Bharatiya Janata Party: দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে ভাঙন! বিজেপিতে যোগদান পঞ্চায়েত জনপ্রতিনিধিদের, বঙ্গে আরও শক্তিশালী পদ্ম

cracks appear in trinamools stronghold in south 24 parganas as panchayat representatives defect to the bjp camp trinamool grows even stronger in bengal

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা (South 24 Parganas) জেলা, যা দীর্ঘকাল ধরে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত, সেখানে রাজনৈতিক সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে জেলার একটি বড় অংশের পঞ্চায়েত প্রতিনিধিরা শাসক দল ত্যাগ করে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (Bharatiya Janata Party) যোগদান করেছেন। এদিন বিজেপির কার্যালয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত ছিলেন। তিনি এই যোগদান সম্পর্কে বলেন, “কেউ আমার সঙ্গে, কেউ সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে, কেউ বিপ্লব দেবের সঙ্গে, কেউ শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। আমরা স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে, তাঁদের মতামত নিয়ে স্থির করেছি যে, কাদের দলে স্বাগত জানানো যায়।”

দলবদল করে বিজেপিতে যোগদান (Bharatiya Janata Party)

দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Parganas) বিভিন্ন ব্লকের একাধিক পঞ্চায়েত সদস্য এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পদাধিকারী আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে পদ্ম শিবিরে (Bharatiya Janata Party) নাম লিখিয়েছেন। মূলত সাংগঠনিক স্তরে ক্ষোভ এবং উন্নয়নের নিরিখে মতপার্থক্যের কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে। শুভেন্দু আরও বলেন, যাদের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, দুর্নীতির অভিযোগ নেই এমন ব্যক্তিদেরকেই দলে যোগদান করানো হয়েছে।

যাঁরা যোগদান করলেন…

  • শৈবাল লাহিড়ী— বর্তমান ব্লক প্রেসিডেন্ট (তৃণমূল) ক্যানিং ১ ব্লক, প্রাক্তন সহকারী সভাধিপতি ২০১৩-২০১৮ এবং বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ ২০১৮ থেকে ২০২৩, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ।
  • সিরাজউদ্দিন দেওয়ান— প্রাক্তন উপ-প্রধান
  • প্রতিমা সর্দার—প্রাক্তন প্রধান ২০১৩ থেকে ২০২৩, হাটপুকুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত
  • রফিক শেখ— বর্তমান জয়েন্ট কনভেনর, নিকারীঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েত
  • আসমত মোল্লা— বর্তমান অঞ্চল প্রেসিডেন্ট, গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েত
  • নন্দকিশোর সর্দার— প্রাক্তন প্রধান, গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েত
  • বদরুদ্দোজা শেখ— প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ, ক্যানিং ১ পঞ্চায়েত সমিতি
  • অর্ণব রায়— প্রাক্তন প্রধান, দিঘিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েত
  • সঞ্জয় নস্কর— গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্য।

এঁরা ছাড়াও পদ্ম শিবিরে যোগ দেন— সালাউদ্দিন সর্দার, শম্ভু বৈদ্য, গণেশ মণ্ডল, কালীচরণ সর্দার, মদন নস্কর, বিষ্ণু নস্কর, কার্তিক মণ্ডল, অসিত মণ্ডল, ধনঞ্জয় সাঁপুই, দীপঙ্কর মণ্ডল, মনোরঞ্জন দাস, ফণীভূষণ সর্দার।

বিজেপির সাংগঠনিক বিস্তার

এদিনের যোগদান সভায় বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি যোগদান সম্পর্কে বলেন, “পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা বরাবরই এ রাজ্যের ভোটের প্রবণতা বুঝিয়ে দেয়। পূর্ব মেদিনীপুরে তো আমরা এমনিতেই জিতে রয়েছি। এ বার দক্ষিণ ২৪ পরগনাও বার্তা দেওয়া শুরু করল। গোসাবা ব্লক থেকে তৃণমূল কংগ্রেস শূন্য হয়ে গেল বলতে পারি। গোটা সুন্দরবনে এ বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমরা খাতা খুলতে দেব না। সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ থেকে সাগর পর্যন্ত একটা আসনও তৃণমূল পাবে না। আজ তার সূচনা করলাম।”

এই যোগদানের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিজেপির  (Bharatiya Janata Party) সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি পাবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। বিশেষ করে সুন্দরবন সংলগ্ন এবং ক্যানিং মহকুমার বেশ কিছু এলাকায় তৃণমূলের একচেটিয়া আধিপত্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে এই যোগদানকে ‘মানুষের মোহভঙ্গ’ এবং ‘পরিবর্তনের ইঙ্গিত’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, তৃণমূলের প্রতি আস্থা হারিয়েই নিচুতলার কর্মীরা সরব (Bharatiya Janata Party) হচ্ছেন।

দুর্বল হয়ে পড়বে তৃণমূল কংগ্রেস

শাসক দলের জেলা (South 24 Parganas) নেতৃত্বের মতে, এতে দলের কোনো ক্ষতি হবে না। যারা ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে পারছেন না, তারাই দল ছাড়ছেন। সাধারণ মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের পাশেই আছেন। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের শক্তিক্ষয় তৃণমূলের সাংগঠনিক সংহতির ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share