Exclusive Breastfeeding: শুধু শিশুই নয়, মায়েরও বড় সুরক্ষা! প্রথম ছ’মাস শুধু মাতৃদুগ্ধ কেন জরুরি?

world breastfeeding week-who-breastfeeding-guidelines-india-exclusive-feeding

তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

সন্তান জন্মের পরে প্রথম ছ’মাস শুধুই মায়ের দুধ! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই পরামর্শ পৃথিবী জুড়ে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতি ভারতে এই সচেতনতায় বেশ কিছুটা ঘাটতি দেখা গিয়েছে। যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর জন্মের পরের মুহূর্ত থেকে পরবর্তী ছ’মাস স্তন্যপান না করালে, পরবর্তী জীবনে একাধিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কিন্তু ভারতে সম্প্রতি এই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগের। অগাস্ট মাসে স্তন্যপান নিয়ে সচেতনতা কর্মশালা পালন হয়। এ বছরে তাই সুস্থ ও মজবুত আগামী প্রজন্ম গড়ে তুলতে স্তন্যপান করানো কতখানি জরুরি, সে নিয়েই লাগাতার সচেতনতা শিবির এবং কর্মশালার আয়োজন করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

কী বলছে সাম্প্রতিক রিপোর্ট? কেন উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরা?

সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, শহুরে ভারতীয়দের একাংশ, সন্তান জন্মের পরে প্রথম ছ’মাস শুধুমাত্র স্তন্যপান করান না। গত পাঁচ বছরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশ মাফিক জন্মের প্রথম ছ’মাস শুধুই স্তন্যপান করা শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এর প্রভাব আগামী কয়েক বছরে গভীর ভাবে পড়বে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে স্তন্যপান নিয়ে সচেতনতার হার এখনো পর্যাপ্ত নয়। আবার অনেকক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে মায়ের পেশাগত জীবনের ব্যস্ততা। তাঁরা, জানাচ্ছেন, জন্মের পরে মধু বা মিছরির জল নয়, শিশুকে প্রথমেই স্তন্যপান করানো প্রয়োজন। সদ্যোজাতের শরীরে প্রথমেই, মায়ের প্রথম দুধের পৌঁছলে একাধিক দীর্ঘমেয়াদি উপকার হয়। কিন্তু এখনো অনেকক্ষেত্রে শিশুকে প্রথমে মধু, মিছরির জল দেওয়া হয়। সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে!

মাতৃত্বকালীন ছুটির অভাব বড় চ্যালেঞ্জ!

তবে, জন্মের পরের প্রথম ছ’মাস টানা স্তন্যপান করানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মায়ের ছুটির অভাব। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, নতুন মায়ের ছুটি নিয়ে নানান জটিলতা তৈরি করা হয়। মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়া হয় না।‌ এর ফলে মা বাধ্য হয়ে কর্মজীবনে ফিরে যান। কিন্তু সন্তান জন্মের পরের ছ’মাস মায়ের সদ্যোজাতের সঙ্গে কাটানো‌ জরুরি। এই সময়ে শিশু সম্পূর্ণ স্তন্যপান করবে। জল বা অন্য কোনো খাবার খাবে না। তাতেই তার শরীরে একাধিক উপকার হবে। ভারতের আইন মহিলাদের মাতৃত্বকালীন ছুটির অধিকার দিয়েছে। কিন্তু অনেকক্ষেত্রেই অভিযোগ ওঠে, সেই ছুটি মঞ্জুর করা হয় না। ফলে মা কাজের জায়গায় যেতে বাধ্য হন। অনেক সময়েই মা একসঙ্গে সারাদিনের দুধ পাম্প করে রেখে যেতে পারেন না। ফলে শিশু প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত মাতৃদুগ্ধ পায় না। শিশু ঠিকমতো মায়ের দুধ না পেলে আগামী প্রজন্ম একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগবে বলেই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা। তাই উদ্বেগ বাড়ছে!

কেন আগামী মজবুত করতে স্তন্যপান জরুরি?

চলতি বছরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, পৃথিবী জুড়ে চলবে প্রচার কর্মসূচি! যার মূল কথা হলো, আগামী প্রজন্মকে সুস্থ ও মজবুত গড়ে তুলতে স্তন্যপান জরুরি। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, শিশুর শরীরে সম্পূর্ণ পুষ্টি এবং অ্যান্টিবডি গড়ে তুলতে স্তন্যপান সবচেয়ে জরুরি। শিশুকে ঠিকমতো স্তন্যপান করালে তবেই ডায়ারিয়া, নিউমোনিয়া সহ একাধিক সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।
শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে স্তন্যপানের কোনো বিকল্প নেই। জন্মের পরের প্রথম ছ’মাস শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। মায়ের দুধে এমন একাধিক উপাদান থাকে, যা শিশুর মস্তিষ্কের‌‌ বিকাশে বিশেষ সাহায্য করে। তাই আগামী দিনে শিশুর সুন্দর জীবনের জন্য স্তন্যপান অত্যন্ত জরুরি। মা ও শিশুর সম্পর্ক গভীর করতেও স্তন্যপান জরুরি বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, স্তন্যপান করালে মা ও শিশুর মানসিক সম্পর্ক গভীর ও দৃঢ় হয়। তাই স্তন্যপান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সন্তানকে স্তন্যপান করালে মায়ের স্বাস্থ্য লাভ কতখানি?

চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশু জন্মের পরের প্রথম ছ’মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ খেলে দীর্ঘমেয়াদি উপকার হয়। তেমনি, মায়ের শরীরেও দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার চাবিকাঠি স্তন্যপান করানো। তাঁরা জানাচ্ছেন, স্তন্যপান করালে শুধু শিশুর শরীর সুস্থ থাকে এমন নয়, মায়ের শরীর ও ভালো থাকে। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানকে পর্যাপ্ত স্তন্যপান করালে মায়ের আগামী দিনে স্তন ক্যান্সার এবং ডিম্বাশয়, জরায়ুর ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। স্তন্যপান করালে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। ফলে, এই সমস্ত অঙ্গে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত পর্যাপ্ত স্তন্যপান করালে মায়ের প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণ সহজেই বন্ধ হয়ে যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, বহু মায়ের প্রসব পরবর্তী কালে প্রচন্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়। কিন্তু ঠিকমতো স্তন্যপান করালে সেই রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়। প্রসব পরবর্তী কালে মায়ের মানসিক অবসাদ হয়। সেই অবসাদ কমাতে স্তন্যপান সাহায্য করে বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, মায়ের শরীরে নানান হরমোনের পরিবর্তন হয়। ফলে, মানসিক অবসাদ‌ তৈরি হয়। সেই অবসাদ কাটাতে বাড়তি সাহায্য করে স্তন্যপান। তবে, সন্তানকে স্তন্যপান করানোর সময়ে মায়ের যত্ন জরুরি। মায়ের নিয়মিত পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি।‌ মায়ের পর্যাপ্ত জল খাওয়া দরকার। পাশপাশি মায়ের প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিশ্রাম। সেই দিকে পরিবারের খেয়াল রাখার দায়িত্ব রয়েছে। নতুন মা এবং সন্তানের যত্ন যাতে ঠিকমতো হয়, আগামী প্রজন্ম যাতে সুস্থ ও মজবুত হতে পারে, সে নিয়ে সব মহলে সচেতনতা জরুরি।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share