Nithya Raman: লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র পদে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিত্যা রমন

nithya raman creates history as she became the first indian american los angeles mayor

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস তৈরি করলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিত্যা রমন (Nithya Raman)। লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে জয়ী হয়ে শহরের প্রথম ভারতীয়-আমেরিকান এবং দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হওয়ার নজির গড়লেন কেরলে জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিক। তাঁর কাছে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন বিদায়ী মেয়র ক্যারেন বাস। পাশাপাশি নতুন মেয়রের (Los Angeles Mayor) হাতে দায়িত্বভার তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে মসৃণ ক্ষমতা হস্তান্তরের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক জীবনে উত্থান

লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন নিত্যা (Nithya Raman)। ২০২০ সালে প্রথমবার কাউন্সিলের নির্বাচনে জয়ী হন তিনি। ২০২৪ সালে ফের নির্বাচিত হন। এবার সরাসরি মেয়র পদে জয়ী হয়ে আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরের প্রশাসনিক দায়িত্ব পেতে চলেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যম এক্স-এ নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নিত্যা লেখেন, “লস অ্যাঞ্জেলেস, (Los Angeles Mayor) আপনাদের পরবর্তী মেয়র হতে পেরে আমি গভীরভাবে সম্মানিত।”

কত ভোটের ব্যবধানে জয়ী

লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির সর্বশেষ নির্বাচনী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টে ৩৪ মিনিট পর্যন্ত গণনা হওয়া ভোটের মধ্যে নিত্যা পেয়েছেন ৪ লক্ষ ৬০ হাজার ৭৭২টি ভোট। যা মোট গণনা হওয়া ভোটের ৫২.৭০ শতাংশ। অন্যদিকে, ক্যারেন বাস পেয়েছেন ৪ লক্ষ ১৩ হাজার ৫১৯টি ভোট, অর্থাৎ ৪৭.৩০ শতাংশ। ফলে ৪৭ হাজার ২৫৩ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন নিত্যা। এর আগে দিনের প্রথম দিকে তাঁর ব্যবধান ছিল ৩৪ হাজার ৬৫৪ ভোট। যদিও মঙ্গলবারের নির্বাচনে পড়া সমস্ত ব্যালটের গণনা এখনও শেষ হয়নি। তাই এই পরিসংখ্যান আপাতত অস্থায়ী।

পরাজয় স্বীকার করে নেন ক্যারেন বাস

নিত্যার সঙ্গে কথা বলার পরেই পরাজয় স্বীকার করে নেন ক্যারেন বাস। এক্স-এ তিনি লেখেন, কাউন্সিল সদস্য নিত্যা রমনকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। বিদায়ী মেয়র তাঁর সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান এবং শহরের মানুষের জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান। অন্যদিকে, নিত্যাও ক্যারেন বাসের সঙ্গে কথা বলে তাঁর নেতৃত্ব ও দীর্ঘদিনের জনসেবার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

কেরলে জন্ম নিত্যা রমনের

নিত্যার নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল লস অ্যাঞ্জেলেসের আবাসন সমস্যা, গৃহহীন মানুষের দুর্দশা এবং নাগরিক পরিষেবার উন্নয়ন। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানে রাস্তার আলো রক্ষণাবেক্ষণ, রাস্তার গর্ত মেরামত এবং পুলিশি ব্যবস্থায় সংস্কারের মতো বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি। কেরলে জন্ম নিত্যা রমনের। মাত্র ছয় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে আমেরিকায় পাড়ি দেন তিনি। পড়াশোনা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে নগর পরিকল্পনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৩ সালে তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে চলে আসেন।

প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত প্রতিনিধি

রাজনীতিতে আসার আগে গৃহহীন মানুষের সমস্যা নিয়ে কাজ করেছেন নিত্যা। পাশাপাশি গৃহহীনদের সহায়তায় কাজ করা ‘সেলাহ নেবারহুড হোমলেস কোয়ালিশন’ নামে একটি সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। ২০২০ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি কাউন্সিলে নির্বাচিত হয়ে প্রথম এশীয়-আমেরিকান মহিলা এবং প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত প্রতিনিধি হওয়ার নজির গড়েছিলেন নিত্যা। চার বছর পর পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পরে এবার মেয়র পদে জয়। কেরল থেকে আমেরিকা, আর সেখান থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রশাসনের শীর্ষ পদ—নিত্যা রমনের রাজনৈতিক যাত্রায় যুক্ত হল এক নতুন অধ্যায়।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত নেতাদের জয়জয়কার

নিত্যা রমনের জয়ের ফলে আমেরিকার দুটি বৃহত্তম শহরের শাসনভার এখন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নেতাদের হাতে। অন্য শহরটি হল নিউইয়র্ক। গত বছর নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন জোহরান মামদানি। তাঁর বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রিপাবলিকানদের প্রবল প্রচার সত্ত্বেও নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে নেন তিনি। আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রিপাবলিকানদের কাছে হতাশাজনক হলেও ভারতীয়দের পক্ষে অন্য ভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। নিত্যা এবং মামদানি দু’জনেই ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার প্রার্থী। মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষ, সেনেট এবং হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস হাতছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দলের। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই নির্বাচনে নজর কেড়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাজনীতিকরা। কেউ চিকিৎসক, কেউ আইনজীবী, কেউ বা আবার প্রশাসনিক কর্তা। আমেরিকার মাটিতে জন্ম কিংবা বেড়ে ওঠা হলেও তাঁদের শিকড় জড়িয়ে রয়েছে ভারতে। সেই তালিকাতেই নতুন নাম নিত‌্যার।

নির্বাচনে বাজিমাত অরুণার

শুধু নিত্যাই নয়, মার্কিন মুলুকে নির্বাচনে বাজিমাত করা ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহিলাদের মধ্যে রয়েছেন অরুণা মিলারও। ১৯৬৪ সালের ৬ নভেম্বর তিনি হায়দরাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ৭ বছর বয়সে তিনি পরিবারের সঙ্গে চলে আসেন আমেরিকায়। মিসৌরি ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা। ১৯৮৯ সালে অরুণা স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর দীর্ঘদিন তিনি সরকারি চাকরি করেন। পরবর্তীকালে রাজনীতিতে যোগ দেন অরুণা। ২০১০ সালে মেরিল্যান্ড হাউস অফ ডেলিগেটসে দায়িত্ব পান তিনি। ২০২২ সালে প্রথমবার অরুণা মেরিল্যান্ডের লেফটেন্যান্ট গভর্নর হন (ডেমোক্র্যাটি শিবির)। এই নির্বাচনে ফের জয় পেলেন তিনি।

নতুন মুখ ছিলেন পিয়া ডান্ডিয়া

এছাড়াও আমেরিকার এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নতুন মুখ ছিলেন পিয়া ডান্ডিয়া। ফ্লোরিডার ২২ নম্বর কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিসাবে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রায় ৫১.৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন তিনি। এই জয়ের ফলে প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিসাবে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে নির্বাচিত হয়েছেন পেশায় শিক্ষাবিদ পিয়া। এই ডেমোক্র্যাট নেত্রীর জন্ম ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে। তিনি তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন শিক্ষক হিসাবে। পরে নিউ ইয়র্কের হারলেমে একটি হাইস্কুলের অধ্যক্ষ হন পিয়া।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share