WB Municipal Crisis: পদ্ম-জোয়ারে ভাসছে বাংলা, পদত্যাগের হিড়িক রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায়

wb municipal crisis tmc councillors resign firhad hakim

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যজুড়ে বইছে পরিবর্তনের সুপবন! তৃণমূল সরকারের পতন ঘটতেই পদ্ম-জোয়ারে ভাসছে বাংলা (WB Municipal Crisis)। বহু পুরসভার বোর্ড ভেঙে গিয়েছে। পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে পুরভোটের আগেই ভেঙে যেতে পারে রাজ্যের আরও বহু পুরবোর্ড। তৃণমূলের (TMC) একটি অসমর্থিত সূত্রের খবর, কলকাতা পুরসভার মেয়র তথা সদ্য মন্ত্রিত্ব খোয়ানো তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমও ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। যদিও খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটের বাড়িতে কাউন্সিলরদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে নির্দেশ দিয়েছেন, কেউ পদত্যাগ করবেন না। তারপরেও বদলায়নি রাজ্যের পুর-পরিস্থিতির ছবি। শুধু তা-ই নয়, কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক পুরনিগমেও দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা।

কাউন্সিলরদের ইস্তফার হিড়িক (WB Municipal Crisis)

দিন দুই আগেই হালিশহর পুরসভার ১৬ জন কাউন্সিলর একযোগে ইস্তফা দিয়েছেন। কাঁচরাপাড়ায়ও গণইস্তফা দিয়েছেন কাউন্সিলররা। হালিশহরে তো খোদ পুরসভার চেয়ারম্যান শুভঙ্কর ঘোষই ইস্তফা দিয়ে দিয়েছেন। গণইস্তফা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ভাটপাড়া পুরসভায়ও। সেখানে একসঙ্গে ৩০ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন। ওই পুরসভায় কাউন্সিলর ছিলেন ৩৫ জন। তাঁর মধ্যে ইস্তফা দিয়ে দিয়েছেন ৩০ জনই। চেয়ারপার্সন রেবা সাহা স্বয়ং ইস্তফা দিয়েছেন। তাই ভাটপাড়া পুরসভা এলাকায়ও পরিষেবা দেওয়া নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ভাটপাড়ার বিধায়ক বিজেপির অর্জুন সিংয়ের দাবি, সরকারি আধিকারিকরা পরিষেবা দেওয়ার জন্য কাজ করতে থাকবেন।

যোগাযোগ রাখেননি তৃণমূল নেতারা!

ভাটপাড়া পুরসভার পদত্যাগী উপ-পুরপ্রধান দেবজ্যোতি ঘোষ বলেন, “আমার কাছে কোনও বিকল্প পথ ছিল না। আমি যখন শুনলাম, আমাদের কয়েকজন কাউন্সিলর রিজাইন দিয়ে দিচ্ছেন, চেয়ারম্যানও রিজাইন দিয়ে দিয়েছেন, তাই আমার কাছে আর কোনও অলটারনেটিভ ছিল না। তাছাড়া, আমি দেখছি, শহরবাসী কোনও পরিষেবা পাচ্ছেন না। কর্মচারীরা মাইনে পাচ্ছেন না (WB Municipal Crisis)। দলের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। দল কোনও সাজেশনও দেয়নি। দুর্ভাগ্য এরকম একটা পরিস্থিতিতে দলের কোনও সাহায্য পাইনি। কেউই আমাদের কোনও সাজেশন দেয়নি। কেউ গাইড করেনি। কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। আমায় কেউ কোনও চাপ দেয়নি। একদম ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত (TMC)।”

তৃণমূল কাউন্সিলরের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

এদিকে, দক্ষিণ দমদমের তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই সঞ্জয় আবার তৃণমূলের দাপুটে নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। মেলা দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। স্বাভাবিকভাবেই সঞ্জয়ের মৃত্যু ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, শুক্রবার উত্তর দমদম পুরসভায় ব্যাপক বিক্ষোভ দেখানো হয়। পুরসভার গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখান অস্থায়ী কর্মীরা। চেয়ারম্যানকে আসতে হবে বলেও দাবি জানান তাঁরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে যায় পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মাসের পর মাস তাঁরা মাইনে পাচ্ছেন না। এক এক সময় এক এক রকমভাবে বেতন দেওয়া হচ্ছে (WB Municipal Crisis)।

