Somnath Swabhiman Parv: ১০০০ বছরের লড়াই, ভারতের মর্যাদার প্রতীক! ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’-এ আজ গুজরাটে মোদি

sonath swabhiman parv pm modi visit to gujarat to attained the auspicious occasion of the temple

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমনাথ মন্দিরে শুরু হয়েছে ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’ (Somnath Swabhiman Parv)। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবে শনিবার যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেলে গুজরাটে পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এরপরে মন্দিরে মন্ত্রোচ্চারণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। এর পরে রবিবার মন্দিরের তরফে আয়োজন করা ‘শৌর্য যাত্রা’ নামের এক শোভাযাত্রায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এর পরে মন্দিরে পুজো দিয়ে জনসভায় বক্তৃতা দেবেন তিনি। গুজরাটের সোমনাথ মন্দিরের এই অনুষ্ঠান পালনের পিছনে রয়েছে এক ঐতিহাসিক কাহিনি। ১০২৬ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে গজনির সুলতান মামুদ এই সোমনাথ মন্দিরে আক্রমণ করেছিলেন। মূল্যবান মণিমানিক্য হাতিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভেঙে দেওয়া হয় মন্দিরটি। পরে ১৯৫১ সালে পুনরায় তৈরি করা হয়। সেই দুই ঘটনাকে স্মরণ করেই ঠিক ১০০০ বছর পরে ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’ অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব-এর ইতিহাস

সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব (Somnath Swabhiman Parv) প্রসঙ্গে আগেই প্রধানমন্ত্রী মোদি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন, ‘সোমনাথ… এই নামটি শুনলেই আমাদের হৃদয় ও মনে এক গভীর গর্বের অনুভূতি জাগে। এটি ভারতের (India) আত্মার এক শাশ্বত ঘোষণা। এই মহিমান্বিত মন্দিরটি (Somnath Temple) ভারতের পশ্চিম উপকূলে গুজরাটের প্রভাস পত্তন নামক স্থানে অবস্থিত। দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ স্তোত্রে (Dwadasha Jyothirlinga Stotram) ভারতের বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের (12 Jyotirlingas) কথা উল্লেখ আছে। স্তোত্রটি শুরু হয়েছে “সৌরাষ্ট্রে সোমনাথং চ…” দিয়ে, যা প্রথম জ্যোতির্লিঙ্গ হিসেবে সোমনাথের সভ্যতাগত ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বকে প্রতীকায়িত করে। এর অর্থ: শুধুমাত্র সোমনাথ শিবলিঙ্গের (Somnath Shivling) দর্শন করলেই মানুষ পাপমুক্ত হয়, তাঁর সৎ মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয় এবং মৃত্যুর পর স্বর্গ লাভ করে। দুর্ভাগ্যবশত, এই সেই সোমনাথ, যা লক্ষ লক্ষ মানুষের শ্রদ্ধা ও প্রার্থনা আকর্ষণ করত, তা বিদেশি আক্রমণকারীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল, যাদের উদ্দেশ্য ছিল ধ্বংস, ভক্তি নয়।’

সোমনাথ মন্দির-এর ইতিহাস

সোমনাথ মন্দির (Somnath Temple) ভারতের প্রথম জ্যোতির্লিঙ্গ (first Jyotirlinga)। শাস্ত্র বলে, এই মন্দির কেউ প্রতিষ্ঠা করেনি। তা স্বয়ংম্ভূ। ভগবান শিবের অলৌকিক দ্যুতি প্রথম দেখা যায় সোমনাথেই। তাই এটি প্রথম দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ। হাজার বছরের মিথ, অলৌকিকতা, ভক্তি, বিশ্বাস, ঘটনাক্রম– সব মিলিয়ে অনন্য সোমনাথ মন্দির। এটা কোনও দিনই নিছক ধর্মীয় স্থান হিসেবে থেকে যায়নি। তা ভারতের জনজীবনকে নানা ভাবে ছুঁয়ে থেকেছে। স্কন্দপুরাণে এই মন্দিরের বিবরণ আছে। এ এক এমন জায়গা যেখানে ছিলেন স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ। সঙ্গে নিয়ে তাঁর ৫৬ কোটি যদুবংশী।

