Assembly Election 2026: ভোট ঘোষণা, রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরাল কমিশন! আজই নয়া দায়িত্বে কারা?

assembly election 2026 ec remove chief and home secretary of west bengal after announcing poll dates

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, সোমবারই রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব পদে দায়িত্ব নিচ্ছেন দুষ্মন্ত নারিওয়ালা। স্বরাষ্ট্রসচিব পদে আসছেন সংঘমিত্রা ঘোষ। এদিন দুপুর ৩টের মধ্যে তাঁদের দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ভোট ঘোষণার (Assembly Election 2026) কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কার্যত নজিরবিহীন পদক্ষেপ করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক স্তরে বদল আনা হয়েছে। মুখ্যসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে নন্দিনী চক্রবর্তীকে। দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকেও। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভোট শেষ না-হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজ করতে পারবেন না তাঁরা।

চেনেন দুষ্মন্ত নারিওয়ালা ও সংঘমিত্রা ঘোষকে

নতুন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সচিব ছিলেন। এছাড়াও তিনি ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর ও কারা দফতরের অতিরিক্ত দায়িত্বে। ১৯৯৩ সালের ব্যাচের আইএএস আধিকারিক তিনি। নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব হলেন সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ ১৯৯৭ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস অফিসার। এত দিন তিনি নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরের প্রধান সচিব ছিলেন।

কেন বদল করা হল

চলতি বছরের প্রথমদিনই রাজ্যের মুখ্যসচিবের দায়িত্ব নিয়েছিলেন নন্দিনী চক্রবর্তী। বাংলার ইতিহাসে তিনিই প্রথম মহিলা মুখ্যসচিব। অন্তত ৮ জন সিনিয়র অফিসারকে এড়িয়ে তাঁকে মুখ্যসচিব করা হয়েছিল। ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় একাধিক নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি তাঁকে দিল্লিতে তলব করেছিল নির্বাচন কমিশন। ১৩ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন ভবনে কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে কড়া সতর্কবার্তার মুখে পড়েছিলেন নন্দিনী। অন্যদিকে, রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনাকে ভিন রাজ্যের (অসম, কেরালা, তামিলনাড়ু ইত্যাদি) বিধানসভা নির্বাচনে ‘কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক’ (Central Observer) হিসেবে নিয়োগ করেছে কমিশন। সাধারণত কোনও রাজ্যের মুখ্যসচিব বা স্বরাষ্ট্রসচিবদের এই ধরনের দায়িত্ব দেওয়া হয় না। শনিবার দিল্লির নির্বাচন সদন থেকে রাজ্যের মুখ্যসচিবের উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কীভাবে প্রশাসনিক স্তরে বড় রদবদল

সূত্রের খবর, সোমবার দুপুর ৩টের মধ্যে নতুন দুই আধিকারিক নিজ নিজ দায়িত্ব গ্রহণ করার পর নির্দেশ কার্যকর করার রিপোর্ট পাঠাতে বলেছে কমিশন। নির্বাচন ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসনিক স্তরে এত বড় রদবদল নিয়ে রাজ্যজুড়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে রবিবার ভোট ঘোষণা হতেই রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হয়ে গিয়েছে। কমিশনের হাতে বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে রাজ্যের আমলা, আধিকারিক, পুলিশকর্তাদের বদলি করার। সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করেই রাজ্যের দুই শীর্ষস্থানীয় আমলাকে সরিয়ে দিল কমিশন।

অতীতে এই ধরনের ঘটনা

অতীতেও বিভিন্ন পুলিশকর্তা এবং সরকারি আধিকারিক বদল করেছে কমিশন। নির্বাচনের আগে পুলিশ সুপার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার বদলেরও নজির রয়েছে। এমনকি স্বরাষ্ট্রসচিব বদলের উদাহরণও আছে। তবে একেবারে মুখ্যসচিব পর্যায়ে পরিবর্তন সাম্প্রতিক সময়ে কবে হয়েছে, মনে করতে পারছেন না কেউই। অতীতে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের সময়ে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্যকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিল কমিশন। ওই সময় কমিশনের অভিযোগ ছিল, অত্রি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এমন কিছু পদক্ষেপ করেছিলেন, যা কমিশনের নির্দেশের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। পুলিশকর্তা রাজীব কুমারকেও ওই বছর লোকসভা ভোটের সময়ে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিল কমিশন। রাজীব তখন ছিলেন সিআইডি-র অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদে। তবে একই সঙ্গে রাজ্যের দুই শীর্ষস্থানীয় আমলাকে সরিয়ে দেওয়াটা সম্ভবত এই প্রথম।

রাজ্য পুলিশের ডিজি পদেও বদলের ইঙ্গিত

কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্য পুলিশের ডিজি পদ থেকে পীযূষ পাণ্ডে ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে সুপ্রতীম সরকারকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। সরকারের শীর্ষ সূত্রে খবর, দুঁদে দুই পুলিশ কর্তাকে এই দুই পদে নিয়োগ করা হবে। এঁদের মধ্যে একজন রাজ্য পুলিশের ডিজি পদের জন্য যোগ্য ছিলেন। কিন্তু নবান্ন তাঁকে ডিজি পদের জন্য বেছে নেয়নি। দ্বিতীয় আইপিএস কর্তাও সৎ এবং একনিষ্ঠ বলে পরিচিত। কিন্তু ক্ষমতার অলিন্দে আলোচনা যে তিনি নবান্নের গুড বুকে ছিলেন না। তাই তাঁকে তুলনামূলক ভাবে লঘু দায়িত্ব দিয়ে রাখা হয়েছিল।

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবরকম পদক্ষেপ

রবিবার ভোটের নির্ঘণ্ট (Assembly Election 2026) ঘোষণার সময় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেছিলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবরকম পদক্ষেপ করা হবে। এই আবহে কমিশন আবার জানতে চেয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় কোন কোন পুলিশ অফিসারের এলাকায় হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। সোমবার সন্ধে ৬টার মধ্যে সেইসব অফিসারদের নামের তালিকা পাঠাতে বলেছে কমিশন। ওই অফিসারদের নামের তালিকা পাওয়ার পর কমিশন কী পদক্ষেপ করে, সেটাই দেখার।

রাজ্যের কবে-কোথায় ভোট

রবিবারই পশ্চিমবঙ্গ সহ ৫ রাজ্যে ভোটের দিনক্ষণ (Assembly Election 2026) ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এবার দু’দফায় ভোট হবে বঙ্গে। প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল। সেদিন মোট ১৫২ আসনে ভোট হবে। দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল, ১৪২ আসনে। ভোটের ফল ঘোষণা হবে ৪ মে। ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হবে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়। দ্বিতীয় দফায় ভোট ১৪২ আসনে। ২৯ এপ্রিলের সেই ভোট হবে। কলকাতা ও তার আশপাশের জেলাগুলিতে। সেগুলি হল, কলকতা, হাওড়া, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share