মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাস (Dallas Gita Event) শহরে অনুষ্ঠিত হল এক ঐতিহাসিক ও ব্যতিক্রমী শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পারায়ণ অনুষ্ঠান। অবধূত দত্ত পীঠমের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী গণপতি সচ্চিদানন্দ স্বামীজি-র (Sri Ganapathy Sachchidananda Swamiji) নেতৃত্বে কিউটেক্স (CUTEX) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার ভক্ত, ছাত্রছাত্রী এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। স্বামীজির যুক্তরাষ্ট্রে আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ১৮টি দেশের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল—হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী স্মৃতি থেকে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ৭০০টি শ্লোক একযোগে আবৃত্তি করেন। পুরো অডিটোরিয়াম ভক্তি, আধ্যাত্মিকতা ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের আবহে মুখর হয়ে ওঠে।
সমগ্র বিশ্বই একটি পরিবার
ডালাসে এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ছিল ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’—অর্থাৎ, ‘সমগ্র বিশ্বই একটি পরিবার’। এই আদর্শকে সামনে রেখেই বিশ্বশান্তি, মানবকল্যাণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তা তুলে ধরা হয়। শ্রী গণপতি সচ্চিদানন্দ স্বামীজি বলেন, “ঈশ্বর ভারতকে আশীর্বাদ করুন, আমেরিকাকে আশীর্বাদ করুন এবং সমগ্র বিশ্বকে আশীর্বাদ করুন।” তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয়দের দায়িত্ব দুই দেশের মধ্যে আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও দৃঢ় করা। অনুষ্ঠানে বিশ্বশান্তির উদ্দেশ্যে বিশেষ প্রার্থনারও আয়োজন করা হয়। স্বামীজি জানান, এই গীতা পারায়ণ প্রতিটি পরিবারের শান্তি, সমাজের কল্যাণ এবং বিশ্বের সমৃদ্ধি ও শান্তির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দেশটি আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিকাশের জন্য অনুকূল পরিবেশ ও সুযোগ করে দিয়েছে। তাঁর আহ্বান, শান্তি, সমৃদ্ধি, স্বাধীনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
মার্কিন মুলুকে নিয়মিত গীতাপাঠ
আমেরিকায় গীতাপাঠ অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং এটি ভারতীয় প্রবাসীদের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের একটি বড় অংশ। টেক্সাসের ডালাসে, শিকাগো বা মিশিগানের মতো শহরে শয়ে শয়ে মানুষের একসঙ্গে গীতা আবৃত্তির মতো বড় ইভেন্ট নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এদিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় স্বামীজির আশীর্বাদ এবং সর্বজনীন শান্তির মন্ত্র ‘লোকাঃ সমস্তাঃ সুখিনো ভবন্তু’ উচ্চারণের মধ্য দিয়ে। যার অর্থ—“সমস্ত বিশ্বের সকল প্রাণী সুখী, সুস্থ ও শান্তিতে থাকুক।”

Leave a Reply