CM Suvendu Adhikari: হাসপাতাল চত্বরে দালালরাজ বরদাস্ত করা হবে না, এসএসকেএমে বৈঠকে একগুচ্ছ নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

cm suvendu adhikari in sskm address the state government hospital issues a series of directives

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে শুক্রবার এসএসকেএম হাসপাতালে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ আধিকারিক, স্বাস্থ্য অধিকর্তা, কলকাতার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের অধ্যক্ষ, দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ও চিকিৎসকেরা। কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলার ১২টি মেডিক্যাল কলেজ সরকারি হাসপাতালের অধ্যক্ষ এবং মেডিক্যাল সুপারদের সঙ্গে এদিন বৈঠক সারেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। বিজেপির দুই জয়ী ডাক্তার বিধায়ক, বিধাননগর থেকে জয়ী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী ইন্দ্রনীল খাঁও এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

কেন্দ্র ও রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার মধ্যে সংযোগ স্থাপন

অতীতে স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে একাধিক অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। এই অভিযোগের জায়গাগুলিতে কীভাবে উন্নতি করা যায়, কীভাবে ভুলত্রুটি সংশোধন করা যায় এবং এ বিষয়ে সরকারি আধিকারিকদের কী কী করণীয়, সেই নিয়ে কথা বলতেই এসএসকেএম হাসপাতালে পৌঁছন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu in SSKM)। কেন্দ্র ও রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই কারণে কেন্দ্রীয় সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের আধিকারিকদেরও এই বৈঠকে ডাকা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত থাকছেন কেন্দ্র সরকারের অধীনস্ত চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের অধিকর্তা। রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিকর্তা, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা এই বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন। কলকাতার সবকয়টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পদাধিকারীদের ডাকা হয়েছে এই বৈঠকে।

দালাল-রাজ মানা হবে না

হাসপাতাল সূত্রের খবর, বৈঠকে হাসপাতালগুলির বেহাল অবস্থা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলিতে সক্রিয় দালালচক্র এবং রোগী রেফার করে বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর প্রবণতা নিয়ে কড়া বার্তা দেন তিনি। স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনও ভাবেই হাসপাতাল চত্বরে দালালরাজ বরদাস্ত করা হবে না। এই ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

‘ওয়ার রুম’ তৈরির সিদ্ধান্ত

রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই অভিযোগ জমছিল। রোগী ভোগান্তি, বেডের অভাব, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য থেকে শুরু করে চিকিৎসা পরিষেবার নানা ত্রুটি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছিল। সেই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর সরাসরি নজরদারি চালাতে স্বাস্থ্যভবনে একটি বিশেষ ‘ওয়ার রুম’ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালগুলির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মুখ্যমন্ত্রী

হাসপাতালের সেই ওয়ার রুমের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের সরাসরি সংযোগ থাকবে বলে জানা গিয়েছে। হাসপাতালগুলির পরিস্থিতি, বেডের অবস্থা, রোগী পরিষেবা এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। মেডিক্যাল কলেজগুলিতে ডাক্তারি পড়ুয়াদের নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। ক্যাম্পাস চত্বরে বহিরাগতদের আনাগোনা বন্ধ করতে বলা হয়েছে। এছাড়াও রাজ্যজুড়ে অ্যাপ নির্ভর অ্যাম্বুল্যান্স ব্যবস্থা তৈরি করা হবে। অ্যাম্বুল্যান্সগুলিতে জিপিএস ট্র্যাকার থাকবে।

হাসপাতালগুলিতে বেড সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ

বাংলায় সরকারি হাসপাতালগুলিতে বেহাল দশা স্বাস্থ্য পরিষেবার। হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গেলে অনেক সময় মেলে না বেড। মেঝেতে শুয়েই চিকিৎসা চলে রোগীদের। এই নিয়ে রয়েছে ভুড়ি ভুড়ি অভিযোগ। এদিনের বৈঠকে হাসপাতালগুলিতে বেড সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিটি হাসপাতালে ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই বোর্ডে হাসপাতালের মোট বেড সংখ্যা, কতগুলি বেড খালি রয়েছে এবং কতজন রোগী ভর্তি রয়েছেন, সেই তথ্য রিয়েল টাইমে দেখাতে হবে। প্রশাসনের মতে, এর ফলে রোগী ও তাঁদের পরিবারের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে। একই সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালগুলির ১৫ শতাংশ বেড সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য ব্যবহারের বিষয়েও খুব শীঘ্রই বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী বলে সূত্রের খবর। কেন্দ্রীয় হসপিটালের বেড নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে চুক্তি হবে।

হাসপাতালগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার

এছাড়াও সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে সমস্ত কর্মীর জন্য আইডি কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হাসপাতালের ভিতরে কে কর্মরত এবং কে বহিরাগত, তা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে। মেডিক্যাল কলেজগুলিতেও নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তিনি যে নির্দেশগুলো দিয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে-রোগী কল্যাণ সমিতিতে পলিটিকাল লোক রাখা চলবে না। বৈধ আইডি কার্ড দিতে হবে ৩১ মে’র মধ্যে। এর ফলে হাসপাতালে বহিরাগত বা দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা সহজ হবে। ডাক্তার ও স্টাফেদের জন্য আলাদা কার্ড থাকবে বলেও জানানো হয়েছে ওই বৈঠকে।

রিয়েল টাইম ট্র্যাকিং

এবার থেকে রিয়েল টাইম ট্র্যাকিং হবে। রোগী কল্যাণ সমিতি চালু রাখতে হবে। পলিটিকাল লোক রাখা চলবে না। হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডে চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত না এমন লোক রাখবেন না। অবৈধ স্ট্রাকচার থাকলে হসপিটাল ভাঙতে হবে হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের পুনর্গঠন করতে হবে। আর এই রিয়েল টাইম ট্র্যাকিংয়ের সাহায্যে কোথায় কয়টি বেড আছে তা সরাসরি দেখতে পারবেন রোগীর পরিজনরা।

স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব

আগামী পাঁচ বছর স্বাস্থ্য পরিষেবা কীভাবে চলবে, কীভাবে স্বাস্থ্য প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো যায়, যাতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ, অভিযোগ কমে, এই বৈঠকের মাধ্যমে সেই গতিপ্রকৃতিই নির্ধারণ করা হয় বলে অনুমান। উল্লেখ্য, এখনও পর্যন্ত স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতেই রয়েছে। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রেই অবস্থিত রাজ্যের বৃহত্তম সরকারি হাসপাতাল এসএসকেএম। ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেই প্রশাসনিক মহলের ধারণা। মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েই শুভেন্দু বলেছিলেন, কথা কম কাজ বেশি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে শুভেন্দুকে একেবারে দাবাং মুডে দেখা যাচ্ছে। এদিন এসএসকেএম-এর বৈঠকে মূলত ‘দালালরাজ’ নির্মূল করা এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়।

 

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share