Chabahar Port Project: চাবাহার বন্দর প্রকল্প থেকে সরে যাচ্ছে ভারত! এমন খবর নাকচ করল বিদেশ মন্ত্রক

Union budget 2026 no funds for chabahar port project in budget

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্প (Chabahar Port Project) থেকে ভারত সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন খবরকে শুক্রবার খারিজ করে দিল বিদেশ মন্ত্রক (MEA)। সাপ্তাহিক সাংবাদিক সম্মেলনে এই প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, চাবাহার প্রকল্পে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় (স্যানশনস ওয়েভার) বাড়ানোর বিষয়ে ভারত সরকার এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর কথায়, যুক্তরাষ্ট্র আগে চাবাহার বন্দর প্রকল্পে ভারতের অংশগ্রহণের জন্য ছয় মাসের শর্তসাপেক্ষ স্যানশনস ওয়েভার দিয়েছিল, যার মেয়াদ চলতি বছরের এপ্রিল মাসে শেষ হচ্ছে। এই ছাড় যদি বাড়ানো না হয়, তাহলে ভারতকে হয় প্রকল্প থেকে সরে যেতে হবে, নয়তো মার্কিন নিষেধাজ্ঞাজনিত পদক্ষেপের ঝুঁকি নিতে হবে।

আমেরিকার সঙ্গে কথা চলছে

ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইরানের চাবাহার বন্দরের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে তার পর ভারত ছয় মাসের জন্য একটি ছাড় আদায় করতে সক্ষম হয়। এই ছাড়ের ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড (IPGL) ২৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত চাবাহারের (Chabahar Port Project) শহিদ বেহেশতি টার্মিনাল পরিচালনা চালিয়ে যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন,“চাবাহার প্রসঙ্গে বলতে গেলে, ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর মার্কিন ট্রেজারি দফতর একটি চিঠি জারি করে শর্তসাপেক্ষ স্যানশনস ওয়েভারের নির্দেশনা দেয়, যার মেয়াদ ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত বৈধ। এই ব্যবস্থাটি নিয়ে আমরা মার্কিন পক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।”

চাবাহার প্রকল্প নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়

এই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে, যখন ‘ইকোনমিক টাইমস’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে চাবাহার প্রকল্প (Chabahar Port Project) কার্যত ভেঙে পড়েছে। ওই প্রতিবেদনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের উল্লেখ করা হয়, যেখানে তিনি বলেন—ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। সরকারি সূত্রের রিপোর্টে দাবি করা হয়, এই পরিস্থিতিতে ভারতের সামনে প্রকল্প থেকে সরে যাওয়া ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগেই ভারত চাবাহার বন্দরের জন্য প্রায় ১২ কোটি ডলার প্রতিশ্রুত অর্থ ইরানে স্থানান্তর করেছিল। ফলে ভারত সরে গেলেও ইরান সেই অর্থ ব্যবহার করে বন্দরের উন্নয়ন চালিয়ে যেতে পারবে। পাশাপাশি দাবি করা হয়, নিষেধাজ্ঞার পর আইপিজিএল-এর বোর্ডে থাকা সরকারি মনোনীত ডিরেক্টররা একযোগে পদত্যাগ করেন এবং সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা থেকে সংশ্লিষ্টদের রক্ষা করতে সংস্থার ওয়েবসাইটও বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এই ধরনের কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, চাবাহার প্রকল্প নিয়ে ভারত এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে এবং প্রকল্প থেকে সরে যাওয়ার বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share