মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চালু হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা। এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের কোনো নাগরিকই আর নিখরচায় চিকিৎসা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন না। মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে সমস্ত নাগরিক নির্দিষ্ট কিছু সরকারি নিয়মের গেরোয় পড়ে কেন্দ্রীয় প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন না তাঁদের জন্য রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে চালু করেছে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা। এই নতুন প্রকল্পের অধীনে উপভোক্তারা বার্ষিক ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস অর্থাৎ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন যা কেবল পশ্চিমবঙ্গেই নয় বরং গোটা দেশের যেকোনো তালিকাভুক্ত হাসপাতালে সমানভাবে কার্যকর হবে। রাজ্য সরকারের এই মানবিক ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে চিকিৎসা বিভ্রাট ও বিপুল খরচের হাত থেকে রেহাই পাবেন কোটি কোটি সাধারণ মানুষ।
কেন এই নতুন স্বাস্থ্য বিমা
কেন্দ্রীয় আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী মূলত নির্দিষ্ট দিনমজুর, গৃহহীন, কাঁচা বাড়িতে বসবাসকারী, ভিখারি, রিকশাচালক এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া দরিদ্র পরিবারের মানুষেরা বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পান। এর পাশাপাশি আয়-নির্বিশেষে ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী দেশের সমস্ত প্রবীণ নাগরিক এবং অগ্রাধিকার প্রাপ্ত ও বিশেষ অগ্রাধিকার প্রাপ্ত ডিজিটাল রেশন কার্ডধারীরাও এই প্রকল্পের আওতায় ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হন। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের ঘরে ঘরে এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের ফর্ম তোলার কাজ জোরকদমে চললেও নির্দিষ্ট আর্থ-সামাজিক মাপকাঠির কারণে কারা শেষ পর্যন্ত এই সুবিধা পাবেন আর কারা বাদ পড়বেন তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে এক তীব্র সংশয় ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। জনগণের এই দুশ্চিন্তা দূর করতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সরকারের নিজস্ব প্রকল্পের কথা ভাবেন।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সুরক্ষাকবচ
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের নিয়মের জালে আটকে যারা এই তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাবেন তাঁদেরকে সুরক্ষাকবচ দেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিজস্ব মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা। এই সমপরিমাণ ৫ লক্ষ টাকার ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা চালু হওয়ায় রাজ্যের প্রতিটি পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষা একশো শতাংশ নিশ্চিত করা সম্ভব হলো। নতুন এই ঘোষণার ফলে একদিকে যেমন দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর থেকে চিকিৎসার খরচের মস্ত বড় বোঝা নেমে গেল, অন্যদিকে তেমনই দেশের যে কোনও প্রান্তে আপদকালীন পরিস্থিতিতে বিনামূল্যে উন্নত মানের চিকিৎসা পাওয়ার পথও সুগম হলো।
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তি
রাজ্য জুড়ে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তির কাজ চলছে। জেলায় জেলায় ফর্ম পূরণ করছেন সাধারণ নাগরিক। তবে যাঁরা পূর্বতন সরকারের স্বাস্থ্যবিমা স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা পেতেন, তাঁরা সকলেই আয়ুষ্মান পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে। এর আগে নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, জুলাই থেকে রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু হবে। নাম নথিভুক্তিকরণের কাজ শুরু হয়েছে। জুলাই মাস থেকেই সরকারি স্বাস্থ্যবিমার কার্ড বিতরণ করাও সম্ভব হবে। যাঁরা স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁরাও আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন। তবে ধাপে ধাপে এগোবে গোটা প্রক্রিয়া। তৃণমূল আমলে কেন্দ্র-রাজ্য রাজনৈতিক টানাপড়েনে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে চালু হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দু জানান, আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলি সরকারি এবং তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। ভূমিহীন এবং দিনমজুর পরিবার, তফসিলি জাতি এবং জনজাতিভুক্ত পরিবার, যাঁরা কাঁচাবাড়ি কিংবা এক কামরার বাড়িতে বসবাস করেন, যে পরিবারে ১৬ থেকে ৫৯ বছর বয়সি কোনও রোজগেরে পুরুষ সদস্য নেই, তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। তবে ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে সমস্ত প্রবীণ নাগরিক এই প্রকল্পের আওতাধীন। বাকিদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।
একাধিক সরকারি প্রকল্পের ঘোষণা
শুক্রবার মুর্শিদাবাদে জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, যাঁরা আয়ুষ্মান পাবেন না, তাঁরা আলাদা প্রকল্পের অধীনে সরকারি স্বাস্থ্যবিমা পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার অধীনে ৫ লক্ষ টাকার সুবিধা মিলবে বলেই জানিয়েছেন তিনি।মুর্শিদাবাদের সভায় তিনি বলেন, “আমরা সাড়ে ছয় কোটি মানুষকে আয়ুষ্মান ভারত দেব। যাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না, তাঁদের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার অধীনে ৫ লক্ষ টাকা করে বিমার সুবিধা দেব। শুধু রাজ্যে নয়, যাতে ভিনরাজ্যেও এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যায়, তার ব্যবস্থা করবে আপনাদের সরকার।” শুধুমাত্র আয়ুষ্মান ভারত বা মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা রেজিনগর থেকে একাধিক সরকারি প্রকল্পের কথা শোনা গিয়েছে শুভেন্দুর মুখে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা থেকে জি রামজি প্রকল্প রাজ্যে সুষ্ঠু চালু হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান বিধি যোজনায় কেন্দ্রের ৬ হাজার টাকার সঙ্গে আরও ৩ হাজার টাকা যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যায় ‘বিদ্ধ’ মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রতিশ্রুতি পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনবে বিজেপি সরকার।

Leave a Reply