Baranaga Death Case: উইপ্রো কর্মীর রহস্যমৃত্যু, সম্পর্কের পরিচয় গোপনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য

baranagar-death-case-isha-sau-wipro-employee-murder-probe

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তর ২৪ পরগনার বরানগরে বছর চব্বিশের এক (Baranaga Death Case) তরুণীর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম ঈশা সাউ। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা উইপ্রোয় কর্মরত ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, এক মুসলিম যুবক নিজেকে হিন্দু পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। পরে ওই যুবকের প্রকৃত ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে এই (Wipro Employee Murder Probe) অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয়নি। তরুণীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

কীভাবে শুরু হয়েছিল সম্পর্ক? (Baranaga Death Case)

পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত যুবক নিজেকে হিন্দু বলে পরিচয় দেওয়ায় ঈশা তাঁর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। পরে যুবকের প্রকৃত পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দু’জনের মধ্যে অশান্তি ও বিবাদের সূত্রপাত হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। তবে সম্পর্কের বিষয়ে ঠিক কী ঘটেছিল, তা এখনও জানা যায়নি।

মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল?

পরিবারের অভিযোগ, গত ৪ অক্টোবর ভোরে বরানগরের নবীনচন্দ্র দাস রোডে তাঁদের বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, ভোর সাড়ে ৩টে থেকে ৪টের মধ্যে অভিযুক্ত যুবক আরও তিন-চার জনকে সঙ্গে নিয়ে ওই আবাসনে আসেন। তাঁদের বাড়িতে ঢুকতে বাধা দিলে ঈশার মাকে মারধর ও গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ।

পরিবারের আরও দাবি, এরপর অভিযুক্ত ও তাঁর সঙ্গীরা ঈশার সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন এবং তাঁকে পাঁচতলা ভবনের ছাদের দিকে নিয়ে যান। অভিযোগ, সেখানে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভবন থেকে পড়ে যান তরুণী।

তবে কীভাবে তিনি নীচে পড়ে গেলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাটি আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

বিকট শব্দ শুনে ছুটে আসেন আবাসিকরা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিকট শব্দ শুনে আবাসনের বাসিন্দারা বাইরে বেরিয়ে এসে ভবনের নীচে রক্তাক্ত অবস্থায় ঈশাকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর অভিযুক্ত ও তাঁর সঙ্গীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। তাঁদের ব্যবহৃত কয়েকটি মোটরবাইক ঘটনাস্থলে পড়ে ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে (Baranaga Death Case)।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বরানগর থানার পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় ঈশাকে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ

তরুণীর মৃত্যুর পিছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা জানতে তদন্ত করছে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মৃত্যুর আগে ঈশাকে কোনও ধরনের ভয় দেখানো বা জোরজবরদস্তি করা হয়েছিল কি না। সম্পর্কের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত নিজের পরিচয় ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করেছিলেন কি না। ছাদে যাওয়ার পর ঠিক কী ঘটেছিল। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ সরাসরি জড়িত ছিলেন কি না। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং আবাসনের নজরদারি ক্যামেরার ছবি থেকে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যায় কি না।

ঘটনার ধারাবাহিকতা পুনর্গঠন করতে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ফোনের তথ্য, নজরদারি ক্যামেরার ছবি এবং ফরেনসিক প্রমাণ পরীক্ষা করা হতে পারে।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পরিবারের

ঈশার মৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে তাঁর পরিবার। ঘটনাটি ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিচয় গোপনের অভিযোগ এবং তরুণীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সামনে আনার দাবিও উঠেছে (Wipro Employee Murder Probe)।

তবে এখনও পর্যন্ত তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ্যে আসেনি। মৃত্যুর কারণ কিংবা কারও অপরাধমূলক দায় সম্পর্কে পুলিশ কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। ফলে পরিবারের অভিযোগ ও প্রকৃত ঘটনা—দু’টি বিষয়ই তদন্তের ফলের ভিত্তিতে যাচাই করা জরুরি (Baranaga Death Case)।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share