মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রাম ছাড়লেন শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরকেই বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ভবানীপুরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারান শুভেন্দু। ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবেই বুধবার শপথ নিলেন তিনি। বিকেলে ভবানীপুরেই রোড শো করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে দেখার জন্য রাস্তার দু’ধারে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ভবানীপুরের রাস্তায় পুষ্পবৃষ্টিতে তাঁকে স্বাগত জানান সাধারণ জনতা। বুধবার বিকেলে চেতলা লক গেট এলাকা থেকে শুরু হয় শুভেন্দুর বিজয় শোভাযাত্রা। শেষ হয় হাজরা মোড়ে। ভবানীপুরের ৭৩, ৭৪ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ড প্রদক্ষিণ করেন তিনি।
আগামী ছয় মাসের মধ্যে উপনির্বাচন নন্দীগ্রামে
এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে রাজনৈতিকভাবে বড় চমক দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে ভবানীপুর উপনির্বাচনে জিতে বিধায়ক পদে ফেরেন মমতা এবং তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। এরপর ২০২৬ সালের নির্বাচনে আবারও নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মমতার পুরোনো আসন ভবানীপুর থেকেও লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ নেন শুভেন্দু এবং দুই কেন্দ্রেই জয়লাভ করেন। এবারে নন্দীগ্রামে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তৃণমূলের পবিত্র কর। শুভেন্দু ভবানীপুর আসন ছেড়ে দেওয়ায় ওই আসনে আগামী ছয় মাসের মধ্যে উপনির্বাচন হবে।
ভবানীপুরে ভোটারদের ধন্যবাদ শুভেন্দুর
ভবানীপুর জয়ের পরে এ বার সেখানকার ভোটারদের ধন্যবাদ জানাতে রোড শো-ও করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিকেলে সুসজ্জিত গাড়িতে করে রোড শো করেন তিনি। এ বারের নির্বাচনে শুরুর থেকেই গোটা রাজ্যের নজর ছিল ভবানীপুরে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছিলেন শুভেন্দু। জয়ের বিষয়ে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি। শেষে ১৫,১০৫ ভোটে মমতাকে পরাস্ত করে শেষ হাসি হাসেন শুভেন্দুই। বিজেপি সূত্রে খবর, ভবানীপুরে জয়ের পরই এই রোড শো করার কথা স্থির করে ফেলেছিলেন শুভেন্দু।
কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমালেন শুভেন্দু
এদিন শপথ গ্রহণের আগেই বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পথ অনুসরণ করে নিজের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছেন তিনি। শুধু মুখ্যমন্ত্রীই নন, এদিন বিধানসভায় বিধায়ক পদে শপথ নিতে বিজেপি বিধায়কদের অনেকেই বাসে করে আসেন। ভবিষ্যতে মন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও একই নীতি কার্যকর হতে পারে বলে সূত্রের খবর। এর আগে বুধবার সকালে বিধানসভায় গিয়েছিলেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথগ্রহণ আগেই হয়ে গিয়েছিল। বুধবার প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় তাঁকে বিধায়ক পদে শপথবাক্য পাঠ করান। প্রথামাফিক মুখ্যমন্ত্রীকে বিধানসভা চত্বরে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। বিআর অম্বেডকরের মূর্তিতে মাল্যদান করেন শুভেন্দু। তার পর বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট ঘরে যান তিনি। সেখানে পুজো দেন। শুভেন্দুর পর শপথ নেন রাজ্য মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যেরা। তার পর অন্য বিধায়কদের শপথগ্রহণ শুরু হয়।

Leave a Reply