সোমনাথ মন্দির আক্রমণ

এখন থেকে ঠিক এক হাজার বছর আগে, ১০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে প্রথমবার আক্রান্ত হয়েছিল এই পবিত্র মন্দির। তারপর আরও অনেক বার তা আক্রান্ত হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপ থেকে বারবার জেগে উঠেছে সোমনাথ মন্দির। ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে সোমনাথ মন্দির বারবার ধ্বংস ও পুনর্নির্মিত হয়েছিল। সমসাময়িক বিবরণ অনুসারে, মন্দির রক্ষা করতে গিয়ে প্রায় ৫০,০০০ রক্ষক প্রাণ হারিয়েছিলেন। মামুদ পরবর্তীকালে মন্দিরটি লুণ্ঠন করেন এবং গর্ভগৃহ অপবিত্র করেন, লিঙ্গটিকে টুকরো টুকরো করে ভেঙে ফেলেন। ১২৯৯ খ্রিস্টাব্দে আলাউদ্দিন খিলজির সেনাপতি, ১৩৯৪ খ্রিস্টাব্দে মুজাফফর খান এবং ১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দে মাহমুদ বেগদা এটি আক্রমণ করেন। এত কিছুর পরেও, এটি একটি হিন্দু মন্দির হিসেবেই ছিল, যতক্ষণ না ঔরঙ্গজেব ১৬৬৯ খ্রিস্টাব্দে এটি ভেঙে ফেলার, ১৭০২ খ্রিস্টাব্দে মেরামতের অযোগ্য করে ধ্বংস করার এবং ১৭০৬ খ্রিস্টাব্দে এটিকে মসজিদে রূপান্তরিত করার আদেশ দেন। রানি অহল্যাবাঈ হোলকার, এই পবিত্র ধারাবাহিকতাকে স্বীকৃতি দিয়ে, ১৭৮৩ সালে কাছেই একটি নতুন মন্দির তৈরি করেন। সোমনাথ মন্দির ভারতের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক শক্তির প্রতীক। বিদেশি আক্রমণকারীদের পাশ কাটিয়ে, তাদের সকলকে একপাশে সরিয়ে, সেখানে আছেন ভগবান সোমনাথ, ভগবান শিব, যাঁর পুজো করে গুজরাট উপকূলের সমুদ্রের ঢেউও।

২০২৬ সাল তাৎপর্যপূর্ণ

২০২৬ সালটি সোমনাথ মন্দিরের (Somnath Temple) জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই মহান তীর্থস্থানে প্রথম আক্রমণের এক হাজার বছর পূর্ণ হচ্ছে। ১০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে গজনীর মামুদ এই মন্দির আক্রমণ করেছিলেন, একটি হিংস্র ও বর্বর আক্রমণের মাধ্যমে বিশ্বাস ও সভ্যতার এক মহান প্রতীককে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে। কিন্তু শতাব্দী প্রাচীন সেই আঘাত ভারতের বিশ্বাসকে টলাতে পারেনি। ১৯৫১ সালে সর্দার প্যাটেল এবং কেএম মুন্সীর উদ্যোগে যখন মন্দিরটি পুনর্নির্মিত হয়, তা ছিল আধুনিক ভারতের সাংস্কৃতিক বিজয়ের শুরু। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ। ১০২৬ সালে প্রথমবার আক্রান্ত হয় সোমনাথ মন্দির। ১৯৫১ সালে সোমনাথ মন্দিরের আধুনিকীকরণ করা হয়। ২০০১ সালে সেই আধুনিকীকরণের ৫০ বছর পূর্তি হয়। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী ও লালকৃষ্ণ আদবানি। আর চলতি ২০২৬ সালের ১৯৫১ সালের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের ৭৫ বছর পূর্ণ হবে।

শৌর্য-যাত্রায় প্রধানমন্ত্রী

১১ জানুয়ারি সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি শৌর্য যাত্রায় অংশ নেবেন। সোমনাথ মন্দির রক্ষায় যাঁরা প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের সম্মানে এই আনুষ্ঠানিক শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। শৌর্য যাত্রায় বীরত্ব ও আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে ১০৮টি ঘোড়ার প্রতীকী শোভাযাত্রা থাকবে। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সোমনাথ মন্দিরে প্রার্থনা করবেন এবং ১১টায় সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় অংশ নেবেন। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই পর্বের মাধ্যমে সোমনাথ মন্দির রক্ষায় আত্মত্যাগকারী অসংখ্য ভারতীয় নাগরিককে স্মরণ করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাংস্কৃতিক চেতনাকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share