Ajit Pawar: ‘‘জনগণের সেবায় সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা নিতেন’’, অজিতের মৃত্যুতে শোকবার্তা প্রধানমন্ত্রীর, কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?

ajit pawar plane crash know the reason of accident and all about the aircraft

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রে তিনি ‘অজিত দাদা’ নামেই পরিচিত। শরদ পাওয়ারের ভাইপো হলেও মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নিজের পরিচিতি ব্যাপক ভাবেই গড়ে তুলেছিলেন অজিত পাওয়ার (Ajit Pawar)। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মোট ৬ বার। বুধবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে ভেঙে পড়ে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের চার্টার্ড ফ্লাইট। অজিত পাওয়ার সহ কোনও যাত্রীই বেঁচে নেই। ডিজিসিএ জানিয়েছে, পুণে জেলা ও বারামতী অঞ্চলের উপর দিয়ে উড়ানের সময় অত্যন্ত ঘন কুয়াশার মুখে পড়ে বিমানটি, যার ফলে ফ্লাইটের শেষ পর্যায়ে দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। মহারাষ্ট্রের বরামতীর কাছে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করছিলেন পাইলট, যাতে বাঁচানো যায়, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ভেঙে পড়ার পরেই মুহূর্তে আগুন ধরে যায় বিমানে।

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

ডিজিসিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বারামতীর কাছে পাহাড়ি ভূখণ্ডের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় বিমানটি পথ হারিয়ে ফেলে এবং শেষ পর্যন্ত বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি পাথুরে এলাকায় আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনাটি ঘটে সকাল প্রায় ৮টা ৪৫ মিনিটে, মুম্বই থেকে উড়ানের প্রায় এক ঘণ্টা পর। ঘটনার তদন্তে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA) একটি বিস্তারিত অনুসন্ধান শুরু করেছে। ডিজিসিএ-র সিনিয়র আধিকারিকরা জানিয়েছেন, তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দুর্ঘটনাস্থলে ধ্বংসাবশেষের বিস্তার বিশ্লেষণ করা হবে। ধ্বংসাবশেষের অবস্থান নথিভুক্ত ও ছবি তোলা হবে, যাতে আঘাতের সময় বিমানের গতি, দিক এবং কোণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

বিমানটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করে তদন্ত

এছাড়াও বিমানটির ব্ল্যাক বক্স—যার মধ্যে ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডার রয়েছে—উদ্ধার করে বিশ্লেষণ করা হবে। এই যন্ত্রগুলি থেকে বিমানের অবস্থান এবং দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তগুলোতে পাইলটদের পদক্ষেপ ও কথোপকথন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা ককপিট রেকর্ডিংয়ের পাশাপাশি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে হওয়া যোগাযোগও খতিয়ে দেখবেন, কোনও সতর্কবার্তা বা নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কি না তা জানার জন্য। একই সঙ্গে উড়ানের আগে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করে দেখা হবে, বিমানটি নিরাপদ ও সমস্ত নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলেছিল কি না। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও কম দৃশ্যমানতায়, বিশেষ করে দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

