Education Minister: প্রশ্নপত্র যাচাইয়ে চার স্তরের ব্যবস্থা! ৬০০ বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর

education minister take steps nta removes 600 expertsc starts four-tier checking system

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরীক্ষার নিরাপত্তা ও প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়ায় বড়সড় সংস্কারের পথে হাঁটল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীর নির্দেশের পর পরীক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। এরই অংশ হিসেবে প্রায় ৬০০ জন বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে নতুন বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র খতিয়ে দেখতে চালু করা হচ্ছে চার স্তরের যাচাই ব্যবস্থা, যাতে ভুলের সম্ভাবনা আরও কমানো যায়। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (NTA) পর্যালোচনা বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী আধিকারিকদের পরীক্ষার নিরাপত্তা, পরিকাঠামো এবং গোপনীয়তা সংক্রান্ত সমস্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। বৈঠকে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি-র ডিরেক্টর জেনারেল সংস্থার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য দেন।

২০ থেকে ২৫ জন আধিকারিককে নিয়োগ

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এনটিএ-তে ২০ থেকে ২৫ জন আধিকারিককে নিয়োগ করা হবে। সংস্থার আরও নিয়োগ ও নতুন কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করা হয়েছে। পরীক্ষাব্যবস্থাকে আরও পেশাদার করতে এনটিএ ইতিমধ্যেই ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পেশাদার নেতৃত্বের পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চিফ টেকনোলজি অফিসার, চিফ ফিনান্স অফিসার, চিফ ইনফরমেশন সিকিউরিটি অফিসার, জেনারেল ম্যানেজার (টেস্ট সিকিউরিটি) এবং জেনারেল ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ও সাইকোমেট্রিক্স)-এর মতো পদ। এছাড়া সাইবার সিকিউরিটি, সাইকোমেট্রিক্স এবং প্রশ্নপত্র তৈরির মতো বিশেষ ক্ষেত্রে বেসরকারি ক্ষেত্রের ডোমেন বিশেষজ্ঞদের এনটিএ-তে যুক্ত করা হচ্ছে।

বহু কর্মীকে সরানোর সিদ্ধান্ত

জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় স্বচ্ছতা আনতে ও বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-তে বড়সড় সংস্কারের উদ্যোগ নিল কেন্দ্র। একধাক্কায় ৬০০ জন বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে দেওয়া হল এনটিএ থেকে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী এক্স মাধ্যমে পোস্ট করে এই পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এনটিএ-র পরীক্ষার টিমে ইতিমধ্যেই পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রায় ৬০০ জন বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে নতুন বিশেষজ্ঞদের নিযুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আরও ২০ থেকে ২৫ জন আধিকারিককে এনটিএ-তে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

অফিস স্থানান্তর

এনটিএ-র অফিসও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নতুন জায়গায় স্থানান্তর করা হবে। পরীক্ষার নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী (CISF)-এর দল মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। ১৭ অগাস্ট এনটিএ-র পরীক্ষা ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অডিট করার নির্দেশ দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। ৩০ দিনের মধ্যে সংশোধনমূলক পদক্ষেপের রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জুনে হওয়া ইউজিসি-নেট পরীক্ষার তিনটি বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ত্রুটির জেরে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারপরই এই সংস্কারের উদ্যোগ আরও জোরদার করা হয়েছে।

চারটি স্তরে যাচাই

এছাড়া পর্যালোচনা বৈঠকের পর প্রশ্নপত্র তৈরির ক্ষেত্রে চারটি স্তরের যাচাই করার ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র যাতে নির্ভুল হয়, তা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে চার স্তরের স্ক্রুটিনি। বর্তমানে এনটিএ-তে একাধিক পর্যায়ে যাচাই করা হয়। নতুন পদ্ধতিতে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। সম্প্রতি উচ্চশিক্ষাসচিব এবং স্কুল শিক্ষা সচিব-সহ অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানেই এনটিএ-র পরীক্ষা ব্যবস্থার নানা গলদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং কাজের পদ্ধতিতে একাধিক পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই এই সংস্থায় ব্যাপক রদবদল শুরু হয়েছে।

প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষায় পদক্ষেপ

প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষায়ও একাধিক কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এনটিএ-কে কনফিডেনসিয়াল অপারেশন (CONOPS) আর্কিটেকচার সম্পূর্ণভাবে ঢেলে সাজাতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে পৃথক ও সুরক্ষিত কক্ষ, ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন এয়ার গ্যাপ সিস্টেম এবং পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের মোবাইল-সহ অন্যান্য ডিভাইস নির্দিষ্ট স্থানে জমা রাখার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একের পর এক সর্বভারতীয় পরীক্ষায় অস্বচ্ছতা, কখনও প্রশ্নপত্র ফাঁস তো কখনও প্রশ্নে ভুল। দু’বার করে একই পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে পরীক্ষার্থীদের। ফলত ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এই নিয়ে দেশ জুড়ে আন্দোলনের জেরে এবার বড় পরিবর্তনের পথে পরীক্ষক সংস্থা এনটিএ। বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় ভূমিকায় নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। কেন্দ্রীয় শিক্ষাসচিবদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করে তাঁর মন্ত্রক জানিয়েছে, এনটিএ-র কাজের ধারায় আমূল পরিবর্তন করা হবে।

সরকারের লক্ষ্য, শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ

প্রহ্লাদ যোশী এনটিএ-কে পরীক্ষার সমস্ত নির্ধারিত প্রোটোকল কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সংস্থার গোটা পরীক্ষা পরিচালনা ব্যবস্থার একটি সমন্বিত অডিট করে কী কী সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, নিরাপত্তা ও পরিচালন পদ্ধতি নিয়ে ওঠা বিভিন্ন বিতর্কের পর ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির এই সংস্কারমূলক পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করে পরীক্ষার নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং নির্ভুলতা আরও শক্তিশালী করা।

সাড়ে ৭ কোটি টাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা!

প্রশ্নপত্র ফাঁস, জালিয়াতি এবং নিরাপত্তার ফাঁকফোকর রুখতে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলারও উদ্যোগ নিয়েছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। ইতিমধ্যেই এ জন্য টেন্ডারও ডাকা হয়েছে।এনটিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী দু’বছরের জন্য একটি পেশাদার নিরাপত্তা সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। দিল্লির মিন্টো রোডে এনটিএ-র প্রধান কার্যালয়, ওখলার আঞ্চলিক অফিস, প্রশ্নপত্র সংরক্ষণের স্ট্রং রুম, সার্ভার রুম, গুদাম এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রাখার জায়গায় ২৪ ঘণ্টা কড়া নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে। লক্ষ্য একটাই, কোনওভাবেই যাতে প্রশ্নপত্র ফাঁস বা অন্য কোনও ধরনের জালিয়াতির সুযোগ না থাকে।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share