়েরই অবসান কিন্তু রয়ে গেল তাঁর গান, যা বেঁচে থাকবে চিরকাল।

Leave a Reply