মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রথম বার জনগণনা শুরু হচ্ছে ভারতে। শনিবার জনগণনার (Census) প্রথম ধাপ শুরু হবে পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal Census)। রয়েছে সেল্ফ এনুমারেশন বা স্ব-শুমারি প্রক্রিয়া (Digital Census), যাতে নিজেদের তথ্য নিজেরাই নথিবদ্ধ করতে পারবেন নাগরিকেরা। আগামী ১ থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত প্রথম ১৫ দিন স্ব-শুমারির জন্য নির্দিষ্ট করেছে সরকার। এই সময়ের মধ্যে নাগরিকেরা অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। সে জন্য তাঁদের জনগণনা সম্পর্কিত পোর্টাল https://se.census.gov.in-এ লগ ইন করতে হবে প্রথমে। জনগণনার প্রয়োজনীয় যাবতীয় তথ্য সেখানেই পূরণ করা যাবে।
কী ভাবে, কোথায় তথ্য নথিভুক্ত করবেন
সংশ্লিষ্ট পোর্টালে লগ ইনের পর দেখা যাবে রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিকল্প। যিনি যে রাজ্যের বাসিন্দা, তাঁকে সেই রাজ্য ‘সিলেক্ট’ করতে হবে। তার পর দিতে হবে ক্যাপচা (বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা, যা ব্যবহারকারী আসলে মানুষ, না কোনও ক্ষতিকর কম্পিউটার বট, তা যাচাই করতে ব্যবহৃত হয়)। পরের ধাপে বাড়ির কর্তা বা কর্ত্রীর নাম প্রদান করতে হবে। পাশেই থাকবে মোবাইল নম্বর এবং ইমেল আইডি দেওয়ার জায়গা। এটি ঐচ্ছিক। তৃতীয় ধাপে থাকছে ভাষা পছন্দের বিষয়। তাতে ‘ক্লিক’ করার পর ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) যাবে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে। চতুর্থ ধাপে দিতে হবে জেলা, পিন নম্বর, গ্রাম/শহর/এলাকার নাম। ওই ধাপ সম্পূর্ণ হলে একটি মানচিত্র দেখাবে। যা থেকে নিজের বাড়ির অবস্থান দেখাতে পারবেন নাগরিক। ষষ্ঠ ধাপে হাউসলিস্টিংয়ের তথ্য চাওয়া হবে। এই ঘর ও তার ব্যবহার সংক্রান্ত ৩৩টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর জমা দিতে হবে। ৩৩টি প্রশ্নের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যের মধ্যে রয়েছে, বাড়ির ধরন; মেঝে ও দেয়ালে ব্যবহৃত উপকরণ, ঘরের সংখ্যা, মালিকানাধীন বা ভাড়া এবং বাড়ির অবস্থা, বাসিন্দার সংখ্যা, পানীয় জল ও বিদ্যুতের উৎস। প্রদত্ত তথ্য খুঁটিয়ে দেখে নিন, প্রয়োজনে সংশোধন করুন এবং তথ্য সেভ করে রাখুন। যদি কোনও পরিবর্তনের প্রয়োজন না থাকে, তবে নির্ধারিত সময়সীমার আগে তথ্য জমা দিন।সেটি দেওয়ার পর আসবে ‘প্রিভিউ স্ক্রিন’। সব তথ্য ঠিকঠাক দিয়েছেন কি না, মিলিয়ে দেখে নিতে হবে। এর পর শেষ ধাপ— ‘ফাইনাল সাবমিট’। সেখানে ক্লিক করলে এগারো অঙ্কের একটি স্বতন্ত্র নম্বর বা ‘এসই* আইডি’ চলে যাবে সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বর বা ইমেলে। জনগণনার দায়িত্বে থাকা সরকারি আধিকারিকেরা যখন বাড়িতে যাবেন, ওই নম্বরটি তাঁদের দেখাতে হবে। তথ্য যাচাই করার পর নির্দিষ্ট সার্ভারে আপলোড করা হবে।
৩০ লক্ষেরও বেশি কর্মী জড়িত
অনলাইন স্ব-গণনা পর্ব শেষ হওয়ার পর, ১৬ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণনা করা হবে। এই সময়, অবশ্যই অনলাইনে স্ব-গণনা সম্পন্ন করার সময় প্রাপ্ত ১১ সংখ্যার নম্বরটি দেখাতে হবে। অনলাইনে সেল্ফ এনুমারেশন না করলেও, বাড়িতে আসা গণনাকারীর কাছে বিবরণ নথিভুক্ত করা যাবে। ১১ সংখ্যার নম্বরটি হারিয়ে ফেললেও চিন্তা নেই। গণনাকারীরা তা খুঁজে নিয়ে জনগণনার কাজ করতে পারবেন। গণনাকারীদের রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য স্মার্টফোন এবং বিশেষ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। এই বিশাল দেশব্যাপী প্রকল্পে ৩০ লক্ষেরও বেশি কর্মী জড়িত এবং এর আনুমানিক ব্যয় ১১,৭১৮ কোটি টাকা।
জনগণনা দু’টি পর্যায়ে পরিচালিত হবে
এ বারের জনগণনা (Digital Census) দু’টি পর্যায়ে পরিচালিত হবে। প্রথম পর্যায়ে বাড়ি তালিকাভুক্তি ও গৃহগণনা হবে। যেখানে বাড়ির অবস্থা, পরিবারের বৈশিষ্ট্য, পানীয় জল, শৌচাগার, বিদ্যুৎ, রান্নার জ্বালানি, ইন্টারনেট সংযোগের মতো পরিষেবা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। রেডিয়ো, টেলিভিশন, কম্পিউটার, দুই এবং চার চাকার গাড়ির মতো সম্পদের তথ্যও নেওয়া হবে। ১৬ অগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে ওই পর্ব। এই সময়ের মধ্যেই বাড়ি তালিকাভুক্তি ও গৃহগণনার কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে প্রশাসন। তার পর আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায়। তাতে প্রত্যেক পরিবারের সদস্যদের নাম, বয়স, লিঙ্গ, জাতি ও ধর্ম সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে প্রকৃত জনসংখ্যা গণনা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদির শাসনে এই প্রথম জনগণনা
২০১১ সালে শেষবার জনগণনা হয়েছিল দেশে। সাধারণত ১০ বছর অন্তর এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সেই হিসেবে ২০২১ সালে জনগণনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময়ে কোভিড অতিমারীর প্রকোপ থাকায় কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, কচ্ছ থেকে কোহিমা এই বিপুল ভারতে জনগণনার মতো কর্মযজ্ঞ করা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী মোদির শাসনে এই প্রথম জনগণনা হতে চলেছে দেশে। প্রসঙ্গত, ২০২৭ সালের জনগণনার প্রস্তুতি হিসাবে কলকাতা শহরকে মোট ৮,১১২টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি ব্লকে গড়ে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ জন বাসিন্দা থাকছেন। গণনার কাজ সুষ্ঠু ও নির্ভুল ভাবে যাতে সম্পন্ন করা যায়, তার সমস্ত রকম উদ্যোগ এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

Leave a Reply