Iran-Israel Conflict: যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার বদলা! মার্কিন তেলবাহী জাহাজে মিসাইল ছুড়ল ইরান

iran israel conflict irgc hits us tanker hours after torpedo attack on iran's warship

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টর্পেডো দেগে ইরানের (Iran-Israel Conflict) যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়েছে আমেরিকা। এর বদলা নেবে বলে আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। বুধবারের ওই যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরান আমেরিকার একটি তেলবাহী জাহাজে (Attack On US Tanker) ক্ষেপণাস্ত্র দেগেছে বলে দাবি। পারস্য উপসাগরের উত্তরাংশে আমেরিকার একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরানের ‘রেভোলিউশনারি গার্ড’। ইরানের দাবি, হামলার পরে আগুন ধরে গিয়েছে ওই জাহাজে। তবে এই হামলার বিষয়ে আমেরিকার তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। জানা যায়নি ওই ট্যাঙ্কারে কত জন ছিলেন, সেটিতে করে কী ধরনের পণ্য নিয়ে আসা হচ্ছিল।

ইরানি যুদ্ধজাহাজে মার্কিন হামলা

ভারত মহাসাগরে বুধবার রাতে মার্কিন একটি সাবমেরিন ইরানের ফ্রিগেট আইরিশ ডেনা (IRIS Dena)-কে টর্পেডো হামলায় ডুবিয়ে দেয় বলে খবর। জাহাজটি ভারতের বিশাখাপত্তনম থেকে নৌ মহড়া শেষে ইরানে ফিরছিল। শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই হামলা হয়। হামলায় অন্তত ৮৭ জন ইরানি নাবিক নিহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এছাড়া ৬০ জনের বেশি নাবিক এখনও নিখোঁজ। জাহাজটির কমান্ডারসহ প্রায় ৩২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, টর্পেডো আঘাতের পর জাহাজটির পেছনের অংশে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি ডুবে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন নৌবাহিনী তাদের শক্তিশালী মার্ক-৪৮ (Mark-48) টর্পেডো ব্যবহার করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনও মার্কিন সাবমেরিন টর্পেডো ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের জাহাজ ডুবিয়েছে।

“কঠিন মূল্য দিতে হবে”: ইরানের হুঁশিয়ারি

ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই হামলাকে “নির্মম নৌ সন্ত্রাস” বলে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “ভারতের নৌবাহিনীর অতিথি হিসেবে থাকা ফ্রিগেট ডেনা আন্তর্জাতিক জলসীমায় কোনও সতর্কতা ছাড়াই আক্রমণের শিকার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই ঘটনার জন্য কঠিন মূল্য দেবে।”

পারস্য উপসাগরে পাল্টা হামলার দাবি

এর কয়েক ঘণ্টা পরেই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC) দাবি করে, তারা পারস্য উপসাগরে একটি মার্কিন তেলবাহী জাহাজে (Attack On US Tanker) হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি তারা জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ রুট হওয়ায় এই ঘোষণায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলা এবং ইরানের পাল্টা ড্রোন-মিসাইল আক্রমণে গত কয়েক দিনে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ইরানে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে খবর। এছাড়া মার্কিন সেনাবাহিনীর ৬ জন সদস্যও নিহত হয়েছে। ইরান ইতিমধ্যে ইজরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি, দূতাবাস এবং জ্বালানি পরিকাঠামোর ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

নিখোঁজ ভারতীয় নাবিক

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ওমানের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় রাজস্থানের নাগৌর জেলার এক ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ হয়ে গেছেন। পরিবারের দাবি, হামলার পর থেকেই তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ নাবিকের নাম দলীপ সিং। তিনি রাজস্থানের নাগৌর জেলার খিনওয়াতানা গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২২ জানুয়ারি ‘স্কাইলাইট’ সংস্থার পরিচালিত ওই তেলবাহী ট্যাঙ্কারে কাজে যোগ দেন তিনি। ১ মার্চ সকালে ওমানের খাসাব বন্দরে নোঙর করা অবস্থায় জাহাজটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। বিস্ফোরণে জাহাজের সামনের অংশে বড়সড় ক্ষতি হয়। সেই সময় দলীপ সিং জাহাজের ফরোয়ার্ড সেকশনে কর্মরত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিহারের বাসিন্দা আশিস কুমার। হামলার পর আশিসের দেহ উদ্ধার করা হলেও দলীপ সিং এখনও নিখোঁজ বলে জানিয়েছেন তাঁর ভাই দেবেন্দ্র সিং।

এক হাজারের বেশি ভারতীয় নাবিক আটকে

দেবেন্দ্র জানান, জাহাজের অধিকাংশ নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হলেও আশিস কুমার এবং দলীপ সিং-সহ তিনজন নিখোঁজ হয়ে যান। ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষবার পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল দলীপের। জানা গেছে, নাগৌরেরই আর এক নাবিক সুনীল কুমার ওই জাহাজে কর্মরত ছিলেন। তিনি দলীপ সিংয়ের ডিউটি শুরুর আগেই নিজের শিফট শেষ করেছিলেন। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও আশপাশের জলসীমায় ৩৭টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে প্রায় এক হাজারের বেশি ভারতীয় নাবিক আটকে রয়েছেন। হরমুজ প্রণালীতে সংঘাতের জেরে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

ভারতীয় নাবিকদের পাশে কেন্দ্র

সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে কর্মরত অন্তত তিনজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের জাহাজ পরিবহণ মন্ত্রক একটি বিশেষ ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন করেছে। এই দল ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং তাদের পরিবারের পাশে থাকার কাজ করবে। বিদেশ মন্ত্রকও একটি কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় প্রায় এক কোটি ভারতীয় নাগরিক বসবাস করেন এবং তাঁদের নিরাপত্তা সরকারের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরান ইজরায়েল, মার্কিন ঘাঁটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাহরিন, কুয়েত, জর্ডন ও সৌদি আরবসহ একাধিক উপসাগরীয় দেশে হামলা চালাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share