মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের নাসিকে টিসিএস-এর বিপিও ইউনিটে এক বড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আটজন মহিলা কর্মী যৌন হেনস্থা, মানসিক নির্যাতন এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের চেষ্টার অভিযোগ সামনে আনায় পুলিশ বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। ইতিমধ্যে একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং মোট সাতজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন সংস্থার এক সিনিয়র এইচআর ম্যানেজার অশ্বিনী, যিনি পস (Prevention of Sexual Harassment) কমিটির সদস্যও ছিলেন। ফলে সংস্থার অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগের মূল দিক
অভিযোগকারী কর্মীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের উপর মানসিক ও যৌন নির্যাতন চলছিল। বারবার অভিযোগ জানানোর পরও এইচআর বিভাগ নাকি কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করেনি, ফলে নির্যাতন অব্যাহত ছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে চলা ঘটনাগুলির সঙ্গে যুক্ত অন্তত ৯টি এফআইআর খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগ চাপা দেওয়া বা ভুলভাবে পরিচালনার সম্ভাবনাও উঠে এসেছে।
ধর্মীয় চাপের অভিযোগ
মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী গিরীশ মহাজন দাবি করেছেন, ভুক্তভোগীদের নামাজ পড়তে বাধ্য করা, গরুর মাংস খেতে চাপ দেওয়া এবং ধর্মান্তরের চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পরে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেল করার একটি বড় চক্র থাকতে পারে।
৭৮টি ইমেল ও চ্যাট তদন্তের কেন্দ্রে
সরকারি কৌঁসুলি কিরণ বেন্ধভারের বক্তব্য অনুযায়ী, সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ইমেল আদান-প্রদান এখন তদন্তের মূল বিষয়। পুলিশ ইতিমধ্যে ৭৮টি ইমেল ও চ্যাট রেকর্ড জব্দ করেছে। এছাড়া অভিযুক্তদের ব্যাংক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কল রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ চলছে। অফিসের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের তথ্যও পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে অভিযোগ ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা বা চাপা দেওয়া হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আন্ডারকভার অপারেশন
তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে গোপন অভিযান চালায়। মহিলা কনস্টেবলদের হাউসকিপিং স্টাফ সেজে অফিসে রাখা হয়। এই অভিযানে হেনস্থা ও ধর্মীয় চাপের প্রমাণ মেলে বলে দাবি তদন্তকারীদের। অভিযুক্তদের মধ্যে ড্যানিশ শেখ নামে এক কর্মীর বিরুদ্ধে বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলা, ধর্ষণ এবং ধর্মীয় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তৌসিফ আত্তারের ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া ছবির ভিত্তিতে আরও অভিযোগ সামনে আসে। টিসিএস (Tata Consultancy Services) জানিয়েছে, সংস্থা “যেকোনও ধরনের হেনস্থা বা জোরজবরদস্তির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি” মেনে চলে। সমস্ত অভিযুক্ত কর্মীকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাসপেন্ড করা হয়েছে।

Leave a Reply