Jordan Church Shootout: চার্চে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলাকালীন এলোপাথাড়ি গুলি! জর্ডনে বন্দুকবাজদের হামলায় মৃত অন্তত ৭, আহত ৪০

jordan church shootout seven dead by gunmen at funeral service

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জর্ডনের রাজধানী আম্মানের থেকে ১৮০ কিলোমিটার (১১০ মাইল) দক্ষিণে একটি চার্চের ভিতরে চলছিল অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। সেই সময়েই তিন বন্দুকবাজ ঢুকে পড়ে সেখানে। এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে তারা। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৭ জনের। আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন। জর্ডনের একটি চার্চে এই ভয়ঙ্কর হামলার ঘটনা ঘটেছে। জানা গিয়েছে, জর্ডনের কারাক (Karak) এলাকায় রয়েছে গ্রিক অর্থোডোক্স চার্চ। সেখানেই এই ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে গোটা জর্ডনজুড়ে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ঠিক কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। হামলাকারীদের খোঁজে গোটা এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান ও চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

চার্চে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি তিন বন্দুকবাজের

জর্ডনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, কারাকের হামুদ (Hammoud) গ্রামের একটি গ্রিক অর্থোডক্স চার্চে (Greek Orthodox Church) যখন একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান চলছিল, ঠিক সেই সময়ই সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। প্রার্থনা সভাতে সেই সময় প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন মানুষ উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎই বেশ কয়েকজন বন্দুকবাজ বৃষ্টির মতো গুলি চালাতে শুরু করে। আকস্মিক এই হামলায় ঘটনাস্থলেই হতাহতের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। জর্ডনের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে যে ফুটেজ দেখানো হয়েছে, সেখানে দেখা গিয়েছে প্রথমে হাতে পিস্তল নিয়ে চার্চে ঢুকেছে ২ জন। চার্চের ভিতরের দিকে এগোতে এগোতে নাগাড়ে গুলি চালাচ্ছে তারা। তৃতীয় আরেক বন্দুকবাজকেও দেখা গিয়েছে এই ফুটেজে। তার হাতে আবার ছিল সেমি-অটোম্যাটিক রাইফেল। চার্চে ঢুকে দিকবিদিকজ্ঞানশূন্য এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকে এই তিনজন বন্দুকবাজ। চার্চে থাকা এই ঘটনার অনেক প্রত্যক্ষদর্শীই বন্দুকবাজদের হামলার সময়ে ছবি, ভিডিও মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করেছেন।

কারা হামলা চালাল, কঠোর শাস্তি

চার্চে থাকা অনেকে বলেছেন চারজন বন্দুকবাজ ছিল। গুলি চালানোর ঘটনায় কতজন যুক্ত ছিল তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। কে বা কারা এই হামলার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের উদ্দেশ্যই বা কী ছিল, কেন এভাবে চার্চের ভিতর গুলি চালানো হল – কোনও কিছুই স্পষ্টভাবে জানা যায়নি এখনও। এই ঘটনায় জর্ডনে ৩ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন জর্ডনের প্রধানমন্ত্রী জাফর হাসান (Jafar Hassan)। হামলাকারীদের উদ্দেশে তাঁর হুঁশিয়ারি, এভাবে নিরীহ মানুষজনের প্রাণ কেড়ে নেওয়া অপরাধীদের কোনওভাবেই ছাড়া হবে না। এই হামলাকে সন্ত্রাসবাদী ও উগ্রপন্থী মতাদর্শের ফল বলে উল্লেখ করেছেন জর্ডনের প্রধানমন্ত্রী। এই ভয়াবহ ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন জর্ডনের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ (King Abdullah II)। এক্স (X)-এ এক বার্তার মাধ্যমে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “কারাককে লক্ষ্য করে চালানো এই সন্ত্রাসী হামলাকে কঠোরতম উপায়ে দমন করা হবে।” নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share