দুর্ঘটনা কবলিত বিমানটি ছিল ভিএসআর ভেঞ্চারস-এর

দুর্ঘটনা কবলিত বিমানটি ছিল ভিএসআর ভেঞ্চারস প্রাইভেট লিমিটেডের মালিকানাধীন একটি লিয়ারজেট  মডেল ৪৫। এটি ভারতের অন্যতম বৃহত্তম নন-শিডিউল বিমান পরিচালনাকারী সংস্থা। লিয়ারজেট একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন, সুপার-লাইট বিজনেস জেট, যা তার গতি, জ্বালানি সাশ্রয় এবং উচ্চ-উচ্চতায় উড়ানের জন্য সুপরিচিত। এর ডানার বিস্তার ৪৭ ফুট এবং সর্বোচ্চ ওজন ৯,৭৫২ কেজি। লিয়ারজেট ৪৫ মডেল-এর এই বিমানে করে মহারাষ্ট্রের বরামতীতে একটি জনসভায় ভাষণ দিতে যাচ্ছিলেন অজিত পাওয়ার। অজিত পাওয়ার ছাড়াও মৃত্যু হয়েছে দুই পাইলট ও পাওয়ারের দুই নিরাপত্তারক্ষীর। লিয়ারজেট ৪৫ মডেলের বিমান অতীতেও দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। জানা যাচ্ছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিশাখাপত্তনম থেকে মুম্বইয়ের উদ্দেশে উড়ানের সময়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল একটি লিয়ারজেট ৪৫ বিমান। সেটিতেও অবতরণের সময়েই দুর্ঘটনা ঘটেছিল। এই মডেলের বিমানগুলিতে দু’টি ইঞ্জিন থাকে। সাধারণত এই বিজনেস জেট বিভিন্ন কর্পোরেট এবং ভিআইপি-দের সফরের জন্য ব্যবহৃত হয়। মাঝারি মাপের এই বিমানটি স্বল্প এবং মাঝারি দূরত্বের উড়ানের জন্য উপযুক্ত। মুম্বই থেকে বারামতী যাওয়ার পথে ভেঙে পড়া এই লিয়ারজেট ৪৫ বিমানটি পরিচালনা করছিল ‘ভিএসআর ভেঞ্চার্‌স’ নামে এক সংস্থা। সেই ‘ভিএসআর ভেঞ্চার্‌স’-এর বিমান দুর্ঘটনাতেই এবার মৃত্যু হল মহরাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা অজিতের।

অজিতের মৃত্যুতে শোকবার্তা প্রধানমন্ত্রীর

অজিতের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল। শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অজিতের উত্থান এবং রাজনৈতিক দক্ষতার কথা স্মরণ করে একটি এক্স পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, সমাজের তৃণমূল স্তরের সঙ্গে অজিতের দৃঢ় যোগাযোগ ছিল। মহারাষ্ট্রের জনগণের সেবায় সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা নিতেন তিনি। পরিশ্রমী এবং সর্বজন সম্মানিত অজিতের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। মোদির কথায়, ‘‘প্রশাসনিক বিষয়ে তাঁর (অজিত) বোধগম্যতা ছিল উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি, গরিব এবং নিপীড়িতদের ক্ষমতায়নের প্রতি তাঁর আবেগও ছিল চোখে পড়ার মতো।’’ দুর্ঘটনায় নিহত অন্যান্যদের পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী। শাহ, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং — সকলেই শোকপ্রকাশ করেছেন। অজিতের মৃত্যুতে তিনি বিধ্বস্ত, এমনই জানিয়েছেন শরদ পাওয়ারের কন্যা অজিতের বোন সুপ্রিয়া সুলে।

শোকবার্তা ভারতীয় ক্রিকেটারদের

অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই মহারাষ্ট্র সহ গোটা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার শচীন তেন্ডুলকর থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্স দলের অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে, অনেকেই শোক জ্ঞাপন করেছেন। শচিন তিনি লিখেছেন, মহারাষ্ট্র আজ একজন সত্যিকারের রাজনৈতিক নেতাকে হারাল। এই রাজ্যের জন্য তিনি যথেষ্ট কাজ করেছেন। এই কঠিন সময়ে ওঁর পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। ওম শান্তি। সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহানে লিখেছেন, মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার দাদার মৃত্যুকে আমি গভীরভাবে শোকাহত। ওঁর পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।

বারামতীতেই রাজনৈতিক জীবনের শুরু

যে বারামতীতে আজ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এনসিপি নেতা, সেখানেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি অজিতের। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই বরামতীতে চিনির কারখানায় কোঅপারেটিভ বোর্ডের মেম্বার হয়ে যান। এটাই অজিতের প্রথম ভোটে জয়। ১৯৯১ সালে বরামতী থেকেই লোকসভায় নির্বাচিত হন অজিত পাওয়ার। এটাই সংসদীয় রাজনীতিতে প্রথম জয় তাঁর। তবে তারপরে আর লোকসভায় লড়াই করেননি তিনি। একেবারে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে পড়েন মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে। এরপর থেকে রাজ্য রাজনীতিতেই নিজের জায়গা পোক্ত করেন তিনি। আজ যেখানে প্লেন ক্র্যাশ হল, সেই বরামতীই পাওয়ার পরিবারের ঘাঁটি বলা যায়। বরামতী থেকেই বারবার বিধায়ক হয়েছেন অজিত পাওয়ার।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share