মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হোয়াটঅ্যাপ (WhatsApp) বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম। ব্যক্তিগত চ্যাট থেকে অফিসের কাজ…সব ক্ষেত্রেই এই অ্যাপের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। তবে, এবার হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে বয়স (WhatsApp Age Restriction) বাধা হতে পারে। সম্প্রতি, ব্যবহারকারীর কাছে একটি নোটিফিকেশন আসছে। সেখানে তাঁদের জন্মতারিখ দিতে বলা হচ্ছে। এরপর থেকেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, ভবিষ্যতে কি ভারতে বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করতে চলেছে হোয়াটসঅ্যাপ? যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ভারতে নির্বাচিত কিছু ব্যবহারকারীর জন্য বয়স যাচাই (Age Verification) ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে হোয়াটসঅ্যাপ।
কেন বয়স যাচাই
হোয়াটসঅ্যাপের অফিসিয়াল সাপোর্ট পেজ অনুযায়ী, ব্যবহারকারীরা অ্যাকাউন্ট খোলার সময় বা নির্দিষ্ট কিছু ফিচার ব্যবহার করার সময় সংস্থা বয়স বা জন্মতারিখ জানতে চাইতে পারে। প্রয়োজনে বয়স যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত তথ্যও চাওয়া হতে পারে। সংস্থার দাবি, এই তথ্য সংগ্রহের মূল উদ্দেশ্য হল বিভিন্ন দেশের আইনি নিয়ম মেনে চলা এবং ব্যবহারকারীদের বয়স অনুযায়ী পরিষেবা দেওয়া। উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের ১৩ মে থেকে কার্যকর হতে চলা ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন (DPDP) আইন মেনে চলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন আইন কার্যকর হলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির উপর কঠোর নিয়ম প্রযোজ্য হবে। হোয়াটসঅ্যাপের মূল সংস্থা মেটা জানিয়েছে, এই পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় কোনও পরিবর্তন আনবে না। তবে এর মাধ্যমে ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করা সহজ হবে এবং তাদের তথ্য ব্যবহারের আগে অভিভাবকের যাচাইকৃত সম্মতি নেওয়া সম্ভব হবে।
ডিপিডিপি আইনে কী বদলাবে?
নতুন আইনের আওতায় হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স-সহ সমস্ত বড় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীর তথ্য প্রক্রিয়াকরণের আগে অভিভাবকের সম্মতি নিতে হবে।
আইনে আরও বলা হয়েছে—
শিশুদের অনলাইন আচরণ পর্যবেক্ষণ বা ট্র্যাক করা যাবে না।
১৮ বছরের কম বয়সীদের লক্ষ্য করে টার্গেটেড বিজ্ঞাপন দেখানো নিষিদ্ধ হবে।
ব্যবহারকারী নিবন্ধন, পরিচয় যাচাই এবং তথ্য সংরক্ষণের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনতে হবে প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে।
তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস কৃষ্ণন বলেন, হোয়াটসঅ্যাপের এই বয়স যাচাই প্রক্রিয়া সম্ভবত ডিপিডিপি আইনের প্রস্তুতির অংশ। আইন কার্যকর হওয়ার আগে সংস্থার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সরকার খতিয়ে দেখবে।
মেটার উপর বাড়ছে সরকারি নজর
বয়স যাচাই পরীক্ষার পাশাপাশি আরও কয়েকটি কারণে মেটা বর্তমানে কেন্দ্রের নজরে রয়েছে। সরকার হোয়াটসঅ্যাপের প্রস্তাবিত ইউজারনেম ফিচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই ফিচার চালু হলে মোবাইল নম্বর প্রকাশ না করেও ব্যবহারকারীরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক দিক থেকে এর প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলান-সহ সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও এই বৈঠকে আলোচনায় আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
হঠাৎ অ্যাকাউন্ট ‘রিভিউ’-তে, ব্যাখ্যা হোয়াটসঅ্যাপের
সম্প্রতি ভারত-সহ একাধিক দেশে হাজার হাজার হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট হঠাৎ ‘Account in review’ অবস্থায় চলে যায়। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অনেকেই বার্তা পাঠানো বা কল করতে পারেননি। স্ক্রিনে একটি বার্তায় জানানো হয়, ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট কার্যকলাপ ও ডিভাইস সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ব্যবহারকারী দাবি করেন, তাঁরা কোনও নিয়ম লঙ্ঘন করেননি। এর জবাবে হোয়াটসঅ্যাপ জানায়, অপব্যবহার রোধে তাদের স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে। তবে কখনও কখনও সেই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় ভুল হতে পারে। সংস্থার দাবি, সমস্যাটি দ্রুত সমাধান করে অধিকাংশ ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট পুনরায় সচল করা হয়েছে।
শিশুদের গোপনীয়তা রক্ষায় নতুন অধ্যায়
এর মধ্যে রয়েছে—উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য ফেসবুক,ইনস্টাগ্রাম,টিকটক,স্ন্যাপচাট,এক্স,ইউটিউব ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যদিও সেখানে হোয়াটসঅ্যাপ এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে ভারত যদি এ ধরনের নিয়ম আনে, তাহলে হোয়াটসঅ্যাপের পাশাপাশি টেলিগ্রাম,সিগনাল, ইনস্টাগ্রাম এবং স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্ল্যাটফর্মগুলিকেও বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু করতে হতে পারে। তবে, এই মুহূর্তে ভারত সরকার বা হোয়াটসঅ্যাপ, কোনও পক্ষই এমন কোনও নতুন নিয়মের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। তবে ভারতে ডিপিডিপি আইন কার্যকর হতে আর এক বছরেরও কম সময় বাকি। ফলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ-সহ বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি বয়স যাচাই, অভিভাবকের সম্মতি সংগ্রহ এবং শিশুদের তথ্য সুরক্ষার জন্য নতুন ব্যবস্থা চালু করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হোয়াটসঅ্যাপের এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম কীভাবে ভারতের নতুন তথ্য সুরক্ষা আইন মেনে চলবে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

Leave a Reply