US: তেহরানের সঙ্গে ভারতের সরাসরি যোগাযোগ ফল দিতে শুরু করেছে, জানালেন জয়শঙ্কর

তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এহেন আবহে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, ভারত ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে (US) এবং এর ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী (Hormuz Strait) দিয়ে জাহাজ চলাচল ফের স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, তেহরানের সঙ্গে ভারতের সরাসরি যোগাযোগ ইতিমধ্যেই ফল দিতে শুরু করেছে। এর ফলে ভারতে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে।

কী বললেন জয়শঙ্কর (US)

সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জয়শঙ্কর বলেন, “বিশ্বে মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেটি ফের খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে ভারত। তাঁর মতে, প্রণালী দিয়ে দু’টি ভারতীয় তেলবাহী জাহাজ নিরাপদে অতিক্রম করতে পারাকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটি ইতিবাচক ফল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।জয়শঙ্কর জানান, বর্তমানে প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রতিটি জাহাজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতিটি জাহাজের যাতায়াত কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “ভারতের এই পদ্ধতি দেখায় যে উত্তেজনাপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও কূটনীতি স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। অন্য দেশগুলিও যদি ইরানের সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা রাখে, তাহলে তারা একই ধরনের কূটনৈতিক মডেল অনুসরণ করতে পারে।”

সমাধান খোঁজাই ভারতের নীতি

তিনি বলেন, “ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষার জন্য ইরানের সঙ্গে অব্যাহত যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ধীরে ধীরে তার ফলও দেখা যাচ্ছে।” যদি আলোচনা ইতিবাচক ফল দিতে থাকে, তবে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও এগিয়ে যাবে বলেই আশা প্রকাশ করেন তিনি। মন্ত্রী এও বলেন, “বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব ফেলতে পারে এমন কোনও সঙ্কটে ভারত নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থাকার পক্ষপাতী নয়। বরং যুক্তিসঙ্গত চিন্তা, যৌথ কূটনীতি এবং সক্রিয় উদ্যোগের মাধ্যমে সমাধান খোঁজাই ভারতের নীতি (US)।” জয়শঙ্কর বলেন, “যদি ভারতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অন্য দেশগুলিকেও একই ধরনের আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে সাহায্য করে, তবে তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও উপকারী হবে (Hormuz Strait)।”

কূটনৈতিক উদ্যোগের ফল

কূটনৈতিক উদ্যোগের ফল হিসেবে তিনি শনিবার দু’টি ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি পরিবহণকারী জাহাজের সফল যাত্রার উদাহরণ দেন। শিবালিক এবং নন্দাদেবী নামের জাহাজ দু’টি প্রায় ৯২,৭১২ মেট্রিক টন এলপিজি ভারতে নিয়ে আসছে এবং এগুলি ভারতের মুন্ড্রা বন্দর ও কান্দলা বন্দরে পৌঁছনোর কথা রয়েছে। জয়শঙ্কর সাফ জানান, প্রণালী দিয়ে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে কোনও সর্বজনীন বা স্থায়ী চুক্তি হয়নি। বরং প্রতিটি জাহাজের চলাচল আলাদাভাবে আলোচনা ও অনুমতির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “নয়াদিল্লির কৌশল হল আলোচনা চালিয়ে যাওয়া এবং সতর্কভাবে জটিল আঞ্চলিক পরিস্থিতির মোকাবিলা করা। প্রতিটি দেশেরই ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক তার নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা ও কৌশলগত অগ্রাধিকারের ওপর নির্ভর করে (US)।

উত্তেজনা কমাতে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারে ভারত

ইউরোপীয় দেশগুলি কি একই ধরনের কাঠামো অনুসরণ করতে পারে, “এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রতিটি দেশের ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক তার নিজস্ব রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। তবে যেসব ইউরোপীয় দেশ তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখে, তাদের সঙ্গে ভারত তার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে প্রস্তুত (Hormuz Strait)।” আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্লেষকেরা, ক্রমেই মূল্যায়ন করছেন যে ভারত আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতার কোনও ঘোষণা করা হয়নি, তবুও ইরানের সঙ্গে ভারতের যে আলোচনা চলছে, তা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডরে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এখন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যে ভারত-সহ বিভিন্ন দেশ কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথে তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে (US)। ক্রিস রাইট মার্কিন সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বলেন, “সম্প্রতি প্রণালী দিয়ে একটি জাহাজ বহর অতিক্রম করার সময় তেহরান গুলি চালায়নি, এটি সম্ভবত নয়াদিল্লির সঙ্গে একটি কূটনৈতিক বোঝাপড়ার ফল হতে পারে (Hormuz Strait)।” হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, আগের রাতে এলপিজি, এলএনজি এবং অপরিশোধিত তেল বহনকারী পাঁচটি ট্যাঙ্কার সফলভাবে ওই পথ অতিক্রম করেছে। রাইটের ভাষায়, “আমরা জানি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সম্ভব। ঝুঁকি তখনই, যখন ইরান গুলি চালায়। গতরাতে একটি কনভয় সেখানে দিয়ে গিয়েছে এবং ইরান গুলি চালায়নি—এর কারণ সম্ভবত ভারত ও ইরানের মধ্যে কোনও সমঝোতা হয়েছে।”

রবিবার তিনি ইঙ্গিত দেন, ভারত ভবিষ্যতে আমেরিকাকে হরমুজ প্রণালীতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক যোগাযোগের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে (US)।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share