Cough Syrup Side Effects: শিশুর কাশি সারাতে কফ সিরাপ দিচ্ছেন? বিপদ হতে পারে! বলছেন বিশেষজ্ঞরা

children-cold-cough-honey-ginger-tulsi-remedies

তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

ঘন ঘন আবহাওয়ায় পরিবর্তন। কখনো একনাগাড়ে বৃষ্টি, আবার কখনো তীব্র রোদ, গরম! আর এই পরিস্থিতিতে সর্দি-কাশির দাপট বাড়ছে। বিশেষত শিশুদের সমস্যা আরও বেশি। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, বর্ষার এই মরশুমে স্কুল পড়ুয়াদের ভোগান্তি বাড়ে। অনেক সময়েই তাদের বৃষ্টিতে‌ ভিজতে হয়, আবার কখনো তীব্র গরমে ঘামে ভিজে যায়। ফলে নানান ভাইরাস ঘটিত রোগের দাপট বাড়ে। কাশি-সর্দিতে নাজেহাল হয়। কিন্তু, সম্প্রতি, কাশির ওষুধে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, চার বছরের কম বয়সী শিশুদের কোনো রকম কাশির ওষুধ বা কফ সিরাপ দেওয়া যাবে না। চার বছর বয়সের উপরের শিশুদের কফ সিরাপ দেওয়ার ক্ষেত্রে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অবশ্যই জরুরি। তবে অধিকাংশ সময়েই কফ সিরাপ বা কাশির ওষুধ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কেন শিশুকে কাশির ওষুধ দেওয়ায় আপত্তি?

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ক্লোরফেনিরামিন ম্যালিয়েট একটি অ্যান্টিহিস্টামিন গোত্রের ওষুধ যা সর্দি, হাঁচি ও নাক দিয়ে জল পড়া বন্ধ করতে ব্যবহৃত হয়। ফিনাইলেফ্রিন হাইড্রোক্লোরাইড সর্দি কমাতে ও সাইনাসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, এই দুই উপাদান মিশিয়ে যে ওষুধ তৈরি হচ্ছে সেটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শিশুদের জন্য মারাত্মক। একাধিক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই ওষুধ খাওয়ালে শিশুদের তন্দ্রাচ্ছন্নতা, ঘুমের অভ্যাস পাল্টে যাওয়া, খিদে কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, এই ওষুধ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার উপরেও প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘসময় ধরে এমন ওষুধ খেতে থাকলে কিডনির ক্ষতি হতে পারে। সিরাপে ডোজ়ের পরিমাণ যা বলা থাকে, তার চেয়ে বেশি খেয়ে ফেললে শিশুর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ে। নানান শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ওষুধের পরিবর্তে কোন ঘরোয়া উপাদানেই ভরসা বিশেষজ্ঞদের?

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শিশুদের সর্দি-কাশির ভোগান্তি কমাতে কয়েকটি দিকে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। পাশপাশি কিছু ঘরোয়া উপাদানেও উপকার পাওয়া যেতে পারে।

এসি ব্যবহারে বাড়তি নজরদারি!

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, বর্ষার মরশুমে এসির ব্যবহারে রাশ জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, বন্ধ ঘরে এসির ঠাণ্ডা হাওয়া নানান ভাইরাস ঘটিত রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বৃষ্টিতে ভেজার পরে এসি চালিয়ে থাকলে সর্দি-কাশির ভোগান্তি বাড়ার ঝুঁকিও বাড়ে। মরশুমের নানান ভাইরাসের দাপট বাড়তে পারে। তাই বর্ষায় এসি চালিয়ে ঘুমোনো একেবারেই উচিত নয়। কিছুটা সময় এসি চালানোর পরে বন্ধ করে দিতে হবে। তাঁদের পরামর্শ, রাতে এসি চললে অবশ্যই গায়ে চাদর দেওয়া জরুরি। তাহলে সরাসরি কৃত্রিম ঠাণ্ডা হাওয়া লাগবে না।

লবঙ্গ-এলাচ দেওয়া গরম জল!

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বাঙালির রান্নাঘরের পরিচিত একাধিক মশলা সর্দি-কাশি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আর এগুলোর খারাপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তাই নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যেতে পারে। বর্ষার মরশুমে শিশুদের সর্দি-কাশির ভোগান্তি কমাতে লবঙ্গ এবং এলাচ দিয়ে ফোটানো গরম জল এক কাপ দেওয়া যেতে পারে। লবঙ্গ এবং এলাচ একাধিক ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। বিশেষত শ্বাসনালীর সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে বিশেষ সাহায্য করে।

সব্জিতে আদার ব্যবহার বিশেষ উপকারি!

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই মরশুমে সর্দি-কাশির ভোগান্তি কমাতে এবং শ্বাসনালী এবং ফুসফুসে ব্যাকটেরিয়া ঘটিত সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে আদা সবচেয়ে উপকারি।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, আদায় অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে। ফলে, যেকোনো সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।‌ সব্জি বা মাছ, যেকোনো পদ রান্নার সময় উপকরণে আদা বাটা ব্যবহার করলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে।

মধু ও তুলসী পাতার মিশ্রণ!

কাশি ও সর্দি হলে সকালে কয়েকটি তুলসী পাতা বেঁটে তার সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যাবে। বিশেষত কাশি কমাতে বিশেষ সাহায্য করবে। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, যেকোনো সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে তুলসী পাতা। সর্দি-কাশি নিরাময়ে মধু বিশেষ উপকারি। তাই এই দুই উপাদান একসঙ্গে খেলে সর্দি-কাশির সমস্যা কমবে।

DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share