Suvendu Adhikari in Jadavpur: ‘হয় ওই বেয়াদবেরা থাকবেন, নয় রাষ্ট্রবাদীরা’! যাদবপুরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে দেশ বিরোধিতা নয়

suvendu adhikari in jadavpur 8b bus stand said university campus should be free from anti nationals he encourages10000 voices vande mataram chant

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের দখল নেবে ভারত। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে যে ‘ফ্রি ফ্রি প্যালেস্তাইন’ লেখা আছে, সেটার পরিবর্তে ‘ফ্রি পিওকে (পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর)’ লিখতে হবে। কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার দাবি তুলতে হবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। শুক্রবার, রাখিবন্ধন উৎসব উপলক্ষে এইট-বি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ‘দশ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম্’ অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari in Jadavpur)। পূর্বতন বাম এবং তৃণমূল সরকার যা করেছে, তাঁর সরকার সেই পথে হাঁটবে না। যাদবপুরে দাঁড়িয়েই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জানালেন, এ বার হয় ওই ‘বেয়াদবেরা’ থাকবেন, নয় ‘রাষ্ট্রবাদীরা’। তাঁর কথায়, যাদবপুরের পড়ুয়ারা নিট-কেন্দ্রিক কর্মসূচিতেও ভারতকে নিয়ে কোনও স্লোগান দেয় না। বদলে বলে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’। তাঁরা সিঁদুর অভিযানের সময় পথে নেমে বলে ‘যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই’। বর্তমান রাজ্য সরকার এই দাবি মানবে না, বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

কোনও সমঝোতা নয়

বাম সরকার ৩৪ বছর ধরে তাঁদের মদত দিয়েছে। তৃণমূল সরকার ১৫ বছর ধরে নিজের স্বার্থে ‘সমঝোতা’ করেছে। কিন্তু এবার হিসেব শেষ পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘দীর্ঘ দিন ধরে যাদবপুরে বিদেশি প্রভাবযুক্ত কমিউনিস্টদের রাজত্ব ছিল, যাদের বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছবি কোনও দিন পাবেন না।’’ শুভেন্দুর অভিযোগ, সেই কমিউনিস্টরাই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের স্বাধীনতা দিবস, সাধারণতন্ত্র দিবস, সনাতন সংস্কৃতি, ভারতীয় সংস্কৃতি, বাঙালিদের পরম্পরা, মুনি-ঋষিদের পরম্পরা থেকে বিচ্যুত করেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বামেদের পরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে মদত দিয়েছে তৃণমূল। পড়ুয়াদের সঙ্গে সমঝোতা করেছে নিজেদের স্বার্থে। তাঁর কথায়, ‘‘৩৪ বছরের কমিউনিস্টরা খোলাখুলি রাষ্ট্রবিরোধী কাজ, সনাতনবিরোধী কাজ, ভারতীয় বাঙালি পম্পরাকে ধ্বংস করতে মদত করেছে। পরে তৃণমূলও এদের সঙ্গে সমঝোতা করে চলত।’’ কেন সমঝোতা করত, তা-ও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘ডিভিডেন্ড একটাই দিত। নির্বাচন এলে এরা (পড়ুয়ারা) বলত, নো ভোট টু বিজেপি। নোট ভোট টু নরেন্দ্র মোদি। তার সুফল ঘুরিয়ে পেতেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, যিনি দু’বার আমার কাছে হেরেছেন। তাই এই শক্তিকে এর ভিতরে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে।’’তার পরেই শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, বর্তমান সরকারের আমলে এ সব চলবে না।

কিসের আজাদি? প্রশ্ন শুভেন্দুর

যাদবপুরের পড়ুয়াদের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, ‘‘কিসের আজাদি চান? হেরোইন খাওয়ার আজাদি? গাঁজা খাওয়ার, ড্রাগ নেওয়ার আজাদি? টুকরে টুকরে গ্যাংয়ের আজাদি?’’ মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘এই পশ্চিমবঙ্গের মাটি থেকে হাতে গীতা নিয়ে ক্ষুদিরাম বসুরাই আজাদি দিয়ে গিয়েছেন। এই পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে মাতঙ্গিনী হাজরা এক হাতে তেরঙ্গা, এক হাতে শঙ্খ নিয়ে তমলুকের বানপুকুরে ব্রিটিশের গুলি খেয়ে আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গিয়েছেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, আরও পিছিয়ে গেলে ঋষি অরবিন্দ, রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায়, বিনয়-বাদল-দীনেশ, মাস্টারদা সূর্যসেন থেকে শুরু করে অসংখ্য বিপ্লবীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আপনারা কীসের আজাদি চান?’’

