Muhammad Yunus: হাসিনার পতনের দু’দিন আগেই ইউনুসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল!

muhammad-yunus-chosen-to-lead-bangladesh-before-hasina-ouster

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের দু’দিন আগেই নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসকে (Muhammad Yunus) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বুধবার, ২৮ অক্টোবর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে তিনি এই দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, হাসিনা সরকারের পতন (Hasina Ouster) এবং ইউনুসকে ক্ষমতার শীর্ষে নিয়ে আসার পরিকল্পনা অত্যন্ত গোপনে তৈরি হয়েছিল।

শফিকুলের দাবি, হাসিনার বিদায়ের পর অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ইউনুসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বাংলাদেশের সাংবাদিক কাদারুদ্দিন শিশির। ছাত্রনেতাদের হয়ে ইউনুসকে এই দায়িত্ব গ্রহণের আমন্ত্রণ জানানোর জন্যই শিশিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে তাঁর বক্তব্য।

আলমের কথায়, “হাসিনা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের কাছে পৌঁছতে ছাত্রনেতাদের একজন বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন ছিল। কাদারুদ্দিন শিশির সেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।” তাঁর আরও দাবি, গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে পরিচালনা করা হয়েছিল এবং হাতে গোনা কয়েকজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি ছাড়া কেউই এই পরিকল্পনার কথা জানতেন না।

আলমের বিস্ফোরক দাবি (Muhammad Yunus)

আলমের বক্তব্য, ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী ইউনুসের সঙ্গে ছাত্রনেতাদের প্রাথমিক আলোচনা শুরু করানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন শিশির। হাসিনা দেশ ছাড়ার দু’দিন আগেই এই যোগাযোগ ও আলোচনা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

আলম আরও বলেন, “হাসিনা তখনও দু’দিন ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু গণহত্যা ও অপহরণের অভিযোগে অভিযুক্ত তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এই পরিকল্পনার কোনও খবরই পায়নি। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে শিশির এবং আমাদের পুরো এএফপি দলকে সম্ভবত আয়নাঘরে বন্দি হতে হত।”

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। তার আগে জুলাই মাসে ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের একটি বড় দল প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের দিকে এগিয়ে গেলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী হাসিনাকে জানায়, বিক্ষোভকারীদের আর আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

এরপর হাসিনা পদত্যাগ করেন এবং ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত দেশ ছাড়েন। প্রথমে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে তাঁদের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় (Muhammad Yunus)। পরে সামরিক পরিবহণ বিমানে তাঁরা বাংলাদেশ ছাড়েন। মানবিক কারণে ভারতে আশ্রয় পান হাসিনা।

হিন্দু সংগঠনগুলিকে ‘হাসিনার পোষা কুকুর’ বলেছিলেন আলম

হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসে। বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন এবং সংখ্যালঘু প্রতিনিধিরা একাধিক ঘটনার কথা তুলে ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তবে আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির উদ্বেগকে গুরুত্ব না দিয়ে তাদের শেখ হাসিনা সরকারের “পোষা কুকুর” বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার অভিযোগ এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে তখনও প্রশ্ন উঠছিল।

এর পাশাপাশি, আলম দাবি করেছিলেন, শেখ হাসিনার (Muhammad Yunus) শাসনকালের তুলনায় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশে হিন্দুরা বেশি নিরাপদে রয়েছেন। সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁর এই বক্তব্যও বিতর্কের জন্ম (Hasina Ouster) দিয়েছিল।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share