অচলাবস্থার সৃষ্টি কলকাতা পুরসভায়ও

অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে কলকাতা পুরসভায়ও (TMC)। কানাঘুষোয় শোনা যাচ্ছে, মেয়র পদে ইস্তফা দিতে চাইছেন খোদ ফিরহাদ হাকিম। শুক্রবার এখানে হাউসের বাইরে হাউস বসাতে হয় মেয়র-সহ সব তৃণমূল কাউন্সিলরকে। চেয়ারপার্সন বলা সত্ত্বেও খোলা হয়নি ঘর, অভিযোগ তৃণমূলের। ফিরহাদ বলেন, “আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের একটা চরম অপমান। একটা নিদর্শন হয়ে রইল। হঠ করে আমার ইচ্ছে হল, আমি হাউস বন্ধ করলাম, হাউস খুললাম, এটা সম্পূর্ণ চেয়ারপার্সনের কাজ। সুতরাং অ্যাক্ট অনুযায়ী চেয়ারপার্সনকে যেমন চলতে হবে, তেমনি, আজ যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখের। তাই আমার যাঁরা কলিগ, যাঁরা কাউন্সিলররা এখানে এসেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে অভিনন্দন জানাই। আমাদের গণতন্ত্রের জন্য যে লড়াইয়ে আপনারা শামিল হয়েছেন, সেই গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই আমরা চালিয়ে যাব।” মেয়রের বার্তা, “রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাত নয়, একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

হাওড়াবাসীকে আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

দুয়ারে বর্ষা। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে জুনের ১০ থেকে ১৬ তারিখের মধ্যেই গোটা বাংলায় বর্ষা ঢুকে যাবে (WB Municipal Crisis)। তার আগে পুরসভাগুলির অচলাবস্থায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা। যদিও রাজ্যে পালাবদলের পরেই যে অবস্থা তৈরি হয়েছে, তা রীতিমতো উদ্বেগের। হাওড়া পুরনিগমের নির্বাচন প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন ছাড়া প্রকৃত পরিষেবার স্বাদ মানু‌ষ পেতে পারে না। তাই সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আমরা ডিসেম্বরের মধ্যে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বোর্ডের হাতে হাওড়া পুরনিগম এবং বালি তুলে দিতে পারব বলে আমাদের বিশ্বাস।’

কী বলছেন রাজ্যের নয়া মন্ত্রী?

পুরসভাগুলির এই অবস্থা নিয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিক, পুর কমিশনার, রাজ্যের অন্য পুরসভার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। মন্ত্রী বলেন, “হাতে আমাদের ১৮ দিন আছে (বর্ষা আসতে)। এবার যাতে বাংলার মানুষের অসুবিধা না হয়, সেটা দেখা হবে। আগের বছর প্রচুর বৃষ্টি হয়েছিল। সে রকম যদি এবার হয়, তাহলে কীভাবে সেই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা হবে, সেসব বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সমস্যাগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে।”

বিজেপির বক্তব্য

প্রসঙ্গত, ভাটপাড়ার পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনারই কাঁচরাপাড়া, হালিশহর, নৈহাটি, গারুলিয়া, উত্তর ব্যারাকপুর ছাড়াও শিল্পাঞ্চলের বহু পুরসভায় যাঁরা জনপ্রতিনিধি ছিলেন (TMC), তাঁরাও স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বিজেপির তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাঁরা দুর্নীতি করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হবে। অভিযোগ করবেন ইও, এফওরা। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও আবেদন করবেন যাতে এই পুরসভাগুলিতে পাঁচজনের একটি কমিটি করা হয় এবং বসানো হয় একজন প্রশাসক (WB Municipal Crisis)।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share