Amir Hamza Shot: লাহোরে ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ আততায়ীর গুলিতে ঝাঁঝরা লস্করের সহ প্রতিষ্ঠাতা হামজা

amir hamza lashkar-e-taiba co founder shot outside a news channel office in lahore

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে গুলিবিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার সহ-প্রতিষ্ঠাতা আমির হামজা (Amir Hamza Shot in Lahore)। অজ্ঞাত পরিচয় আততায়ীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। লাহোরে একটি খবরের চ্যানেলের দফতরের বাইরে গুলিবিদ্ধ হয় হামজা। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। আততায়ীদের এখনও শনাক্ত করা যায়নি। লাহোরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে হামজাকে। হাফিজ সইদের সঙ্গে মিলে লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠা করে হামজা। একাধিক নাশকতায় নাম জড়িয়েছে তার। ভারতে জঙ্গি হামলাতেও তার সংযোগ পাওয়া যায়।

কে এই আমির হামজা?

ভারতের কাছে আমির হামজা (Amir Hamza)এক পরিচিত নাম। ১৯৮৭ সালে হাফিজ সইদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সে লস্কর-ই-তৈবা তৈরি করেছিল। ভারতের উপর একাধিক হামলার নেপথ্যেও এই হামজা। এই কুখ্যাত জঙ্গির রয়েছে আফগান যোগও। আশির দশকে আফগান মুজাহিদিনদের দলে লড়াই করেছিল হামজা। ১৯৭৯ সালে আফগান যুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মাধ্যমে জঙ্গি কার্যকলাপে হাতেখড়ি হয় তার। পরে পাকিস্তানে ফিরে এসে সন্ত্রাসবাদে মগজ ধোলাইয়ের কাজ শুরু করে। সে লস্করের প্রকাশনা ‘মাজাল্লা আল-দাওয়া’-র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিল। ২০০২ সালে চরমপন্থী ভাবধারা ছড়িয়ে দিতে ‘কাফিলা দাওয়াত অর শাহাদাত’ নামে একটি বইও লিখেছিল সে। আমেরিকার ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় হামজার নাম রয়েছে। লস্করের কেন্দ্রীয় কমিটিতে থেকে তহবিল সংগ্রহ এবং নতুন জঙ্গি নিয়োগের ক্ষেত্রে সে ছিল মাস্টারমাইন্ড। ২০১২ সালে আমেরিকা হামজাকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসেবে ঘোষণা করে এবং তাকে বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

নতুন জঙ্গি গোষ্ঠী ও কাশ্মীর যোগ

২০১৮ সালে যখন পাকিস্তানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ে, তখন লোকদেখানো হিসেবে লস্কর ও তার শাখা সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয়। সেই সময় লস্কর থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে আমির হামজা ‘জইশ-ই-মনকাফা’ (Jaish-e-Manqafa) নামে একটি নতুন দল গড়ে তোলে। অভিযোগ, এই দলের মাধ্যমে সে কাশ্মীর উপত্যকায় নাশকতামূলক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছিল। ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি, লস্করের মূল নেতৃত্বের সঙ্গে হামজার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং সে অবাধে পাকিস্তানে ঘুরে বেড়াত।

পাকিস্তানে সক্রিয় অজ্ঞাত পরিচয় আততায়ীরা

পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের গুজরানওয়ালার বাসিন্দা হামজা ২০০০ সালের আশপাশে ভারতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ২০০৫ সালে বেঙ্গালুরুতে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সে যে হামলা হয়, তাতে তার হাত ছিল। এর আগে, ২০২৫ সালেও হামজার উপর হামলা হয়। সেবার বাড়িতেই তার উপর হামলা হয় বলে জানা যায়। লস্করের আবু সইফুল্লার মৃত্যুর পর পরই ওই ঘটনা ঘটে। সইফুল্লাকেও গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল অজ্ঞাত পরিচয় আততায়ীরা। এমন পরিস্থিতিতে আবার ‘আননোন গানম্যানের’ প্রসঙ্গ উঠে আসছে। প্রশ্ন পাকিস্তানে আর সেটা হলে আবার খারাপ অবস্থা হবে পাকিস্তানের জঙ্গিদের। আবার কি পাকিস্তানের চিন্তা বাড়িয়ে অ্যাক্টিভ হল ‘আননোন গানম্যান’? আর সেটা যদি সত্যি হয়, তাহলে কিন্তু ইসলামাবাদের কপালে আরও দুঃখ আছে। এর আগেও এই ‘আননোন গানম্যান’ অনেক জঙ্গিকে নিকেশ করেছে। এখন আবার সেই ট্রেন্ড চালু হতে পারে।

কীভাবে হামজার উপর হামলা

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, লাহোরে একটি নিউজ চ্যানেলের অফিসের বাইরে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা হামজাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। আমির হামজার ওপর এই হামলা পাকিস্তানের মাটিতে লস্কর নেতৃত্বের জন্য বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের মাটিতে একের পর এক ভারত-বিরোধী জঙ্গি নেতার রহস্যজনক মৃত্যু বা হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামজার ওপর এই হামলা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ কিনা, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। বর্তমানে হাসপাতাল চত্বর ঘিরে রেখেছে পাক সুরক্ষা বাহিনী। হামলার দায় এখনও পর্যন্ত কোনও গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার হামলার শিকার হয়েছে হামজা। গত বছর মে মাসে লাহোরে তার বাসভবনের বাইরে অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীরা কুখ্যাত জঙ্গিকে গুলি করে। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ ওই জঙ্গির নিরাপত্তা জোরদার করে বলে জানা যায়।

ভয় পাচ্ছে পাকিস্তান! কারা চালাল গুলি? 

পাকিস্তানে গত দুবছরে অজ্ঞাত পরিচয় আততায়ীর হাতে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত বারো জন জেহাদি। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, এরা প্রত্যেকেই ছিল ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড লিস্টে। এই ঘটনায় প্রশ্ন তুলে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে। সেখানে বলা হয়, মোসাদের ধাঁচে ২০১৯ সাল থেকে মোট ২০ জঙ্গিকে নিকেশ করেছে ‘র’। তবে এই অভিযোগ একেবারে উড়িয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। তবে সাম্প্রতিক কালে বিগত কয়েক মাসে পাকিস্তানে একের পর এক লস্কর, জইশ বা খলিস্তানি জঙ্গিদের ওপর একই কায়দায় হামলা হয়েছে। প্রতিবারই নাম জড়িয়েছে সেই রহস্যময় ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ ঘাতকদের। হামজার ওপর এই হামলা কি সেই ধারাবাহিতাকারই অঙ্গ? নাকি কোনও অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব? তা নিয়ে দানা বেঁধেছে রহস্য।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share