Protest Against Muhammad Yunus: “আপনি সন্ত্রাসবাদী, এখানে কেন এসেছেন?” নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিক্ষোভের মুখে ইউনূস

protest against muhammad yunus confronted by angry bangladeshi expatriates in new York

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল। বাংলাদেশি প্রবাসীদের একাংশ তাঁকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে আক্রমণ করে। তাঁদের অভিযোগ, ইউনূসের আমলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ইউনূসকে লক্ষ্য করে এক বিক্ষোভকারী চিৎকার করে বলছেন, “আপনি সন্ত্রাসবাদী, এখানে কেন এসেছেন? আপনি আমার দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন!” অন্য এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “বাংলাদেশে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছেন।” বিক্ষোভকারীদের কয়েক জনের অভিযোগ, তাঁর আমলে বহু বাংলাদেশি পুলিশকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। বিক্ষোভরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা ইউনূসকে ‘ফিরে যান’ স্লোগান দেন।

ইউনূসের ১৮ মাসের শাসন নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ডেইলি সান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর দোহা থেকে কাতার এয়ারওয়েজের বিমানে নিউইয়র্কে পৌঁছন ইউনূস। বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৮-এ পৌঁছনোর পরই একদল বাংলাদেশি প্রবাসী তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। ভিডিওয় তাঁকে হুইলচেয়ারে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ইউনূসের প্রায় ১৮ মাসের মেয়াদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, যথেচ্ছ গ্রেফতার, সংখ্যালঘুদের উপর ক্রমবর্ধমান হামলা এবং আইনজীবী, রাজনীতিক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক কর্মীদের দীর্ঘদিন আটক রাখার অভিযোগ উঠেছে। ডেইলি সান-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ওই সময়ে কত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, কত জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং কত জনের বিচার হয়েছে, তার প্রকাশ্য নথির অভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক সংস্কার করা। কিন্তু সমালোচকদের দাবি, বাস্তবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পরিবর্তে অনির্বাচিত নাগরিক সমাজের ব্যক্তিত্ব, একটি প্রভাবশালী ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ এবং বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাব বেড়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, এই ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক জবাবদিহি যথেষ্ট ছিল না।

রাষ্ট্রযন্ত্রের রাজনৈতিক ব্যবহার

অন্তর্বর্তী প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা আরেকটি বড় অভিযোগ হল, রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা হয়েছে। ডেইলি সান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমালোচকদের একাংশের দাবি, ওই সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) প্রশাসনের কিছু অংশ ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়েছে। সমালোচকদের মতে, প্রশাসনিক সংস্কার ও সুশাসনের প্রত্যাশা পূরণের পরিবর্তে ওই সময়ে পৃষ্ঠপোষকতা, ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি এবং দুর্নীতি নিয়ে বিতর্ক বেড়েছে। সব মিলিয়ে, নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে ইউনূসকে ঘিরে এই বিক্ষোভ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকলাপ ও তার উত্তরাধিকার নিয়ে চলতে থাকা রাজনৈতিক বিতর্ককে ফের সামনে নিয়ে এসেছে।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share