হয় এরা থাকবে, নয় আমরা

শুভেন্দু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘হিসেবের শেষ পর্যায়ে এসে গিয়েছে। নয় এরা থাকবে, নয় আমরা। মাঝে আর কিছু হবে না! কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি? এই বেয়াদবেরা শুনে রাখো, অপারেশন সিঁদুরে মাসুদ আজহারের বংশকে নির্বংশ করেছে ভারতীয় বাহিনী। আমরা পাক অধিকৃত কাশ্মীরও দখল করব।’’ তাঁর আরও হুঁশিয়ারি, নন্দীগ্রাম থেকে যে ভাবে ‘কমিউনিস্টদের সাফাই’ করা হয়েছে, জঙ্গলমহল থেকে যে ভাবে ‘মাওবাদীদের সাফাই’ করা হয়েছে, সে ভাবে যাদবপুরেও অভিযান চলবে। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘এত সাহস, আর্টস হোস্টেলের দেওয়া লিখছেন রেড স্যালুট কিষেণজি? লিখছেন ফ্রি কাশ্মীর? ড্রোন ওড়াব। কোথায় ফেনসিডিল, নেশার দ্রব্য নিয়ে যাচ্ছেন, কোথায় পাতা পুড়িয়ে টানছেন, আমি দেখব। আমি পুলিশমন্ত্রী। আমি জঞ্জাল সাফাই করতে জানি।’’

ভয় দেখিয়ে আন্দোলন নয়

শুভেন্দুর কথায়, দিল্লিতে নিট-আন্দোলনের সময় সেখানে যে স্লোগান ওঠেনি, তা যাদবপুরে দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু এ-ও জানিয়েছেন, ওই মিছিলে হোস্টেল থেকে জোর করে পড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের ভয় দেখানো হয়েছে। সেই পড়ুয়াদের অধিকাংশেরই অভিভাবকেরা ‘রাষ্ট্রবাদী’ সরকারের পক্ষে। কিন্তু তাঁদের বক্তব্যকে আমল না দিয়েই পড়ুয়াদের জোরে করে চে গেভারার টি-শার্ট পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘না যেতে চাইলে বলা হয়, রানাঘাটের দরিদ্র পরিবারের ছাত্রের যে পরিণতি হয়েছিল, তাদেরও তা-ই হবে। সেই মিছিলে নিট নিয়ে স্লোগান নেই। ভারতকে সমৃদ্ধ করার স্লোগান নেই। মমতা ২৬ হাজার চাকরি চুরি করলেন, সেই নিয়ে স্লোগান নেই তাঁর বিরুদ্ধে। স্লোগান কী? আজাদি।’’

‘রাষ্ট্রবাদের বন্ধনকে সুদৃঢ়’ করতেই বন্দে মাতরম

এদিন, বক্তৃতার আগে হাজার কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ গান যখন গাওয়া হয়, তখন খালি পায়ে জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পরে তিনি বলেন, ‘‘রাষ্ট্রবাদের বন্ধনকে অটুট করার জন্য ১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরমের আহ্বান করি। হাজার হাজার মানুষ ভিজছিলেন। জাতীয় পতাকাকে সম্মান দিয়ে আমিও শামিল হলাম।’’ তিনি এ-ও জানান, ‘রাষ্ট্রবাদের বন্ধনকে সুদৃঢ়’ করতেই তাঁর সরকারের তরফে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিন রাজ্যজুড়ে পালিত হয় রাখি বন্ধন উৎসব (Raksha Bandhan Festival)। শুক্রবার ভবানীপুরে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে একদিকে যেমন রাখি বন্ধনের মাধ্যমে সৌভাতৃত্ব ও সম্পর্কের বন্ধনের কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। পাশাপাশি স্বাধীনতার এত বছর পরেও পরও ‘দেশবিরোধী’দের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। সাফ বুঝিয়ে দিলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের দেওয়ালে ‘রেড স্যালুট কিষেনজি’ লেখা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। বঙ্গভঙ্গের সময়ে রাখি বন্ধন উৎসব নিয়ে রবি ঠাকুরের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি বাংলায় এই উৎসব ঘিরে পুনর্জাগরণের বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share