মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৬তম অসম বিধানসভার (Assam Assembly) প্রথম অধিবেশনেই তৈরি হল ইতিহাস। ২১ মে নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা হয়ে উঠেছিল অসম ও ভারতের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক বিরল প্রতিচ্ছবি। এদিন মোট ১২৪ জন বিধায়ক ৯টি ভিন্ন ভাষায় শপথ নেন। এর মধ্যে কয়েকটি ভাষা এই প্রথম কোনও ভারতীয় বিধানসভার অন্দরমহলে শোনা গেল। ফলে দিনটি অসমের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে
সংস্কৃতে শপথ নিলেন বিধায়করা
সবচেয়ে বেশি চর্চায় আসে সংস্কৃত ভাষায় শপথগ্রহণ। বিজেপি-এনডিএ জোটের ১৭ জন বিধায়ক সংস্কৃতে শপথ নেন, যা অসম বিধানসভার ইতিহাসে নজিরবিহীন বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রাক্তন স্পিকার বিশ্বজিৎ দইমারি, বিজেপি নেতা বিমল বরা, জয়ন্ত মল্ল বরুয়া, ভবেশ কলিতা, ডঃ মৃদুল কুমার দত্ত, এজিপি নেতা পৃথ্বীরাজ রাভা-সহ একাধিক বিধায়ক সংস্কৃতকে বেছে নেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিধায়কদের একযোগে সংস্কৃত ভাষা বেছে নেওয়া ছিল এক ধরনের সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত ঐক্যের বার্তা।
জনজাতি ভাষার ব্যবহার
এই অধিবেশনের সবচেয়ে ঐতিহাসিক দিক ছিল তিনটি জনজাতি ভাষার ব্যবহার। প্রথমবার অসম বিধানসভায় কর্বি, রাজবংশী ও রাভা ভাষায় শপথ নেওয়া হয়। পাঁচজন বিজেপি বিধায়ক কর্বি ভাষায়, তিনজন বিধায়ক রাজবংশী ভাষায় এবং একজন বিধায়ক রাভা ভাষায় শপথ নেন। এই ভাষাগুলি সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত নয় এবং সরকারি স্বীকৃতিও সীমিত। তবু বিধানসভার ভিতরে এই ভাষাগুলির উচ্চারণ সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর কাছে এক বড় স্বীকৃতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভাষাভিত্তিক হিসেব অনুযায়ী, ৭৫ জন বিধায়ক অসমিয়া ভাষায় শপথ নেন। ১৭ জন সংস্কৃতে, ৯ জন বাংলায়, ৮ জন বোড়ো ভাষায়, ৫ জন কর্বি ভাষায়, ৩ জন রাজবংশী ভাষায় শপথ নেন। এছাড়া ৪ জন ইংরেজিতে, ১ জন হিন্দিতে এবং ১ জন রাভা ভাষায় শপথ গ্রহণ করেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) বলেন, বিধায়কেরা যাতে নিজেদের সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ ভাষায় শপথ নিতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই আগাম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী অতুল বোরা এবং প্রো-টেম স্পিকার চন্দ্রমোহন পাটোয়রি-র সঙ্গে আলোচনা করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “নিয়ম কখনও মানুষের ভাষা ও পরিচয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো উচিত নয়।”

Leave a Reply