মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কখনও শুল্ক চাপানোর হুমকি। কখনও আবার পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে ভারতবিরোধী মন্তব্য। প্রায় প্রতি দিনই ‘বিতর্কিত’ বিবৃতি দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Trump-Modi) হু-হু করে কমছে জনপ্রিয়তা। অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এমনই অভিমত, ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়ান ব্রেমার।
কেন ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাঁটা
ইয়ান ব্রেমার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বহু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন— যেমন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের সামরিক অভিযান— কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদী সুফল তিনি নাও পেতে পারেন। তিনি বলছেন, ট্রাম্পের পদক্ষেপগুলি স্বল্পমেয়াদী রাজনৈতিক লাভ এনে দিতে পারে, কিন্তু ভবিষ্যতে তা বদলে যেতে পারে। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে ট্রাম্পের তুলনা করে বলেছেন, মোদি দীর্ঘসময় ধরে জনপ্রিয়তার কারণে দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যা তাঁর সিদ্ধান্তগুলিকে স্থিতিশীল করে তুলেছে। কিন্তু দেশের ভিতরেই ট্রাম্পের বিরোধিতা অনেক বেশি। ট্রাম্পের বয় ৮০ বছর। প্রেসিডেন্ট পদে তাঁর মেয়াদ ২০২৯ পর্যন্ত সীমিত—এবং পরবর্তী কোনও প্রেসিডেন্ট তাঁর অনেক সিদ্ধান্ত বাতিল বা পরিবর্তন করে দিতে পারে। ব্রেমার বলেন, চিনের শি জিনপিং, রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন এবং ভারতের মোদির মতো স্থায়ী নেতৃত্ব নেই মার্কিন নেতৃত্বে, যেখানে প্রতি চার বছর পরপর শাসক পরিবর্তন হয় এবং সেই কারণে অনেক নীতি ও পদক্ষেপ কার্যবসিত হয় না।
ভেনেজুয়েলার তেল, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ
ভেনেজুয়েলাতে তেলের বড় মজুদ থাকলেও সেটি কাজে লাগাতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ প্রয়োজন, বলে মনে করেন ব্রেমার। বর্তমানে দেশটি দৈনিক প্রায় ৮ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে, যা আগের ৩০ লাখ ব্যারেলের তুলনায় অনেক কম। তেলের মতো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগগুলোতে বিশ্বাস থাকতে হয়— তাই মাত্র কয়েক বছর মেয়াদি একজন প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনা তা রূপান্তর করতে সর্বদা যথেষ্ট নয়। ব্রেমার বলেন, “তাই এমন ভাবনা ঠিক নয় যে আমেরিকান কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার সব তেল দখল করে নেবে।”
মোদির জনপ্রিয়তা বেশি
ব্রেমার মনে করেন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকমের কথা বলে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করেছেন ট্রাম্প। দ্বিতীয়ত, তাঁর শুল্কনীতির জেরে ক্ষতি হচ্ছে দেশের তাবড় বড় শিল্পপতিদের। তা ছাড়া বর্ষীয়ান রিপাবলিকান নেতার বিদেশনীতি নিয়েও সেখানকার আমজনতার মধ্যে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। তাঁদের একাংশের দাবি, ‘বন্ধু’দের সঙ্গে শত্রুতা তৈরি করছেন ট্রাম্প। আর ‘সুপার পাওয়ার’ থাকার গর্বে আন্তর্জাতিক স্তরে ধীরে ধীরে একা হচ্ছে আমেরিকা। দেশেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কম ও মেয়াদ সীমাবদ্ধ। ফলে তাঁর অনেক সিদ্ধান্ত পরবর্তী প্রেসিডেন্টের সময় বাতিল বা বদলে যেতে পারে। মোদি দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে দেশে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করেছেন। ভারতে তাঁর স্থিতিশীলতা ধরে রেখেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে নেই।

Leave a Reply