Lashkar-e-Taiba: “কখনও কাশ্মীর মিশন থেকে সরে আসব না”, হুমকি লস্করের, মুখে বাংলার প্রসঙ্গও

Lashkar e taiba spews venom again terrorist saifullah threatens india over Kashmir

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন ‘সিঁদুরে’র ক্ষত এখনও পুরোপুরি শুকোয়নি পাকিস্তানের। ভারতের সফল সামরিক অভিযানের পর ফের প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিল জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা (Lashkar-e-Taiba)। ২০২৫ সালের ৭ মে ভারতের চালানো নির্ভুল সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় এই হুমকি দিয়েছে পাক মদতপুষ্ট এই জঙ্গি সংগঠন। লস্কর-ই-তৈবার সহকারী প্রধান এবং কুখ্যাত জঙ্গি হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সইফুল্লা কাসুরি (Terrorist Saifullah) সম্প্রতি হাজার হাজার সমর্থকের সামনে উসকানিমূলক ভাষণ দেয়। ওই বক্তব্যে সে কাশ্মীর থেকে শুরু করে হায়দরাবাদ ও জুনাগড় পর্যন্ত ভারতের বিভিন্ন ভূখণ্ডের ওপর ‘অধিকার’ দাবি করে।

কাসুরির হুঁশিয়ারি (Lashkar-e-Taiba)

উসকানিমূলক ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে কাসুরি বলে, “অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারত বড় ভুল করেছে। কারণ তারা শুধু জঙ্গি ঘাঁটিগুলিকেই নিশানা করেছে।” বক্তব্যের শেষের দিকে সে আরও উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করে বলে, “আমার শেষ কথা… আমাদের লোকেরা শুনুক, বাইরের লোকেরা শুনুক, বন্ধুরা শুনুক, শুনুক শত্রুরাও।” নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বক্তব্য ফের একবার প্রমাণ করছে যে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলি ভারতের সামরিক ও কূটনৈতিক সাফল্যে গভীরভাবে বিচলিত এবং পরিস্থিতি অশান্ত করে তুলতে পরিকল্পিতভাবে উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করছে।

সইফুল্লার ‘কাশ্মীর মিশন’

যারা জঙ্গি সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং তাদের কাজকর্ম প্রকাশ্যে আনে, সইফুল্লা সরাসরি তাদের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। তার দাবি, গোটা বিশ্বের ব্যবস্থাই বদলে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু লস্কর-ই-তৈবা (Lashkar-e-Taiba) কখনও তাদের তথাকথিত ‘কাশ্মীর মিশন’ থেকে সরে আসবে না। তার এই বক্তব্যকে ভারতের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য হুমকি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সে কাশ্মীর ইস্যুর গায়ে ধর্মের রং লাগানোর চেষ্টাও করেছে। কাশ্মীর প্রসঙ্গকে সে ‘প্রথম কিবলার মুক্তি’র সঙ্গে তুলনা করে, যা মূলত জেরুজালেমের প্রতি ইঙ্গিত করে (Terrorist Saifullah)। সইফুল্লা বলে, “যারা আমাদের সন্ত্রাসবাদী বলে এবং আমাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপায়, তারা যেন মন দিয়ে শোনে, কাশ্মীর ও প্যালেস্তাইনকে মুক্ত করার মিশন থেকে আমরা কখনওই পিছু হটব না।”

সন্ত্রাসবাদকে উসকে দেওয়া হচ্ছে

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে সন্ত্রাসবাদকে উসকে দেওয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে (Lashkar-e-Taiba)। শুধু হুমকি দেওয়ায়ই সীমাবদ্ধ থাকেনি সইফুল্লা। তার দাবি, ভারত কাশ্মীর, অমৃতসর, হোশিয়ারপুর, গুরুদাসপুর, জুনাগড়, মানাবদর, হায়দরাবাদ দাক্ষিণাত্য এবং এমনকি বাংলার মতো একাধিক অঞ্চল দখল করে নিয়েছে। সইফুল্লার অভিযোগ, এই সমস্ত এলাকাই নাকি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল এবং ব্রিটিশ ও হিন্দুদের একটি তথাকথিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সেগুলি পাকিস্তানের হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে (Terrorist Saifullah)।

সইফুল্লার দাবি ভিত্তিহীন

বিশেষজ্ঞদের মতে, সইফুল্লার এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং ঐতিহাসিক সত্যের পরিপন্থী। একে উসকানিমূলক প্রচার হিসেবেই দেখা হচ্ছে (Lashkar-e-Taiba)। নিজের বক্তব্যে সইফুল্লা নিজেকে ও তার সংগঠনকে ‘শান্তিপ্রিয়’ বলে তুলে ধরার চেষ্টা করে। অথচ বাস্তবে লস্কর-ই-তৈবা বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে পরিচিত এবং ভারত-সহ একাধিক দেশে নিষিদ্ধ এই সংগঠন (Terrorist Saifullah)।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share